টপ ম্যানেজমেন্ট

‘অর্পিত দায়িত্ব যথাসময়ে সততার সঙ্গে পালন করলে সফলতা আসবেই’

মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএস দি একমি ল্যাবরেটরিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান ও কোম্পানি সচিব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্ন্যান্স স্ট্যাডিজে স্নাতকোত্তর শেষে তিনি কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে এমবিএ ও চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশাগত ডিগ্রি নেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) একজন সম্মানিত ফেলো। সম্প্রতি এক আলাপনে পেশাগত জীবনে তার সফল হয়ে ওঠা ও জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক জানার চেষ্টা করেছেন হাসানুজ্জামান পিয়াস

ক্যারিয়ারের গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই…
মো. রফিকুল ইসলাম: ১৯৯৯ সালে ভ্যানিক বাংলাদেশ লিমিটেডে (বর্তমানে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড) ক্যারিয়ার শুরু করি। বোর্ড সেক্রেটারিয়েট, লিজ ফাইন্যান্স, মার্চেন্ট ব্যাংকিং ও লিগ্যাল ডিভিশনে সফলতার সঙ্গে প্রায় সাত বছর কাজ করার পর ২০০৬ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্যানক্যাম থাইল্যান্ড (কোম্পানি) লিমিটেডে ম্যানেজার (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) ও কোম্পানি সচিব হিসেবে যোগ দিই। সেখানে প্রায় দুই বছর সুনামের সঙ্গে কাজ করে ২০০৭ সালের শেষের দিকে দেশে ফিরে আসি এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে যোগদান করি। ২০১৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ম্যানেজার (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) এবং ইন্টারন্যশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেডের কোম্পানি সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড থেকে কোম্পানি সচিব পদে যোগদান করার অফার পাই। ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে একমি ল্যাবরেটরিজে কর্মরত আছি। এখানে হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও কোম্পানি সচিবের দায়িত্ব পালন করছি।

পেশাগত ডিগ্রি হিসেবে চার্টার্ড সেক্রেটারিকে কেন বেছে নিয়েছিলেন?
রফিকুল ইসলাম: কোম্পানি সেক্রেটারি বা চাটার্ড সেক্রেটারি হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। পড়ালেখা শেষে ব্যবসা করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ব্যবসা শুরুর আগে চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। তাই লংকাবাংলায় ক্যারিয়ার শুরু করি। কিন্তু উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশে এখনও নিজের ইচ্ছায় ক্যারিয়ার গঠনের প্রথা পুরোপুরি চালু হয়নি। যাই হোক, লংকাবাংলায় বোর্ড সেক্রেটারিয়েটে কাজ শুরু করার পর এ পেশাতেই ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল। তাই পেশাগত উৎকর্ষের জন্য ২০০৯ সালে চার্টার্ড সেক্রেটারি ডিগ্রি নিই। বিশ্বব্যাপী চার্টার্ড সেক্রেটারি পেশার পরিধি ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। একজন চার্টার্ড সেক্রেটারি তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ পেশায় জড়িত যে কোনো পেশাজীবী তার প্রতিষ্ঠানের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তুলনামূলকভাবে বেশি অবদান রাখতে পারেন। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের সান্নিধ্যে থেকে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে এ পেশার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

প্রতিষ্ঠানে একজন দক্ষ কোম্পানি সচিবের ভূমিকা ও গুরুত্ব সম্পর্কে বলুন।
রফিকুল ইসলাম: এখনকার সময়ে কোম্পানি সচিবের ভূমিকা শুধু বোর্ড মিটিং আর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের আয়োজন ও কার্যবিধি তৈরি করে তা বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে কোম্পানি সচিবের ভূমিকা ও গুরুত্ব বাড়ছে। গত শতাব্দীর শেষ ও সহস্রাব্দের শুরুর দিকে করপোরেট ধসের কারণে করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর শেয়ারহোল্ডারদের মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে কোম্পানি সচিবের ভূমিকা ও গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ কারণে একজন কোম্পানি সচিবকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিয়মানুযায়ী কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিচালনা পর্ষদকে পরামর্শ দেওয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোম্পানি সচিবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সচিবের ব্যাপক ভূমিকা ও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কোম্পানি-সম্পর্কিত বিভিন্ন আইনকানুন যেমন কোম্পানি আইন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কতৃক প্রণীত আইন, লিস্টিং রেগুলেশন, ডিপজিটরি আইন প্রভৃতি বিষয়ে কোম্পানি সচিবের স্বচ্ছ ধারণা থাকার পাশাপাশি এর যথাযথ পরিপালনে তার ভূমিকা রাখার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে একটি প্রতিষ্ঠানে একজন দক্ষ কোম্পানি সচিবের গুরুত্ব অপরিসীম।

কর্মক্ষেত্রে একজন সচিবের জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয় কী?
রফিকুল ইসলাম: একটি প্রতিষ্ঠানে একজন সচিবের যেমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তেমনি তার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয়ও রয়েছে। যেমন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার ধরন বোঝা। বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করতে চাই। ধরুন, ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানির বোর্ড ভিন্ন হয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবসার ধরনও আলাদা। তাই কোম্পানি সচিবের প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবসার ধরন বোঝা ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করে প্রতিষ্ঠানে করপোরেট গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠাসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সর্বোপরি টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পরিচালনা পর্ষদকে সহায়তা করা।
আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করা ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাখিল করা। বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত যে কোনো কোম্পানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্টক এক্সচেঞ্জ, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসসহ (আরজেএসসি) অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিছু প্রতিবেদন দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দক্ষ কোম্পানি সচিবের সারা বছরের কর্মতালিকায় উল্লেখিত কমপ্লায়েন্স রিপোর্টিংয়ের শিডিউল থাকে এবং তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল না করলে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার যথাযথ কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানোর নোটিসসহ আর্থিক জরিমানা করতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে।
পরিচালনা পর্ষদকে জানা ও তাদের বোঝার মধ্যেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আগেই উল্লেখ করেছি, প্রতিষ্ঠানভেদে পরিচালনা পর্ষদ ভিন্ন হয়ে থাকে। কোম্পানির সচিবের কাছে পর্ষদের প্রত্যাশাও থাকে ভিন্ন। এ কারণে পরিচালনা পর্ষদ বোর্ড মিটিংয়ের সময় সচিবকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে বলে। কেউ কেউ সচিবকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলেন এবং সমন্বয়কারীর ভূমিকায় দেখতে চান। তাই পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যাশা জানা ও আইনকানুন অনুযায়ী নিজের দায়িত্ব পালন করা চ্যালেঞ্জের।
পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ভীষণ চ্যালেঞ্জের। কোম্পানি সচিব পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধের ভূমিকায় থাকেন। কোম্পানি সচিব পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগের প্রথম ধাপ। তাই একজন যথার্থ যোগাযোগকারী হিসেবে সব স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে কোম্পানি সচিবের ভূমিকা অপরিসীম। এছাড়া কোম্পানির বৃহত্তর স্বার্থে তাকে কৌশলী হতে হয়।
সফলতার সঙ্গে সভা পরিচালনা ও শেষ করার মধ্যেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কোম্পানি সচিবকে বার্ষিক সাধারণ সভা, পরিচালনা পর্ষদের সভা ও বিভিন্ন বোর্ড কমিটির সভা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহ করা ও প্রয়োজনে আরও তথ্য সরবরাহ করার কাজ কোম্পানি সচিবকেই করতে হয়। সঠিক তথ্য যাচাইসাপেক্ষে সময়োপযোগী যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পরিচালনা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা একজন দক্ষ সচিবের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ও চ্যালেঞ্জের।
সভার কার্যবিবরণীর যথার্থতা নিশ্চিত করার মধ্যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যে কোনো সভা সমাপ্ত হওয়ার পরে এর কার্যবিবরণী প্রস্তুত করা প্রয়োজন। কার্যবিবরণীতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আলোচনা ও সিদ্ধান্তের যথাযথ প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। মিনিটস তৈরির জন্য ভালো শ্রোতা হতে হবে। মিটিংয়ের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বুঝতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সচিবের ভূমিকা কতটুকু?
রফিকুল ইসলাম: বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কোম্পানি সচিবকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হয়। তিনি বিনিয়োগকারী ও কোম্পানি তথা পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। তাই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য যথাযথভাবে প্রচার ও অবহিত করে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের স্বচ্ছ ধারণা দিতে পারেন। এছাড়া তিনি নিয়মিতভাবে বার্ষিক সাধারণ সভা এবং বিশেষ সাধারণ সভা যথাযথ ও সম্মতিপূর্ণভাবে পরিচালিত করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখেন।

কোম্পানি সচিব পেশাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
রফিকুল ইসলাম: কোম্পানি সচিব একটি প্রতিষ্ঠানের চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাই বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার প্রয়োজনীয় সংবিধিবদ্ধ নিয়মাবলি মেনে ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি পরিচালনা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের গৃহীত সিদ্ধান্ত যথাসময়ে বাস্তবায়ন ও পরিপালনের জন্য নিজ নিজ বিভাগে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশন দিয়ে থাকেন। পরবর্তীকালে সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কে পর্ষদকে অবহিত করেন। তিনি কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার একজন জিম্মাদার। সুতরাং কোম্পানির সব স্বার্থ যেমন-বিধিবদ্ধ বিষয়, আইনি বিষয়, প্রশাসনিক বিষয়সহ অন্যান্য নীতিগত বিষয় সুরক্ষার বিষয়ে তার দায়িত্ব খুবই উল্লেখযোগ্য। তাই বলা যায় যে, কোম্পানি সচিব একটি মহান পেশা, যা প্রতিষ্ঠানের যথাযথ স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কর্মক্ষেত্রে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে আপনার মূলমন্ত্র কী?
রফিকুল ইসলাম: মানুষ সামাজিক জীব। যে কোনো প্রতিষ্ঠানে আশপাশের মানুষের সঙ্গে যদি সুসম্পর্ক থাকে, তখন আমাদের ওপর ন্যস্ত কাজটি আরও উপভোগ্য হয়। তাই কর্মক্ষেত্রে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে কতগুলো শর্ত পালন করা প্রয়োজন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো কাজের মাধ্যমে সুসম্পর্ক স্থাপনে মনোনিবেশ করা। ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা। ভালো কাজের প্রশংসা করা। অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। ফলপ্রসূ যোগাযোগ, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

যারা এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাদের উদ্দেশে কিছু বলুন।
রফিকুল ইসলাম: কোম্পানি সচিব হিসেবে যারা ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, এটি একটি চ্যালেঞ্জিং ও খুবই সম্মানজনক পেশা। কোম্পানি সচিব কোম্পানির প্রধান গুরুত্বপূর্ন অফিসারদের মধ্যে একজন। করপোরেট আইন-কানুন মেনে দক্ষতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য দক্ষ ও পেশাদার প্রশাসক প্রয়োজন। এ প্রয়োজন বিবেচনা করে আইসিএসবি পেশাটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার চেষ্টা করছে। তাই এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে যে কোনো ব্যক্তিকে করপোরেট আইনকানুন, কোম্পানি তালিকাভুক্তির আইনকানুন, ট্যাক্স ও এইচআরসহ প্রশাসনিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এছাড়া বিশ্বস্ততা, নিয়মানুবর্তিতা, জবাবদিহি, সময়ানুবর্তিতা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে খুবই সচেতন হতে হবে। সফল হওয়ার জন্য সঠিক সময়ে অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। উল্লিখিত বিষয়গুলো আয়ত্ত করে আদর্শ বজায় রেখে আগামী প্রজন্ম এ পেশার প্রতি আগ্রহী হবে। তারা পেশাটিকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

সফল কোম্পানি সচিব হতে চাইলে আপনার পরামর্শ…
রফিকুল ইসলাম: সব পেশায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সফল কোম্পানি সচিব হতে চাইলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার করার মানসিকতা থাকতে হবে। করপোরেট জগতের আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন ও প্রতিষ্ঠানে তা যথাযথ প্রয়োগের বিধান চালু করতে হবে। সচিবের সফলতার প্রথম ধাপ হলো প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। করপোরেট গভর্ন্যান্সসহ প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুফলগুলো পরিচালনা পর্ষদকে বোঝানো এবং প্রতিষ্ঠায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া সচিবের অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজের কাজে মনোনিবেশ করা এবং সময়মতো কাজ শেষ করা বিশেষ প্রয়োজন। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন আইনকানুনে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসে। এসব বিষয়ে নিজেকে আপডেটেড রাখা ও সে অনুযায়ী কমপ্লায়েন্স সম্পন্ন করার দক্ষতা সচিবকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া করপোরেট গভর্ন্যান্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত বিশ্বব্যাপী যে পরিবর্তন হচ্ছে, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে ও প্রতিষ্ঠানকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানি সচিব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

সর্বশেষ..