অস্ত্র প্রতিযোগিতা বিশ্বকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

তৌহিদুর রহমান: বিশ্ব রাজনীতি এখন খুব দ্রুতই পরিবর্তিত হচ্ছে। ক্ষমতার ভারসাম্যেও আসছে পরিবর্তন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই সারাবিশ্বে কার্যত ছড়ি ঘোরানো যুক্তরাষ্ট্র এখন কিছুটা কোণঠাসা। এ সময়ে চীনের উত্থান সারা বিশ্বের অর্থনীতি, বাণিজ্য, রাজনীতিসহ অনেক কিছুতেই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এছাড়া একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই সারা বিশ্বের দৃষ্টি অনেকটা মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক হলেও এখন তা বিভিন্ন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে গেছে। বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, দূরপ্রাচ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিককালে যোগ হয়েছে আফ্রিকা অঞ্চলও।

এ অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো তাদের ক্ষমতা দেখাতে এখন মরিয়া। কে কোথায় কীভাবে নিজের প্রভাব বলয় তৈরি করবে, অর্থনৈতিক ফায়দা লুটবে, প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করবে; সে চেষ্টায়ই ব্যস্ত। আর তাদের এ ক্ষমতা দেখানোর প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছে বিধ্বংসী সব মারণাস্ত্র। নতুন নতুন সব প্রযুক্তির অস্ত্র দিয়ে কে কাকে কীভাবে ছাড়িয়ে যাবে, চলছে সে প্রতিযোগিতা। ২০১৬ সালে বিশ্বে ৩৭৪ দশমিক আট বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে উৎপাদনকারী দেশগুলো। এর বাইরে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের সমরাস্ত্রের আধুনিকায়নের পাশাপাশি ড্রোন, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও আকাশ প্রতিরক্ষা খাতে দেদার খরচ করছে বিভিন্ন দেশ।

এর মধ্যে কিছু আঞ্চলিক পরাশক্তির অস্ত্র প্রতিযোগিতাও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এশিয়ার তিন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারত, পাকিস্তান ও চীনের অস্ত্র প্রতিযোগিতা অন্যতম ভীতি জাগানিয়া হয়ে দেখা দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, উত্তর কোরিয়া, ইরানের মতো দেশগুলোর এ ধরনের প্রতিযোগিতা তো চলছেই। সাম্প্রতিককালে মহাকাশকেন্দ্রিক বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরির খবরও গণমাধ্যমে আসছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনো দেশই ঘোষণা দেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ কয়েকটি দেশের গোপন কর্মকাণ্ড সে বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

সম্প্রতি চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ভারতসহ বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোয় একটি খবর প্রকাশ হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানকে ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ শনাক্তকরণের অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং প্রযুক্তি দিয়েছে চীন। এর মাধ্যমে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে পাকিস্তান। এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে দেশ দু‘টির চির বৈরী ভারত বলছে, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট হবে।

যদিও এর মাত্র কদিন আগেই বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্ম’র যুদ্ধবিমান সংস্করণের পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গতিতে আঘাত হানতে সক্ষম এ ক্ষেপণাস্ত্রের ভূমি ও নৌ সংস্করণ এর মধ্যে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া গত জানুয়ারিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র অগ্নি-৫ পরীক্ষা চালায় দেশটি।

আর সর্বশেষ খবর হলো ভারতীয় সামরিক বাহিনীর হাতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি রুপির ৭২ হাজার চারশ’টি অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, ৯৩ হাজার ৮৯৫টি কার্বাইন ও ১৬ হাজার ৪৭৯টি সেমি মেশিনগানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে। যার উদ্দেশ্য হিসেবে সীমান্তে চীন ও পাকিস্তানের বাহিনীকে মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এছাড়া এ অঞ্চলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমনাভিযান তো জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়। সেখানে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।

একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই অস্ত্র প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় একটি ক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য। ইরাক, আফগানিস্তানের পর এখন বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর শক্তি পরীক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে সিরিয়া ও ইয়েমেন। সিরিয়ায় বতর্মান বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও রাশিয়া, তুরস্ক, ন্যাটোভুক্ত একাধিক দেশ ও ইরানের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সেখানে রাশিয়া এরই মধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মোতায়েন করা হয়েছে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আকাশ প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচিত এস-৪০০। এছাড়া ইরান সেখানে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন ধরনের নতুন অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে খবর রয়েছে।

সম্প্রতি সিরিয়ার অন্যতম সহিংতাপ্রবণ অঞ্চল গৌতার অধিকাংশ অংশ থেকে বিদ্রোহীদের পরাজিত করে তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে সরকারি বাহিনী ও রাশিয়া। ভয়ঙ্কর খবর হলো সেখান থেকে প্রায় ৪০ টন রাসায়নিক ও অস্ত্র তৈরির কারখানা পাওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। এ অঞ্চলের আরেকটি দারিদ্র্যপীড়িত দেশ ইয়েমেনে এখন সৌদি আরবের আগ্রাসন চলছে। সেখানে কয়েক বছর ধরে চলা সৌদি হামলায় কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি আরবের এ আগ্রাসন চলছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা হাজার কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র দিয়ে। অন্যদিকে ইয়েমেনের যোদ্ধারাও নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি স্বল্প পাল্লার বিভিন্ন ধরনের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি বাহিনীর মোকাবিলা করছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ বাহিনীকে প্রযুক্তি ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে ইরান।

সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র কেনায় সৌদি আরবের ভূয়সী প্রশংসা করে আরও অস্ত্র কেনার জন্য প্ররোচণা দিয়েছেন। সৌদি আরবের বিশাল সম্পত্তি আমেরিকায় বিনিয়োগ করার নামে ভাগাভাগি করারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। অথচ সে দেশ থেকে কেনা অস্ত্রে যে ইয়েমেনে হাজার হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা মাথায়ই আনেননি ট্রাম্প।

মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় খুব একটা পিছিয়ে নেই। ভারতের সঙ্গে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র এবং এ ধরনের প্রযুক্তি বিক্রির চুক্তি করেছে ইসরায়েল। এছাড়া তাদের অস্ত্র বিক্রির প্রধান বাজার হয়ে উঠছে ভারত। যে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অস্ত্র ক্রেতা দেশ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সিরিয়া, ইয়েমেন ও ইরাকেও মাঝেমধ্যেই বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশটি। ২০০৭ সালে সিরিয়ায় সম্ভাব্য আণবিক অস্ত্র কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ধ্বংস করার কথাও সম্প্রতি স্বীকার করেছে ইসরায়েল। তাদের অস্ত্র কিনছে মিয়ানমারও।

তবে এসব কিছু ছাপিয়ে আমেরিকা ও রাশিয়ার নতুন প্রযুক্তির সব অস্ত্রের পরীক্ষা আবারও স্নায়ুযুদ্ধের আমলের কথাই স্মরণ করে দিচ্ছে। গত বছর উত্তর কোরিয়ার একের পর এক পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার জবাবে থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সম্প্রতি জাপান যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে বলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি নিয়েও দেশগুলো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশই ড্রোন প্রযুক্তির দিকে এখন বিশেষ নজর দিচ্ছে। যে প্রযুক্তি এরই মধ্যে মানবতার জন্য অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক হিসেবে প্রমাণ হয়েছে।

এদিকে গত মাসেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। এর ভিডিও ক্লিপ দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন নিজে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এ ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতা ‘কোল্ড ওয়ার’ বা ঠান্ডা যুদ্ধ শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক আগে থেকেই এ দু‘টি দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রেতা। ফলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক এক ধরনের দ্বন্দ্ব রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। এছাড়া রাশিয়াকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জবাবে রাশিয়াও সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রেখেছে।

আফ্রিকায়ও এখন নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে পরাশক্তিগুলো। সেখানে বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে। এর সর্বশেষ সংযোজন চীন। জিবুতিতে বহির্বিশ্বে নিজেদের প্রথম সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে দেশটি। এছাড়া আফ্রিকার দেশগুলোর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে সেখানেও আধিপত্য বিস্তারে তৎপর বিশ্ব শক্তিগুলো। এর মধ্যে অস্ত্র বাণিজ্যও সেখানে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।

এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি এখনও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অস্ত্র বিক্রেতা দেশগুলোর অন্যতম। বিশ্বের শীর্ষ ১০ অস্ত্র বিক্রেতার তালিকায় এ পরাশক্তিগুলোরও নাম রয়েছে। আর বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ভয়ঙ্কর সব যুদ্ধবিমান তো রয়েছেই। যেগুলো মানবসভ্যতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যুদ্ধবিমান সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে এ খাতে বেশ অর্থ ঢালছে অধিকাংশ দেশ।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসইপিআরআই-সিপ্রি) ও আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী বর্তমান বিশ্বের ৯ দেশের কাছে প্রায় ১৫ হাজার পারমাণবিক বোমা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বকে কয়েকবার পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া যাবে। এমনকি এ বোমা দিয়ে গোটা বিশ্বকে ৩৮ বার পুরোপুরি ধ্বংস করা যাবে বলে জানিয়েছিল এসইপিআরআই। এছাড়া গত তিন বছরে উত্তর কোরিয়া বেশ কয়েকটি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর বৈশ্বিক নিরাপত্তার হুমকি নিয়ে বেশ জোরালো আলোচনা চলছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মতো নেতা পরমাণু অস্ত্র নিয়ে বাকযুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার পর বিশ্ব সম্প্রদায় আরও বেশি উদ্বিগ্ন। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ক্ষমতার প্রথম বছরেই ৫৭০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছেন!

ভয়ঙ্কর এ অস্ত্র প্রতিযোগিতা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য নিঃসন্দেহে মোটেও ভালো খবর নয়। এ ধরনের অস্ত্র মানবসভ্যতার জন্য এখন বড় হুমকি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র নির্মাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্রও এ থেকে মুক্ত নয়।  দেশটিতে এখন মুড়ি-মুড়কির মতো বিক্রি করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র। ফলস্বরূপ নিজেদের নাগরিকদের হাতেই প্রতি বছর মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। এর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন লাখ লাখ মানুষ, যার অধিকাংশই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ভয়ঙ্কর এসব অস্ত্র কতটা বিপর্যয় ঘটাতে পারে, তা নিশ্চয়ই বিশ্ববাসীর কাছে অজানা নয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আক্রমণ, কোরিয়া যুদ্ধ, পাক-ভারত যুদ্ধ, আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, ইরাক-ইরান যুদ্ধ, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ হালের ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধÑকতটা ভয়াবহ ছিল, তা সবারই জানা। এর মধ্যে আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইরাকের সভ্যতার বড় অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। হুমকিতে রয়েছে ইয়েমেনের সভ্যতাও।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় এ ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতা সভ্যতাই শুধু ধ্বংস করে না আরও অনেক ধরনের ক্ষতি করে। এর প্রভাব একেবারেই ক্ষণস্থায়ী নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী তা অব্যাহত থাকে। আর কোনো কারণে পারমাণবিক যুদ্ধ সংঘটিত হলে বিশ্বের ধ্বংস হয়ে যাওয়াটা অনিবার্য। সুতরাং বিশ্ব সম্প্রদায়কে এ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে শান্তির পথে ফিরতে হবে। এ ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে কীভাবে আগামী প্রজন্রমে জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তোলা যায়, সেটিই বিশ্বনেতাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 

গণমাধ্যমকর্মী

touhiddu.rahman1Ñgmail.com