অনলাইন পেমেন্টের ব্যবহার বাড়াতে উদ্যোগী হোন

‘ই-কমার্স পেমেন্টের মাত্র ৫ শতাংশ অনলাইনে’ শিরোনামে যে খবর ছাপা হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা আমাদের চিন্তিত না করে পারে না। প্রতিবেদক জানাচ্ছেন, ই-কমার্স লেনদেনের জন্য বেশকিছু ব্যাংক অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস চালু করে রাখলেও সেগুলো ব্যবহারে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অথচ স্থানীয় ই-কমার্স সাইটগুলোর সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) তথ্য মতে, দেশে কমপক্ষে ১ হাজার ২৫০টি ই-কমার্স সাইট চলছে যেগুলোর জনপ্রিয়তম লেনদেন মাধ্যম হচ্ছে নগদ অর্থ! আর এর পরিমাণ যদি হিসাব করা হয়, তা মোটেও নগণ্য নয়। ই-কমার্সের মাধ্যমে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ নাকি ৪০ লাখ টাকার কম নয়। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ লেনদেন হয় নগদ অর্থে; মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ শতাংশ, এটিএম কার্ডে ২ এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মাত্র ১ শতাংশ। কথা হলো, ই-কমার্স সাইটগুলোরই যদি এমন অবস্থা হয়Ñসর্বোপরি অনলাইন পেমেন্টের কী অবস্থা, তা সহজে অনুমেয়। এদিকে সরকারসহ আমরা সবাই চাইছি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে। সেই রূপকল্পের পথে কাজ এগোয়নি, এটা নিন্দুকও বলবে না। আবার ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রক্রিয়াটি সহজীকরণ। আর এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে অনলাইন পেমেন্ট বৃদ্ধি। সুতরাং সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখা দরকার, ঠিক কী কারণে গ্রাহকরা আগ্রহী হতে পারছেন না এর প্রতি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি এ ব্যাপারে মত দিয়েছেন আমাদের কাছে। তার সারাংশ হচ্ছে, যেহেতু গ্রাহকরা পণ্যটি হাতে না পেয়ে অর্থ পরিশোধ করতে চান না, সেহেতু লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে নগদ অর্থই তাদের প্রথম পছন্দ। আমরা যুক্তিটি অগ্রাহ্য করছি না। কিন্তু তার সঙ্গে আরও কিছু সম্ভাব্য কারণের উল্লেখ করছি, যেগুলো নিদেনপক্ষে যাচাই করা উচিত। প্রশ্ন হলো, দেশে অনলাইন পেমেন্টের নিরাপত্তা কতটুকু? প্রক্রিয়াটিতে কি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে? উভয় ক্ষেত্রেই বলিষ্ঠ হ্যাঁ-বাচক জবাব পাওয়া কঠিন। এটিএম-এর মতো তুলনামূলকভাবে অধিক নিরাপদ আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা নিয়েও কথা উঠেছিল কিছুদিন আগে। তার কিয়দংশ আস্থাও কি সৃষ্টি করা গেছে অনলাইন পেমেন্ট সেবায়? অতীতে অনেকে যুক্তি দেখাতেন ইন্টারনেটের গতি ধীর, পর্যাপ্ত ডিজিটাল অবকাঠামো নেই ইত্যাদি। সেসব যুক্তি  পুনরায় তুলে ধরা হলে অনেকেই তা মানতে চাইবেন না হয়তো। আবার একটি সেবা জনপ্রিয় করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে একত্রে এগিয়ে আসতে হয়। অনলাইন পেমেন্টের বেলায় তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে কি? লক্ষণীয়, কিছু ব্যাংক সেবাটি চালু করে দ্বিধায় পড়েছে; অন্যরা প্রচলিত মুনাফা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকছে। অথচ এ ক্ষেত্রে দরকার ছিল সবার একযোগে এগিয়ে আসা। গ্রাহকদের অভিরুচি এ ক্ষেত্রে একটা বাধা, তা হয়তো ঠিক। কিন্তু মাধ্যমটিকে জনপ্রিয় করে তোলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যে দায়িত্ব ছিল, সেটিও কি পালিত হয়েছে যথাযথভাবে?