আইটিতে স্বয়ম্ভর না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যাংক

বিআইবিএমের সেমিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থব্যবস্থায় প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটছে খুবই দ্রুত। বৈশ্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ব্যাংকের লেনদেনে পেমেন্ট ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু ব্যাংকগুলোর নিজস্ব কর্মকর্তারা এ বিষয়ে দক্ষ না হওয়ায় ভেন্ডারের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। এতে একপর্যায়ে ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে এক সেমিনারে জানিয়েছেন বক্তারা।
‘মানি লন্ডারিং ভালনারেবিলিটিজ ইন নিউ পেমেন্ট সিস্টেমস: বাংলাদেশ কনটেক্সট’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)। গতকাল রাজধানীর মিরপুরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন দেশের কার্যরত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্ব এগোচ্ছে ক্যাশলেস মানি অর্থাৎ কাগুজে টাকা ছাড়াই অর্থব্যবস্থায়। এজন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশেও প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হচ্ছে দ্রুত। এজন্য মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিং জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে কারিগরি দক্ষতা, উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের অভাবে অর্থপাচারের মতো ঘটনা ঘটছে। অপরাধীরা এ মাধ্যমকে ব্যবহার করছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে।
প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় অর্থপাচার বিষয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রতিকার বের করতে বিআইবিম এক গবেষণা চালায়। সেখানে উঠে এসেছে, ৫৬ শতাংশ ব্যাংকই মনে করে অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচারের পেছনে ভূমিকা রয়েছে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কারিগরি দক্ষতা না থাকা। আর ৪১ শতাংশ ব্যাংক উন্নত প্রযুক্তির অভাবকে দায়ী করেছে। এছাড়া ২১ ও ১৮ শতাংশ ব্যাংক নজরদারির অভাব ও দ্রুত লেনদেনকে অর্থপাচারে দায়ী করেছে।
এ সময় ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, এজেন্ট নির্বাচনের সময় ব্যাংকগুলোকে আরও সতর্ক হতে হবে। এজেন্ট নিয়োগ নিয়ে ব্যাংকগুলোর মধ্যে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিষেধক ব্যবস্থা নিতে হবে। সাইবার হামলা ঠেকাতে সচেতন হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
সাউথইস্ট ব্যাংকের যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম মাইনুদ্দীন চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তিগত সমস্যা প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সমাধানেরই প্রয়োজন। অর্থপাচার প্রতিরোধে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি ক্যাশলেস ইকোসিস্টেমের মধ্যে চলে আসা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ বলেন, ব্যাংকগুলো প্রযুক্তিগত বিষয়ে নিজস্ব জনবল কম। তারা এ বিষয়ে ভেন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। নিজস্ব জনবল প্রযুক্তিতে দক্ষ না হলে ব্যাংকের ব্যবসা কমবে। এজন্য নিজস্ব জনবল বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। আইপে সিস্টেম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জাকারিয়া স্বপন বলেন, বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ-রকেট) প্রতিষ্ঠানে মধ্যে লেনদেন চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।
এ সময় বিআইবিএমের মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী, বিআইবিএমের অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা, ড. শাহ মো. আহসান হাবিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।