সম্পাদকীয়

অস্তিত্বহীন চাতাল থেকে চাল সংগ্রহ বন্ধ করুন

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আশাতীত ফলন না হলে বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপৎকালীন মজুত গড়ে তোলা (নিরাপত্তা মজুত), সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ (ভিজিডি, ভিজিএফ, কাবিখা ও টিআর), মূল্য স্থিতিশীলতা অর্জনে খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস), কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব খাদ্যমূল্য কাঠামো অর্জন এবং দরিদ্র ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগণকে খাদ্য সংগ্রহে সহায়তা দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়। নির্ধারিত দামে সরাসরি কৃষক ও চাতাল থেকে সংগ্রহ করা হয় এসব শস্যপণ্য। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য নীতিমালা-২০১০ অনুসারে বিভিন্ন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এ নীতিমালা প্রায়ই লঙ্ঘিত হয়। চাল সরবরাহকারীর তালিকায় থাকে বন্ধ মিলের পাশাপাশি ইজারা দেওয়া মিলের নামও। এছাড়া কর্মকর্তা ও মিল মালিকদের যোগসাজশে নিম্ন মানের চাল সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।
এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। বিষয়টি সামনে এনেছে শেয়ার বিজ। গতকাল প্রকাশিত হয় ‘অস্তিত্বহীন দেড় শতাধিক চাতাল থেকে বোরো চাল সংগ্রহের অভিযোগ’ শীর্ষক প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে লালমনিরহাটে দেড় শতাধিক অস্তিত্ববিহীন চাতালের নামে চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের কর্মকর্তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব চাতালের অনুমোদন দিয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন মিলের পাক্ষিক ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি চাল বরাদ্দের ব্যবস্থা করে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।
খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলেছেন, চাতালের বিষয়ে যা কিছু হয়েছে এবং হচ্ছে, সবকিছু জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অনুমতিতেই হচ্ছে। উপজেলা তদন্ত কমিটির ওপর দায় চাপিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ না করে নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নেওয়াই ভালো বলে মন্তব্য করেছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। আমরা মনে করি, এমন তৎপরতা কোনোভাবেই ভালো নয়। এটিকে কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা উচিত।
কোন ধরনের চাতাল থেকে চাল সংগ্রহ করতে হবে, তা অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য নীতিমালায় স্পষ্ট করা আছে। এতে বলা হয়েছে, মিটারযুক্ত সার্টিফায়েড স্টিল বয়লার, ৪০ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন চিমনি, রাবার শেলার, পলিশার ও সর্টারযুক্ত চালকলগুলো বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ২০১৪ সালের মধ্যে সব চাতাল মিলে রাবার শেলার ও রাবার পলিশার সংযুক্ত করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এ অবস্থায় অস্তিত্ববিহীন দেড় শতাধিক চাতাল থেকে চাল সংগ্রহ করা হলে যোগ্য চাতালগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনই মানসম্পন্ন চাল সংগ্রহ হবে না। নীতিমালা মেনেই বোরোসহ সব শস্য সংগ্রহে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..