অবৈধ ভিওআইপির শীর্ষে টেলিটক ও এয়ারটেল

হামিদুর রহমান: নিরাপত্তা জোরদার ও বিভিন্ন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে দেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশন চালু হলেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ সিম বিক্রি। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সিম সংগ্রহ করে পরিচালিত হচ্ছে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা। গত এক বছরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) ১৯টি অভিযান পরিচালনা করে নানা রকম সরঞ্জামসহ দেশের বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের ৩৩ হাজারেরও বেশি সিম জব্দ করেেেছ। অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহৃত সিমের শীর্ষে রয়েছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এয়ারটেল।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ভিওআইপিতে জব্দকৃত মোট সিমের সংখ্যা হচ্ছে ৩৩ হাজার ১১৫টি। এর মধ্যে টেলিটকের ২৪ হাজার ৫৯০টি, এয়ারটেলের চার হাজার ৬১৬টি, রবি আজিয়াটার এক হাজার ৩৩৩টি, গ্রামীণফোনের এক হাজার ২৭৫টি সিম, বাংলালিংকের এক হাজার ৩৬টি, র‌্যাংগসটেলের ২৩৮টি ও সিটিসেলের ২৭টি সিম রয়েছে।

অবৈধ সিম প্রসঙ্গে টেলিটকের কোম্পানি সচিব শামসুদ জোহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকে সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘সরকারের অনেক টাকা ব্যয়ে দেশে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন চালু করা হয়েছে। এর পরেও যারা অবৈধভাবে সিম বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়াই তা প্রতিহত করা হবে। আইনের দৃষ্টিতে সব অপারেটর সমান। সুতরাং যে অপারেটরই হোক না কেন অবৈধ কাজে জড়িত থাকলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে বিপুলহারে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। সেই সঙ্গে প্রযুক্তিতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধও বাড়ছে। ফলে এসব অবৈধ সিমের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় পর্যায়ক্রমে এসব অপরাধ বাড়বে। দেশ ও ব্যক্তির নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তবুও তা বন্ধ হচ্ছে না। বড় ধরনের শাস্তির মাধ্যমে বিষয়গুলোকে মোকাবিলা করতে হবে।

তারা জানান, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর কারণে দেশের এমন ক্ষতি প্রত্যাশিত নয়। যারা অবৈধভাবে দেশে ভিওআইপি ব্যবসা করছে তাদের তালিকা খুব বড় নয়। সবাই সচেতন হলেও ভিওআইপি ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব। কেননা ভিওআইপি ব্যবসায় বিপুল পরিমাণ সিম ব্যবহƒত হয়। মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো যদি নীতিমালা মেনে, যাচাই-বাছাই করে সিম বিক্রি করে তাদের ব্যবসার জন্য সিম সংগ্রহ করতে পারবে না।

বিটিআরসি জানায়, একজন গ্রাহকের সিম সুরক্ষার জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবৈধ সিমের জন্য আমাদের জরিমানা নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মোবাইল ফোন অপারেটরের প্রতিটি অবৈধ সিমের জন্য ৫০ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।

এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, ‘মোবাইল ফোনে সিম ব্যবহার করে ভিওআইপি করলে এবং তা ধরা পড়লে প্রতি সিমের বিপরীতে ৫০ ডলার করে জরিমানা কার্যকর রয়েছে। জরিমানা একটি চলমান প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকসহ অন্য মোবাইল ফোন অপারেটর অথবা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে।’