দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

অবৈধ স্বর্ণ বৈধ করতে সারা দেশে স্বর্ণমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা অবৈধ স্বর্ণ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে সরকার। প্রতি ভরি স্বর্ণ বৈধ করতে এক হাজার টাকা কর দিলেই স্বর্ণ বৈধ হয়ে যাবে। তবে এবার সারা দেশে ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য প্রথমবারের মতো স্বর্ণমেলা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন তিন দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করবে। মেলায় কর প্রদানের মাধ্যমে স্বর্ণ বৈধ হওয়ার পাশাপাশি বিপুল রাজস্ব আদায় হবে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অপরদিকে; আগামী বাজেটে ব্যাগেজ রুল সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনার ক্ষেত্রে যাত্রীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। বর্তমানে প্রতি ভরি স্বর্ণ আনার ক্ষেত্রে তিন হাজার টাকা শুল্ক দিতে হয়। আগামী অর্থবছরে এটি ভরিপ্রতি দুই হাজার টাকা করা হতে পারে। তবে বিদ্যমান অন্যান্য শর্ত অপরিবর্তিত থাকবে।
মেলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, আমাদের সমিতির মোট ১৮ প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা ভ্যাট দেয়। এই সদস্যদের মধ্যে যাদের অবৈধ স্বর্ণ রয়েছে তারা মেলায় সরকারকে নির্দিষ্টহারে কর দিয়ে কালো স্বর্ণকে সাদা করতে পারবে। তিনি বলেন, মেলায় অন্তত ৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব পাবে সরকার। ব্যবসায়ীরা ভরিপ্রতি এক হাজার টাকা কর দিয়ে অবৈধ স্বর্ণ এবং স্বর্ণালঙ্কারকে বৈধ করতে পারবে। স্বর্ণের পাশাপাশি কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড প্রতি ভরি ছয় হাজার টাকা করে কর দিয়ে অবৈধ স্বর্ণ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে এনবিআর।
এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য (করনীতি) কানুন কুমার বায় বলেন, দেশের সব ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে স্বর্ণ ব্যবসা করায় উৎসাহিত করতে এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে যদি কোনো ব্যবসায়ী এ সুযোগ গ্রহণ না করে তবে তার জন্য আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত ২৮ মে এনবিআর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। যাতে বলা হয়, কোনো স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী কর্তৃক অঘোষিত অমজুদকৃত এবং উক্ত নীতিমালার আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ, স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের ওপর প্রদেয় আয়কর কমিয়ে প্রতি ভরি স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কারের জন্য এক হাজার টাকা, প্রতি ক্যারেট কাট ও পোলিশড ডায়মন্ডের জন্য ছয় হাজার টাকা এবং প্রতি ভরি রৌপ্যের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ডিলার স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীকে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অঘোষিত এবং মওজুদকৃত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্য সম্পর্কে ঘোষণা দিয়ে কর পরিশোধ করতে হবে। এ প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বলবত থাকবে। প্রজ্ঞাপনের আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের বিস্তারিত তথ্য ও কর পরিশোধের চালান সংশ্লিষ্ট ডিলার, স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীর আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
এ প্রজ্ঞাপনের আওতায় ঘোষিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ডিলার, স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারীর ব্যবসার হিসাব বইতে পৃথকভাবে মজুদ (ওহাবহঃড়ৎু) লিপিবদ্ধ করতে হবে। উক্ত মজুদ (ওহাবহঃড়ৎু) হতে বিক্রয়ের পরিমাণ (ভরি/ক্যারেট) ও মূল্য সংক্রান্ত তথ্য আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দিতে হবে। আর এগুলো জমা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেবে। তাতে তারা বৈধ উপায়ে বিদেশ থেকে স্বর্ণ আমদানি করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনের আওতায় ঘোষিত এবং কর পরিশোধিত স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, কাট ও পোলিশড ডায়মন্ড এবং রৌপ্যের অর্জনমূল্য এবং অর্জনকালের ওপর আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনোরূপ প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

সর্বশেষ..