অ্যাম্বার গ্রুপ

অ্যাম্বার গ্রুপ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে। তখন অ্যাম্বার কটন মিলস লিমিটেডের মাধ্যমে এ গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যে গ্রাহকের চাহিদা পূরণে সক্ষম হয় তারা। সুতা উৎপাদনের পাশাপাশি ডেনিম, বোর্ড, দরজা, ইন্টারনেট গেটওয়ে, শপিং আউটলেট, বিনোদনকেন্দ্র প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ করে গ্রুপটি। তাদের সব প্রতিষ্ঠানে সর্বাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীর সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অ্যাম্বার গ্রুপ। কর্মীরাই এর প্রধান সম্পদ। গ্রুপটিতে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন শওকত আজিজ রাসেল। তিনি দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন একেএম হাশমী। পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন ফারহানাজ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ।

শিল্পোদ্যোগ
অ্যাম্বার কটন মিলস
নিটিং ও উইভিং খাতের জন্য স্প্যান ইয়ার্ন উৎপাদন করে অ্যাম্বার কটন মিলস। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দেশের স্প্যান ইয়ার্নের চাহিদার বেশিরভাগ পূরণ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তা-ই নয়, রফতানিও করছে। ব্যবসায় যথাযথ নৈতিকতা মেনে চলে অ্যাম্বার কটন মিলস।

অ্যাম্বার বোর্ড লিমিটেড
বোর্ড ধরনের পণ্যের বাজারে পরিচিত নাম অ্যাম্বার বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের পণ্য দামে সাশ্রয়ী। গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক ডেকোরেশনের কাজে ব্যবহৃত হয় এসব পণ্য। বাছাইকৃত শক্ত ও টেকসই কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় পণ্যগুলো। পর্যাপ্ত কোরের স্তর থাকায় বোর্ডগুলো তুলনামূলক বেশি মজবুত। অন্যান্য গুণের মধ্যে রয়েছে, এ ধরনের বোর্ড অধিক স্ক্রু ধারণ করতে পারে। ফাঙ্গাস, ঘুণ কিংবা উইপোকা প্রতিরোধক হিসেবে এর সুনাম রয়েছে। সব আবহাওয়ায় দীর্ঘদিন টিকে থাকে। গুণগত মানের কারণে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে অ্যাম্বার বোর্ডের পণ্য।

অ্যাম্বার ডেনিম লিমিটেড
মৌলিক মানের জিন্স দিয়ে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে ডেনিম কাপড় উৎপাদন, ওয়াশিং, প্রসেসিং প্রভৃতি খাতে বিশেষ অবদান রাখছে। এ খাতে সক্ষমতা অর্জন করেছে তারা। অ্যাম্বার রোটর মিলস লিমিটেড, অ্যাম্বার রোটর স্পিনিং মিলস লিমিটেড ও অ্যাম্বার কটন মিলস লিমিটেডÑএ তিনটি প্রতিষ্ঠান ডেনিম উৎপাদন করে। সঠিক সময়ে বিদেশি ক্রেতার কাছে ডেনিম সরবরাহ করে তারা। প্রিমিয়াম ক্যাটেগরির ডেনিম প্রস্তুতকারক হিসেবে তারা এগিয়ে রয়েছে। আরামদায়ক, অর্গানিক ডেনিম রয়েছে তাদের। তাদের তৈরি ডেনিমে কখনও ক্রিজ পড়ে না। এর স্থায়িত্ব তুলনামূলক বেশি।

অ্যাম্বার আইটি
অ্যাম্বার আইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। ডায়াল-আপ ও রেডিও লিংক ইন্টারনেট দিয়ে শুরু হয় তাদের ব্যবসা। তখন মূলত স্থানীয় পর্যায়ের ভোক্তাসাধারণের বিষয়টি মাথায় রেখে তারা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করে। তবে উন্নত সেবাদানের কারণে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। টেলিযোগাযোগ খাতে তাদের ভূমিকা ঈর্ষণীয়।

অ্যাম্বার লাইফস্টাইল
পাশ্চাত্যের সঙ্গে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিশেলে নতুন ধারায় উন্নত পোশাক-পরিচ্ছদ সরবরাহ করে থাকে অ্যাম্বার লাইফস্টাইল। ২০১৪ সালের অক্টোবরে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে এর প্রথম আউটলেট চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পণ্যগুলো আরামদায়ক ও আকর্ষণীয়। সব ঋতুতে স্বস্তিদায়ক। বাংলাদেশের জনসাধারণের শপিংয়ের অভিজ্ঞতা সুবিধাজনক করে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। সংগত কারণে ক্রেতাদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছে অ্যাম্বার লাইফস্টাইল।

অ্যাম্বার ইন্টারন্যাশনাল
কটন: কারগিল কমোডিটিস, লিউস ড্রেফুস কমোডিটিস, ডুনাভ্যান্ট প্রভৃতি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে ব্যবসা রয়েছে অ্যাম্বার ইন্টারন্যাশনালের।
জ্বালানি: দুটি পাওয়ার প্লান্ট রয়েছে তাদের।
কয়লা: প্রতিষ্ঠানটি সূত্রে জানা যায়,
দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এটি।
চিনি পরিশোধক: ইপিসি চুক্তির আওতায় দিনে প্রায় ৩৮০০ টন চিনি পরিশোধন করে অ্যাম্বার ইন্টারন্যাশনাল।

ভাওয়াল রিসোর্ট
নকশা, আধুনিকতা, নান্দনিকতা ও সবুজের মিশেলে তৈরি করা হয়েছে ভাওয়াল রিসোর্ট। এর নকশায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়েছে। আধুনিক সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এখানে। গাজীপুরের ভাওয়াল গড় ও মধুপুরের বন ঘেঁষে রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। গাজীপুরের মির্জাপুর ইউনিয়নের নলজানি গ্রামে এর অবস্থান। প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না করে গড়ে তোলা হয়েছে এটি। এখানে রয়েছে সাইক্লিং সুবিধাসহ লন টেনিস, ব্যাডমিন্টন, পুল খেলার সুযোগ। রয়েছে সুইমিংপুল, জিমনেসিয়াম, স্পা সুবিধা। পাঁচটি জোনসহ ৬১টি কটেজ রয়েছে ভাওয়াল রিসোর্টে। হানিমুন, ফ্যামিলি ট্যুরসহ বিয়ে, কনফারেন্স, সেমিনার, ওয়ার্কশপ প্রভৃতি আয়োজনের সুবিধা রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রিসোর্টটিতে। অতিথিদের নিরাপত্তার জন্য আনসার বাহিনীর রয়েছে, সার্বিক দেখভাল করছেন প্রায় দেড়শ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বিডি হাব
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে অ্যাম্বার গ্রুপের বিডি হাব।

রতন কুমার দাস