অবৈধ ফোনসেটের ভবিষ্যৎ দ্রুত নির্ধারণ করুন

বিদেশ থেকে বিভিন্নভাবে নিয়ে আসা অবৈধ এক লাখেরও বেশি মোবাইল ফোনসেট আটক রয়েছে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস ওয়্যারহাউজে। এগুলো আটক করা হয়েছে সাত বছরে। এসব ফোনসেটের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এগুলো কাস্টমস থেকে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বস্তুত অবৈধ এসব হ্যান্ডসেট আটক করা হয় শুল্ক ফাঁকি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার যুক্তিতে। কাস্টমস গুদামে আটক থাকার ফলে নিরাপত্তার দিকটির সুরক্ষা হলেও সেখান থেকে কিন্তু শুল্ক পাওয়া যাচ্ছে না। এসব ফোনসেটের আইএমইআই নম্বর নিবন্ধনও অসম্ভব নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াটি সম্পন্নপূর্বক সেটগুলো নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিতে পারে কর্তৃপক্ষ। তাহলে এগুলো আনার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা হয়েছিল, তার কিছুটা হলেও উদ্ধার করা যাবে।

মোবাইল ফোনসেটের আয়ুষ্কাল নির্দিষ্ট। সিদ্ধান্তহীনতার কারণে গুদামে দীর্ঘকাল ফেলে রাখা হলে সেগুলোর কোনো কোনোটির আয়ুষ্কালও শেষ হয়ে যাবে। তখন নিলামে তুলেও সেগুলো বিক্রি করা কঠিন হতে পারে। এজন্য কর্তৃপক্ষের উচিত হবে আইএমইআই নম্বরবিহীন সেটের দ্রুত নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা। আয়ুষ্কাল এরই মধ্যে শেষ হওয়ায় কোনো কোনো সেটের নিলামগ্রহীতা নাও পাওয়া যেতে পারে। এগুলোর ব্যাপারেও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। গত কয়েক বছরে মোবাইল ফোন প্রযুক্তির ব্যাপক উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে। এ অবস্থায় সাত বছর আগে যেসব ফোনসেট আটক হয়, বাজারে সেগুলোর ক্রেতা পাওয়া নিয়েও আছে প্রশ্ন। এজন্য নিলামগ্রহীতাদেরও উচিত হবে ব্যবসায়িক দিক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

মোবাইল ফোন এখন সর্বজন ব্যবহƒত পণ্য। দেশে খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে, যার হাতে এটি নেই। অন্যদিকে এ প্রযুক্তির সুবিধাগুলো হালনাগাদ হচ্ছে দ্রুত। প্রয়োজনের তাগিদে মানুষও আকৃষ্ট হচ্ছে হালনাগাদ সুবিধাসংবলিত সেটের প্রতি। যেহেতু অবৈধভাবে আনা মোবাইল ফোনসেট জব্দ করা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিয়মিত দায়িত্ব, সেহেতু তাদের উচিত হবে নিয়মিত বিরতিতে এগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ব্যবস্থা করা। এ লক্ষ্যে একটি নীতিমালা কী প্রণয়ন করা যেতে পারে না? আমরা মনে করি, সেটি দ্রুত করা দরকার। তাহলে জব্দ করা সেট নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকেও অস্পষ্টতায় থাকতে হবে না। অবৈধভাবে আনা ফোনসেট বিমানবন্দরে জব্দের খবর মিডিয়ায় লক্ষ করা যায় মাঝেমধ্যেই। আমদানিনীতিতে অনুমোদন দেওয়া থাকলেও সংশ্লিষ্টরা এটি আনার ক্ষেত্রে কেন কর ফাঁকির চেষ্টা করেন, সেটাও প্রশ্ন। এর বিদ্যমান শুল্ক ব্যবসায়ীদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক কি না, সেটিও ভেবে দেখতে পারে কর্তৃপক্ষ।

বিদেশ থেকে অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনসেট নিয়ে আসার প্রচলিত বিধান সংশোধন করা হয়েছে সম্প্রতি। ব্যক্তি পর্যায়ে হ্যান্ডসেট আনার সংখ্যা উন্নীত করা হয়েছে পাঁচ থেকে আটে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি আনা যাবে বিনাশুল্কে; বাকিগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে বিদ্যমান শুল্কবিধি। বিটিআরসি সচিব বলেছেন, যাত্রীভোগান্তি কমাতেই নেওয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত। ব্যক্তি পর্যায়ে আনার ক্ষেত্রে সেটসংখ্যা বাড়ানো হলেও শুল্কে কিন্তু কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। সংশোধিত এ নিয়ম অবৈধভাবে হ্যান্ডসেট আনা ঠেকাতে কতটা কার্যকর হবেÑতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। শুল্ক ফাঁকি রোধই যেহেতু কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য, সেহেতু তাদের উচিত হবে অন্তত ব্যক্তিগতভাবে ও অবাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আনা ফোনসেটের শুল্কহার এমনভাবে নির্ধারণ করা, যাতে মানুষ এটি ফাঁকি দেওয়ার তাগিদ অনুভব না করে।