অর্থ আত্মসাৎ মামলায় মোরশেদ খানকে দুদকে তলব

সিটিসেলের নামে ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিটিসেলের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় বিএনপি নেতা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১৮ সেপ্টেম্বর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে তাকে উপস্থিত হতে গতকাল নোটিস পাঠিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম।
কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, মোরশেদ খানের পাশাপাশি আরেকটি মামলায় তার ছেলেকেও ২০ সেপ্টেম্বর তলব করা হয়েছে। ফয়সাল মোরশেদ খানকে তলব করা হয়েছে ২০১৩ সালে গুলশান থানায় অর্থ পাচারের এক মামলায়। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২৮ জুন ঢাকার বনানী থানায় করা এ মামলায় মোরশেদ খানের স্ত্রী নাসরিন খান, সিটিসেলের এমডি মেহবুব চৌধুরীসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া সিটিসেলের মূল কোম্পানির নাম প্যাসিফিক টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিটিএল)। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান এর চেয়ারম্যান, তার স্ত্রী নাসরিন খান একজন পরিচালক। সিটিসিলের এক-তৃতীয়াংশের মালিকানা মোরশেদ খানের প্যাসিফিক মোটরস লিমিটেডের।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সিটিসেলের নামে এবি ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। মোরশেদ খান এবি ব্যাংকেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। দেনার দায়ে ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিটিসেলের পথ ধরেই দেড় যুগ আগে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে প্যাসিফিক মোটরস যখন সিটিসেলের মালিকানায় আসে, মোরশেদ খান তখন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিনিয়োগবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বে। আর এইচএম এরশাদ সরকারের সময় সিটিসেল যখন লাইসেন্স পায়, মোরশেদ খান তখন ছিলেন জাতীয় পার্টির কোষাধ্যক্ষ। একমাত্র অপারেটর হওয়ার সুযোগে সিটিসেল বিএনপি সরকারের সময় একচেটিয়া ব্যবসা করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আরও কোম্পানিকে মোবাইল ফোন সেবার লাইসেন্স দেওয়া হলে সেই একচেটিয়া ব্যবসার অবসান ঘটে। এরপর থেকে ধুঁকতে থাকা সিটিসেলে ২০০৪ সালে বিনিয়োগ করে সিঙ্গাপুরের সিংটেল। কিন্তু ব্যবসার আর প্রসার ঘটেনি।