কোম্পানি সংবাদ

অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ ঘোষণা গ্রামীণফোনের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন, ২০১৯ পর্যন্ত অর্ধবার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব শেষে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৯০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, কোম্পানিটি পরিশোধিত মূলধনের ৯০ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা ছয় মাসের কর-পরবর্তী মুনাফার ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১০ টাকা মূল্যের প্রতি শেয়ারে ৯ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এজন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ আগস্ট।
কোম্পানিটি জানায়, চলতি বছরের অর্ধবার্ষিকে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নিরীক্ষিত হিসাব শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৩ টাকা ৩৭ পয়সা, যা এর আগের বছর একই সময়ে ছিল ১২ টাকা ১০ পয়সা। এদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন, ২০১৯) শেয়ারপ্রতি আয় হয় সাক টাকা ০৭ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে হয়েছিল সাত টাকা ৭০ পয়সা। ৩০ জুন, ২০১৯ শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ১৫ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২৭ টাকা ২৮ পয়সা। এজন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে রেকর্ড ডেটের আগে শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর আপডেট করার অনুরোধ জানিয়েছে।
গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে কোনো মূল্যসীমা আরোপিত ছিল না। গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির তিন লাখ ৭৪ হাজার ৫১১টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৩১৬ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হয় মোট ১২ কোটি ৩২ লাখ ১৫ হাজার টাকার। লেনদেনের শীর্ষে উঠে এলেও গতকাল গ্রামীণফোনের শেয়ারদর পাঁচ দশমিক ৮৬ শতাংশ বা ২০ টাকা ২০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৩২৪ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩২৪ টাকা ৪০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৪৪ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৪১৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৩২২ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠানামা করে।
এদিকে সবশেষ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি অন্তর্বর্তীকালীনসহ সর্বমোট ২৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ২৬ টাকা ০৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৩১ টাকা ৩৮ পয়সায়। ওই বছর মুনাফা করেছে তিন হাজার ৫১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০১৭ সালে ইপিএস ছিল ২০ টাকা ৩১ পয়সা। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ২৬ টাকা ০১ পয়সা। মুনাফা করেছে দুই হাজার ৭৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে সর্বমোট ২০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।
কোম্পানিটি ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। চার হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ দুই হাজার ১২৩ কোটি ২৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ১৩৫ কোটি তিন লাখ ২২টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৯০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক তিন দশমিক ৯৩ শতাংশ, বিদেশি তিন দশমিক ৯৮ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে দুই দশমিক ০৯ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে পিই অনুপাত ১২ দশমিক ৪৬ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১২ দশমিক ২৭।

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */