প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

অতিবৃষ্টিতে ব্যাহত চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ব্যাহত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম। ফলে একদিকে বন্দরে জাহাজ জট ও কনটেইনার জট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কমছে বন্দরের সক্ষমতা। অপরদিকে সময়মতো পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করতে না পারায় আমদানি ও রফতানিকারকদের আর্থিক লোকসান বাড়ছে, যা কস্ট ডুয়িং অব বিজনেস বৃদ্ধি করছে। এতে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও ডেলিভারি হচ্ছে। বন্দরের পরিবহন বিভাগের হিসাব অনুসারে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি ও রফতানিবাহী পাঁচ হাজার ৩৪৭টি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়, যা আগের দিন ছিল সাত হাজার ৩৯টি কনটেইনার। আর গত পহেলা জুলাইয়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় ৯ হাজার ২৯৯টি। অপরদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খালাসযোগ্য জাহাজের খালাস প্রক্রিয়া চলে ৪৪টি, যা আগের দিন ছিল ৩১টি। আর বৃহস্পতিবার খালাস অযোগ্য, অর্থাৎ অলস জাহাজ বসে ছিল ৫৩টি, যা আগের দিন ছিল ৬৩টি। যদিও গত পহেলা জুলাইয়ে খালাস প্রক্রিয়ায় জাহাজ ছিল ৪৭টি। একই সময়ে খালাস অযোগ্য জাহাজ ছিল ৫৩টি ও ৩০ জুন ছিল ৩২টি।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার ধারণ সক্ষমতা আছে প্রায় ৪৯ হাজারটি। অথচ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ইয়ার্ডে কনটেইনার ছিল ৪৪ হাজার ৪৪৭টি, যা আগের দিন ছিল ৪৪ হাজার ২৬১টি। আর ৯ জুন বেলা ১১টার সময়ে ছিল ৪৩ হাজার ৩১৭টি। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে ইয়ার্ডে কনটেইনার বেড়েছে এক হাজার ১৩০টি। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ের মতো কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলে কনটেইনার জট সৃষ্টি হতো না, বরং তিন দিনে প্রায় ২০ হাজার কনটেইনার কম থাকত। পাশাপাশি বন্দরের জাহাজ জট সৃষ্টি হতো না।
আমদানিকারক ও রফতানিকাররা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। গত রমজান মাস থেকে বন্দরের জাহাজের গড় অবস্থান বেড়েছে। আর এখন অতিবৃষ্টির কারণে কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ খালাস করা যাচ্ছে না। এতে সময়মতো পণ্য ডেলিভারি পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে রফতানি পণ্যও জাহাজীকরণ করা যাচ্ছে না। এতে বাড়ছে ব্যবসায়িক ব্যয়। ফলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে যেতে হচ্ছে। এভাবে আমরা আর কত লোকসান দেব।
এ বিষয়ে চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী শেয়ার বিজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমাদের আমদানি করা পণ্য পেতে অনেক দেরি হচ্ছে। সামনে ঈদুল আজহা। এভাবে চলতে থাকলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বলা হয়েছে, বন্দর থেকে প্রতিদিনের কনটেইনার ডেলিভারি বা সরবরাহ ধীরগতি হওয়ায় কনটেইরারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের পণ্য সরবরাহ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। এজন্য কাস্টমস ও বন্দরের সেবা কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে বলেও জানানো হয়। এছাড়া কনটেইনার গ্রহণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে চার দিন ফ্রি সুবিধার পরে বর্ধিত হারে চার্জ আরোপ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ শেয়ার বিজকে বলেন, বর্ষাকালে স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে জট হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের ইয়ার্ডে কনটেইনার রাখার সক্ষমতা ৫৫ হাজার। আর বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও আসলে বড় কোনো সংকট তৈরি হবে না। আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য ইক্যুপমেন্ট সংগ্রহ এবং ইয়ার্ড ও টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে।
উল্লেখ্য, দেশের আমদানি-রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পাদিত হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম দিয়ে বাড়ছে আমদানি-রফতানি। প্রতি বছর এ বন্দরের জাহাজ, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং বাড়ছে। ২০১৮ সালে এ বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডলিং ছিল তিন হাজার ৭৪৭টি, যা আগের বছর ছিল তিন হাজার ৩৭০টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস বেড়েছে ৩৭৭টি। আর ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ছিল ২৯ লাখ তিন হাজার টিইইউএস, যা আগের বছর ছিল ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টিইইউএস। আর ২০১৮ সালে সাধারণ কার্গো হ্যান্ডলিং ছিল ৯ কোটি ৬৩ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয় ১১ শতাংশ, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ৯ শতাংশ এবং কার্গোতে প্রায় ১৩ শতাংশ।

সর্বশেষ..