অ্যালার্জি ও অ্যাজমার বিভিন্ন দিক

গ্রিক শব্দ অু-গঅ থেকে অংঃযসধ শব্দের উৎপত্তি। অর্থ ‘দ্রুত শ্বাস নেওয়া’। অ্যাজমায় ফুসফুসের বায়ুনালিগুলো আক্রান্ত হয়। ফলে নালিগুলো অত্যধিক সংবেদনশীল হয়ে যায় এবং সহজে ফুলে ওঠে ও প্রদাহিত হয়। এতে বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

প্রকারভেদ

তীব্রতা অনুসারে অ্যাজমা

তীব্র হাঁপানি: এতে ফুসফুসের বায়ুবাহী নালিগুলো আকস্মিক সংকুচিত হয় ও শ্বাসপ্রশ্বাসে প্রদাহ সৃষ্টি করে

দীর্ঘমেয়াদি হাঁপানি: এতে ঘন ঘন অ্যাজমায় আক্রান্ত হয় এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে কারণ অনুসারে অ্যাজমা

অ্যালার্জিক অ্যাজমা: সাধারণত কোনো অ্যালার্জেন বা অ্যান্টিজেন নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকলে আমাদের ইমিউন সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যেমন ফুলের রেণু, বিভিন্ন প্রাণীর লোম, মাইট, ধুলাবালি প্রভৃতি। ফলে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয় ও হাঁপানি দেখা দেয়। একে এটোপিক অ্যাজমা বা অ্যালার্জিক অ্যাজমাও বলা হয়।

নন-অ্যালার্জিক অ্যাজমা: এ ধরনের অ্যাজমা এলার্জিঘটিত নয় বরং ধূমপান, রাসায়নিক দ্রব্য, জীবাণুর সংক্রমণ, মানসিক চাপ, অট্টহাসি, অধিক ব্যায়াম, অ্যাসপিরিনজাতীয় ওষুধ সেবন, খাদ্য সংরক্ষণকারী উপাদান, পারফিউম, অত্যধিক ঠাণ্ডা, গরম, আর্দ্র ও শুষ্ক বাতাসের কারণে দেখা দেয়

অন্য অ্যাজমা

মিশ্র অ্যাজমা: এক্ষেত্রে রোগী আগে উল্লিখিত অ্যালার্জিক ও নন-অ্যালার্জিক দু’ধরনের অ্যাজমাতেই ভোগেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রকোপ বেড়ে যায়।

রাত্রিকালীন অ্যাজমা: এ ধরনের হাঁপানি রাতের বেলা, বিশেষত রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে আক্রমণ করে। রোগীর শারীরিক দুর্বলতার জন্য রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। এমনকি দিনের বেলায় স্বল্পকালীন নিদ্রা যায়।

ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা: এটি মূলত এক ধরনের অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন, যাতে শ্বাসকষ্ট ও বুকে সাঁই সাঁই শব্দ হয়। শ্বাসনালির চারপাশের পেশি ও মিউকাস মেমব্রেনগুলোর সংকোচন দেখা দেয়। শ্বাসনালির সংক্রমণ, বায়ুবাহিত অ্যালার্জেন, খাদ্যের অ্যালার্জেন ও অত্যধিক মানসিক চাপ এর প্রধান কারণ।

কার্ডিয়াক অ্যাজমা: হৃৎপিণ্ড যখন তার স্বাভাবিক রক্ত সংবহন হারিয়ে ফেলে, তখন পালমোনারি ইডিমা বা ফুসফুসে পানি জমে বায়ুনালিকে সংকুচিত করে ফেলে এবং হাঁপানি সৃষ্টি হয়। এটি মারাত্মক। ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা পর এটি আক্রমণ করে। কারণ শুয়ে থাকলেই ফুসফুসে পানি জমে। শ্বাসকষ্টে রোগীর ঘুম ভেঙে যায় এবং কিছুক্ষণ বসে থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

ব্যায়ামজনিত অ্যাজমা: এ ধরনের অ্যাজমা ব্যায়ামকালীন সময়ে অথবা ব্যায়ামের কিছুক্ষণ পর শুরু হয়। বিশেষত, শীতকালে এ ধরনের সমস্যা বেশি হয়।

পেশাগত অ্যাজমা: অকুপেশনাল কিংবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাজমা সাধারণত চাকরিতে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পর থেকে কয়েক বছরের মধ্যে দেখা দেয়। সাধারণত কর্মস্থল ত্যাগ করার পর কিংবা ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে লক্ষণগুলো কমে যায়। কাঠের মিলের গুঁড়ো, রাসায়নিক ধোঁয়া, ধুলাবালিযুক্ত পরিবেশ, সিমেন্ট কারখানা, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, আটা ও মসলার মিল, রাইস মিল, জুট মিল, স্পিনিং মিল, রঙের কারখানা, রাসায়নিক সার কারখানা, ফটোকপি মেশিন, ড্রাইভিং, পোলট্রি ফার্ম, বেডিং স্টোর প্রভৃতিতে কর্মরত শ্রমিকরা এ ধরনের হাঁপানিতে বেশি আক্রান্ত হন।

মৌসুমি অ্যাজমা: মৌসুমি অ্যাজমা সাধারণত বিশেষ ঋতুতে দেখা দেয়। যেমন কারও গরমে অ্যাজমা বাড়ে, কারও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফুলবাগানে অ্যাজমা বাড়ে। গাছ, ঘাস, ফুলের রেণু প্রভৃতিতেও অ্যাজমা বাড়ে।

নীরব অ্যাজমা: এ ধরনের হাঁপানির আক্রমণ অত্যন্ত ভয়াবহ ও জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই বুকে হালকা শব্দ করেই আক্রমণ করে।

কফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা: এ ধরনের অ্যাজমা দীর্ঘমেয়াদি ও বিরক্তিকর কাশিযুক্ত হয়ে থাকে।

 

ডা. জাকিউল হাসান

আইসিডিডিআর,বি