অরগানিক কৃষিতে সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে বাংলাদেশ

সেমিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পৃথিবীর মোট কৃষিজমির এক শতাংশে এখন অরগানিক বা প্রাকৃতিক কৃষিপণ্য চাষ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী অরগানিক পণ্যের বাজার প্রায় ৮৯ বিলিয়ন ডলারের। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু যথাযথ উদ্যোগের অভাবে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এখনও তিন-চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ অরগানিক কৃষিপণ্যের দিকে বিনিয়োগ করছে না।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর এফবিসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের সহযোগিতায় এ সেমিনার আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষিপণ্য উৎপাদক ও বণিক সমিতি (বিএপিএমএ)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু।
বিএপিএমএ’র সভাপতি মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহসভাপতি মো. মুনতাকিম আশরাফ, পরিচালক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, কৃষিপণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণ কাউন্সিলের সমন্বয়ক এসএম রেজওয়ান হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (বারি) গবেষক ড. মো আজমত উল্লাহ ও ড. মোহাম্মদ খুরশীদ আলম প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু বলেন, কৃষিপণ্য আমাদের বিদেশি মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখছে। তবে এখনও এ ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে। ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে। ইউরোপের বাজারে সবচেয়ে বেশি পণ্য রফতানি হয়। কিন্তু সেখানে পান রফতানিতে সমস্যা চলছে। আমাদের দেশের আমের প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে কৃষকরা দক্ষ ছিল না। পরে এফএও’র সহযোগিতায় অনেক কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন ওয়ালমার্টেও আম রফতানি হচ্ছে। রাশিয়াতে আলু রফতানির সুযোগ পেয়েও সম্ভব হয়নি। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ফাইটোসেনিটারি সার্টিফিকেট প্রদানকারী সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য কৃষি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বিএসটিআই ও সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে যন্ত্রপাতি রয়েছে। সেখানে পরীক্ষার জন্য সুযোগ বাড়াতে হবে। কৃষি মেলা বাড়ানো দরকার। এতে সচেতনতা বাড়বে। কৃষি আমাদের বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করছে। কৃষিতে আমাদের অগ্রগতির পাশাপাশি এখন অরগানিক কৃষিপণ্যের দিকে জোর দেওয়া দরকার। বিদেশে রফতানির সময় আমরা মান নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য। কিন্তু আমাদের দেশে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে গম আসে, তার কতটা মানসম্মত তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, বিশ্বে ৮৯ বিলিয়ন ডলারের অরগানিক পণ্যের বাজার রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অংশ নেই। এ ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মূল প্রবন্ধে ড. মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, পৃথিবীর মোট চাষযোগ্য জমির এক দশমিক দুই শতাংশ জমিতে অরগানিক চাষ হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশে হচ্ছে না। অরগানিক পণ্যের বৈশ্বিক বাজার এখন ৮৯ বিলিয়ন ডলারের। এ বাজার ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে ১৯৯০ সালের পর থেকে কিছু এনজিও অরগানিক পণ্যের চাষ শুরু করলেও এ খাতে চাষ বাড়েনি।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলাগুলো মোট ভূমির ১০ শতাংশ। এ অঞ্চলের প্রচলিত চাষপদ্ধতি ও ভৌগোলিক অবস্থা অরগানিক চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানে চাষ করা গেলে তা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় রফতানি করা সম্ভব হবে।
প্রসঙ্গত, ইউরোপ-আমেরিকাই সর্বাধিক পরিমাণ অরগানিক পণ্য আমদানি করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে ভেজাল খাবারের সম্প্রসারণের কারণে ব্যাপকভাবেই বেড়েছে অরগানিক খাবারের চাহিদা। বাংলাদেশে অরগানিক পণ্যের চাষ বাড়াতে এরই মধ্যে বারিতে অরগানিক চাষের কৌশল নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। এসব গবেষণাকে বাণিজ্যিকভাবে শুরুর জন্য উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রয়োজন। বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালে জাতীয় অরগানিক কৃষি নীতি চূড়ান্ত করা হলেও তার বাস্তবায়নে গতি নেই।