ধারাবাহিক

অধিগ্রহণ নীতি

মিজানুর রহমান শেলী: কয়েক বছর আগের কথা। টাইম ম্যাগাজিনের সঙ্গে কথোপকথন চলছিল। পিটার ড্রাকার ছিলেন এই আলাপের মধ্যমণি। তিনি বলেন: ‘আমি আপনাদের একটি গোপন কথা শোনাব আজ। নতুন নতুন লেনদেন উদয় করতে পারলেই কাজের ঘণ্টা বাজতে থাকে। তাই লেনদেনের হালে বাতাস লাগানো মানেই হলো একটি উত্তেজনা এবং এটা অবশ্যই মজার ব্যাপার নিশ্চয়। আর এটা যেন সবকিছু লুফে নিয়ে কাজ করতে থাকে। সবকিছু একটি এলোমেলো দশায় চলতে থাকে। যে কোনো কিছু প্রথম দিকে পরিচালনার মানেই হলো কাজের যাবতীয় কিছু অগণিত সংখ্যায় লুফে নিয়ে শুরু করা, সেক্ষেত্রে নোংড়া পরিবেশ তৈরি হয়ে যায়… কিন্তু লেনদেন তৈরি করার কাজটি ডাশ এমন নয়। এটা অনেক বেশি রোমাঞ্চকর ও উত্তেজক। এ কারণেই আপনি অনেক লেনদেন পেয়ে যাবেন, যাতে কোনো অনুভূডু বা চেতনা কাজ করবে না। অনেকটা হতবুদ্ধ বলে মনে হবে।’
এবার অধিগ্রহণের কথায় আসা যাক। এটা আরেক ভিন্ন স্বাদ এনে দেয়। এখানে বাড়ন্ত কিছু সুবিধাদি থাকে। মূল্য পরিশোধের কথায় আসা যাক: আমরা যে কোনো বিক্রেতাকে একটি স্টকের প্রস্তাবনা দিতে পারি যেটা ক্যাশের পাশাপাশি তাদের জন্য স্থির থাকবে। এমনকি সেই স্টকটি নিশ্চয় কোনো যেনতেন বা অতি সাধারণ ব্যবসায় স্টক নয়। খুবই চমৎকার একটি ব্যবসার অনন্য কিছু সংগ্রহ এখানে স্থির থাকে। যে কোনো ব্যক্তি কিংবা কোনো পরিবার যারা একটি চমৎকার ব্যবসায় কাঠামোর উদ্বোধন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এমনকি দারুণভাবে আশাবাদী, তবুও তারা ব্যক্তিগত কর পরিশোধের বেলায় দীর্ঘসূত্রতা করেই চলে। এমনকি কবে ঠিক তারা তাদের কর পরিশোধ করবেন এবারে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারে না, নিজেদেরও এবারে কোনো সিদ্ধান্ত থাকে না, তাদের জন্য বার্কশায়ার খুব ভালো একটি জায়গা। তারা বার্কশায়ারকে যুতসই মনে করে। তাই একটি স্বাচ্ছন্দ্যময় হোল্ডিং খুঁজে নিয়ে এই বার্কশায়ারে তারা তাদের স্থান করে নিতে চায়। মূলত আমি বিশ্বাস করি, গাণিতিক ক্যালকুলাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে অধিগ্রহণের দুই পক্ষের মাঝে। আর এই কারণে আমরা ১৯৯৫ সালে আমাদের শেয়ার পরিশোধ করে নিয়েছি।
এসবের পেছনে বিক্রেতারা তাদের কোম্পানিকে একটি করপোরেট পরিবারের মধ্যে স্থাপন করিয়ে দিতে চেষ্টা চালিয়ে থাকে। তারা এ কাজটি মাঝে মধ্যেই করে থাকে। এটা তাদের যেমন কাজে সচেষ্ট করে তোলে, তেমনি তারা সন্তুষ্টিতে হƒদয় পূর্ণ করে নেয়। তারা তাদের ব্যবস্থাপকদের জন্য একটি ভালো কাজের পরিবেশ তৈরি করার কাজেও নিয়ত ব্যস্ত থাকে। এখানে আবারও বলতে হয়, বার্কশায়ার এক্ষেত্রেও কিছু বিশেষ প্রস্তাবনা দিয়ে থাকে। আমাদের ব্যবস্থাপকরা কিছু অনন্য সাধারণ স্বশাসন চালিয়ে থাকেন। উপরন্তু আমাদের মালিকানা কাঠামো আমাদের বিক্রেতাদের এই বিষয়ে জানার পরিপূর্ণ সুযোগ দিয়ে থাকে, কখন আমি বলি যে, আমরা স্থান ধরে রাখার জন্য বিক্রির দিকে ছুটছি। এখানে প্রতিশ্রুতি কোনো ছেলেখালা নয়। প্রতিশ্রুতির বিশেষ অর্থ ও তাৎপর্য রয়েছে। আমাদের জায়গা থেকে বলা যায় যে, আমরা মালিকদের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করি। তবে সেসব মালিকদের সঙ্গেই কাজ করতে পছন্দ করে থাকি যেসব মালিক তার কোম্পানি এবং জনগণের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে চিন্তা করে। এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে। একজন ক্রেতা সম্ভবত কিছু অসন্তোষজনক অবাক করা লেনদেনকারী বিক্রেতার সঙ্গে লেনদেন করতে পছন্দ করে থাকে যতটা তার চেয়ে বেশি পছন্দ করে থাকে সেসব বিক্রেতার সঙ্গে লেনদেন করতে, যারা তাদের ব্যবসাকে খুব সাধারণভাবেই নিলামে তুলে থাকে। এর সঙ্গে আরও বলা যায়, যা কিছু অগ্রবর্তী তার সবকিছুই আমাদের অধিগ্রহণের সঙ্গেই ব্যবচ্ছেদ করা হয়ে থাকে। হ্যাঁ এটা অবশ্যই কোনো লোকানো বিক্রয় কৌশল নয়। যদি আপনি কোনো ব্যবসার মালিক হয়ে থাকেন কিংবা কোনো ব্যবসাকে আপনি উপস্থাপন করে চলেছেন, যে ব্যবসা থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার লভ্যাংশ আসে কিংবা তার চেয়ে বেশি ট্যাক্স পরিশোধের আগেই, তাছাড়া এই ব্যবসাটি উপরে উল্লিখিত শর্ত বা বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায় সেক্ষেত্রে আপনি নিশ্চিন্তে আমাকে একটি কল করবেন। আমাদের আলোচনা হবে শর্তসাপেক্ষ। কিন্তু এমনও হতে পারে যে, আপনি এ বিষয়ে আদতে কোনো ইচ্ছা পোষণ করেন না। তবে আপনার যাবতীয় ফাইল আপনার মনের কোনো এক কোনায় সযতনে লুকিয়ে রাখতে পারেন। তবে কোনোভাবেই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমরা আমাদের পথেই চলতে থাকব। আমরা সবসময়ই এমন কোনো কোম্পানিকেই অধিগ্রহণ করার চেষ্টা করতে থাকব যে কোম্পানির ভালো অর্থনৈতিক চরিত্র রয়েছে। এমনকি তার ব্যবস্থাপনাকে এক কথায় চমৎকার বলতেই হয়। এই শর্তের কথা আমি এর আগেও উল্লেখ করেছি। কার্যত আমরা এই পথ থেকে কখনোই সরে আসব না। এ জন্যই এ বিষয়টিকে বারবার গুরুত্বের সঙ্গেই আমি উল্লেখ করছি। এটা নিশ্চয় বাহুল্য হতে পারে না। এই দুটি শর্ত ঠিকঠাক থাকলে মনে রাখবেন সেই কোম্পানির প্রতি আমাদের ক্ষুধা রয়েছে। এই ক্ষুধা থেকে আমরা কখনও ফিরে আসব না। যাহোক, আমরা এখানে অধিগ্রহণ নীতি বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারি। কার্যত গত বছর একজন করপোরেট নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে একটি গল্প বলেছিল। সেই গল্পটি যদি তিনি এ বছরে আবারও বলতে আসেন, তবে আমি তাকে কোনোভাবেই তাকে বাধা দিতে পারি না। তিনি তার ব্যবসাটিকে দাঁড় করিয়েছেন এবং খুবই চমৎকারভাবে তার অগ্রগতি ধেয়ে চলেছে। এই কোম্পানিতে তার একটি দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি এটা খুব ভালোভাবেই পরিচালনা করেছেন। উপভোগ করেছেন এবং সফল হয়েছেন। কিন্তু এই কোম্পানির প্রধান যে পণ্যটি ব্যবসাটিকে অনেক বেশি সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে পারত সেই ব্যবসাটি আদতে তা করতে সক্ষম হয়নি। এটাই হলো তার ব্যবসায় পরিচালনার সবচেয়ে বড় দুঃখ। তাই কয়েক দশক আগেই এই কোম্পানি একজন বিশেষজ্ঞ জোগাড় করে নিয়ে এসেছিল। যেন তার ভালো পরামর্শে এবং নির্দেশনায় কোম্পানি ও তার পণ্যের উন্নয়ন সাধিত হয়। সেই বিশেষজ্ঞ খুব সাধারণভাবেই পণ্যেরই বৈচিত্র্য আনায়নের ব্যাপারে অনেক ভালো ভালো পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার প্রস্তাবনায় এখন অবধি তেমন কোনো ভালো ফল আসেনি। তিনি আসলে এই পণ্যের বাহ্যিক চমৎকারিত্ব নিয়ে কোনো কাজ করেননি। তার উপস্থাপনাটি কোনোভাবেই ভালো ছিল না। এটাকে কোনোভাবেই প্রশংসা করা চলে না। পণ্যের স্টাইল নিয়ে তিনি কোনো কাজই করেননি। এর বহু আগে এ কোম্পানি বহু সংখ্যক ব্যবসা অধিগ্রহণ করেছিল। এর সবগুলোর নথিপত্র ঘেঁটেঘুঁটে দেখা গেছে, তারা সবসময়েই অনেক ব্যয়বহুল কোম্পানি খরিদ করেছিল। কিন্তু এর ফল কী হলো? এর জবাব দিলেন ওই কর্মকর্তা খুবই দুঃখের সঙ্গে। ‘যখন আমরা শুরু করেছিলাম, তখন আমরা আমাদের শত ভাগই পেতাম মূল ব্যবসা থেকে। কিন্তু ১০ বছর পরে আমরা এখন পাচ্ছি ১৫০ শতাংশ!’

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম।
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ।

সর্বশেষ..