অভিহিত দরের নিচে নামতে বাকি সাত মিউচুয়াল ফান্ড

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: পতনের ধাক্কায় জবুথবু পুঁজিবাজার। সাম্প্রতিক পতনের ধাক্কা লেগেছে তালিকাভুক্ত প্রায় সব কোম্পানিতে। চলমান পতনে দর কমেছে বাজারের শক্তিশালী খাত হিসেবে চিহ্নিত ব্যাংকসহ অন্য সব প্রতিষ্ঠানের। তবে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডের। আগে এ খাতের ২৭টি ফান্ডের ইউনিট দর ছিল অভিহিত দরের নিচে। সম্প্রতি এই তালিকায় যোগ হয়েছে আরও তিনটি ফান্ডের নাম। ফলে অভিহিত দরের নিচে নামতে বাকি রয়েছে মাত্র সাতটি ফান্ড। এর মধ্যে তিনটি ফান্ডের ইউনিট দর অভিহিত দরের কাছাকাছি।
২০১০ সালের পর থেকে এমনিতেই মিউচুয়াল ফান্ডের সার্বিক পরিস্থিতি মন্দা। কালেভদ্রে অন্যান্য খাতের কোম্পানি ঘুরে দাঁড়ালেও মিউচুয়াল ফান্ডের তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফান্ডগুলোর চাহিদাও দিন দিন কমে গেছে। যে কারণে পুরোনো নতুন কোনো ফান্ডেই বিনিয়োগে আগ্রহ পান না বিনিয়োগকারীরা। পর্যায়ক্রমে এসব ফান্ডের ইউনিটের দর অভিহিত দরের নিচে নেমে গেছে। আর সাম্প্রতিক পতনে অভিহিত দরের নিচে নেমে গেছে আরও তিন ফান্ড। এগুলো হচ্ছে সিএপিএম আইবিএল ইসলামিক ফান্ড, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্স ফান্ড।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এক মাস আগে এসব ফান্ডের ইউনিট অভিহিত দরের ওপরে কেনাবেচা হচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক টানাপতনে ইউনিটগুলোর দর নেমে গেছে অভিহিত দরের নিচে। বর্তমানে সিএপিএম আইবিএল ইসলামিক ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হচ্ছে ৯ টাকা থেকে ৯ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে। এদিকে ডিবিএইচ মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট গতকাল সর্বশেষ ৯ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়। একইভাবে ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্স ফান্ডের ইউনিট সর্বশেষ লেনদেন হয় আট টাকা ৯০ পয়সায়।
এদিকে এখনও অভিহিত দরের ওপরে লেনদেন হওয়া ফান্ডগুলো হচ্ছেÑপ্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড, গ্রামীণ ওয়ান স্কিম-২, আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, এনএলআই মিউচুয়াল ফান্ড, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ড ও সাউথইস্ট-ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড, আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর অভিহিত দরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বাজারের চলমান পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে এসব ফান্ডের ইউনিটের দর অভিহিত দরের নিচে চলে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন এর বিনিয়োগকারীরা।
অন্য ফান্ডগুলোর মধ্যে বর্তমানে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটি লেনদেন হচ্ছে ১২ টাকা থেকে ১৩ টাকার মধ্যে। আর গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টু-এর প্রতিটি ইউনিট কেনাবেচা হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকার মধ্যে। বর্তমানে এটায় তালিকাভুক্ত সবচেয়ে বেশি দর থাকা ইউনিট। এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটি লেনদেন হচ্ছে ১৪ টাকা থেকে ১৪ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে।
এদিকে ফান্ডগুলোর বাজার মন্দা থাকায় বেকায়দায় পড়েছেন এর ইউনিটধারীরা। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও এখান থেকে বের হতে পারছেন না তারা। ফলে এখানে লাখ লাখ টাকা আটকে রয়েছে। যে কারণে বাজারে আসা নতুন ফান্ডগুলোর প্রতিও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে না তাদের। ২০১০ সালের আগে একটি ফান্ড বাজারে এলে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায় লেনদেন হতো। অথচ এখন এর বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, পুঁজিবাজারে সর্বশেষ তালিকাভুক্ত সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের দরও অভিহিত দরের নিচে নেমে গেছে।
তবে মিউচুয়াল ফান্ডের এই পরিস্থিতির জন্য শুধু বাজার পরিস্থিতিকেই দায়ী করছেন না বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, মিউচুয়াল ফান্ড প্রধানত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে আয় করে। কিন্তু তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করে অন্য কোথাও বিনিয়োগ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ফান্ডগুলোর এ পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়। সম্ভবত তারা গচ্ছিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করে অন্য কোথাও বিনিয়োগ করছে, যে কারণে ফান্ডগুলোর অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না।
জানতে চাইলে মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা-নূর-ই-নাহারীন শেয়ার বিজকে বলেন, এক সময় বড় বড় বিনিয়োগকারীরা মিউচুয়াল ফান্ডে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতেন। কিন্তু ফান্ডগুলোর অবস্থা ভালো না থাকায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। যে কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারী বা বড় বিনিয়োগকারী কেউ-ই ফান্ডগুলোতে বিনিয়োগ করছেন না। এছাড়া ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না ফান্ডগুলো।