অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির অভিযোগ সেবাগ্রহীতার

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক রোগীদের সঙ্গে নার্স-আয়াদের দুর্ব্যবহার ওপেন সিক্রেট। ডাক্তাররা রোগী না দেখে ওষুধ কোম্পানি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের সঙ্গে খোশ-গল্পে ব্যস্ত থাকেন। দালালদের দৌরাত্ম্য অপ্রতিরোধ্য। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন হাসপাতালের আউটডোর ও ইনডোরের রোগীরা। ওষুধ-পথ্য না পাওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে আবাসিক রোগীদের।

হাসপাতালে দীর্ঘদিন ডাক্তার থেকে শুরু করে লোকবল, ওষুধ না থাকায় চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এতে গরিব অসহায় রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিহির্বিভাগের মেডিক্যাল অফিসারদের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাক্তার নেই বলে রোগীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। হাসপাতালের কেবিনসহ জেনারেল বেডের বাথরুম সব কয়টি অপরিষ্কার, টয়লেট নষ্ট ও পানির কল না থাকায় আরও বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের।

বাইরের টিউবওয়েল দুটি বিকল থাকায় রোগীরা খাবার পানিও বাইরে থেকে কিনে খাচ্ছেন। জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত ইনডোর ও আউটডোর থেকে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করার জন্য রোগী টানা-হেঁচড়াকারী দালালদের। বর্তমানে হাসপাতালে ডাক্তারের কক্ষে দেখা যায় লাল-নীল-হলুদ রঙের বোরখা পরা নারী দালালদের। খোদ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা এখন পুরুষ দালালদের ভূমিকা রাখছেন। এ হাসপাতালটির প্রধান ফটক থেকে শুরু করে ইনডোর ও আউটডোরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব দালালদের জন্য  ভেতরে প্রবেশ করা মুশকিল হয়ে পরেছে সাধারণ রোগীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইনডোরের চারটি ওয়ার্ডে ১০০ শয্যা থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৮৬টি। আর যে শয্যাগুলো আছে তার অধিকাংশই ভাঙা এবং যেসব ঠিক আছে তার বিছানা নেই। নেই কম্বল ও মশারি। বেডের অভাবে রোগীদের ফ্লোরে থাকতে হয় নিজস্ব বিছানা পেতে। এসব অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক রোগীকে তার স্বজনরা হাসপাতাল থেকে বাধ্য হয়ে দালালদের প্ররোচনায় নিয়ে যান বেসরকারি ক্লিনিকে। কলেরা রোগীদের কোনো ওষুধ নেই, সাপে কাটা রোগীদের জন্য নেই কোনো অ্যান্টি-ভেনাম।

জনবলের অভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও ঠিকভাবে হয় না। ওয়ার্ডের লাইট ও ফ্যান নষ্ট। এতে হাসপাতালের ভেতরের অধিকাংশ জায়গাই অন্ধকারে থাকে। নেই কোনো দারোয়ান-পাহারাদার। ওষুধ কোম্পানি ও ক্লিনিক দালালরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডাক্তারের পাশে থেকে রোগী টানা-হেঁচড়া করেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে ১০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনা করা হচ্ছে। তাই প্রশাসনিক কাজে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। জেনারেল হাসপাতালে এখন অনেক অনিয়ম চলছে।