সারা বাংলা

আইনি সহায়তা না নেওয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে না ব্যবসায়ী ও সেবা সংস্থাগুলোর

চবিতে ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সেমিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: ভোক্তা হিসেবে প্রতিনিয়তই জনগণ ভোগান্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অনেকেই একে নিয়তির নিয়ম হিসেবে মেনে নিচ্ছে। অনেক ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আইনি সহায়তা নিতে আগ্রহী না হয়ে নিষ্ক্রিয় থেকে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ী ও সরকারি সেবা সংস্থাগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবতিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে না। অনেকেই জানেন না ভোক্তা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভোগান্তির শিকার হলে একজন ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ ও প্রতারিত হলে সরাসরি অতি সহজে বিনা কোর্ট ফি ও অ্যাডভোকেট নিযুক্তি ছাড়াই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অভিযোগ দাখিল করে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পাবেন।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের একে খান মিলনায়তনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর অধীনে অভিযোগ দাখিল ও নিষ্পত্তি নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
বক্তারা বলেন, অনেকেই জানেন না ভোক্তা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভোগান্তির শিকার হলে একজন ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ ও প্রতারিত হলে সরাসরি অতি সহজে বিনা কোর্ট ফি ও অ্যাডভোকেট নিযুক্তি ছাড়াই মোবাইল ফোন, ফেসবুক, ইন্টারনেট, চিঠির মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ আইনে অভিযোগ দাখিল করে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে জরিমানারও ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পাবেন।
প্রতি সপ্তাহে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ে গণশুণানি ও মাঠপর্যায়ে বাজার অভিযানের মাধ্যমে অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ জনগণ ও ভোক্তারা এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় সরকারের এ যুগান্তকারী উদ্যোগ থেকে তেমন সুবিধা পাচ্ছে না।
তাই ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে এ যুগান্তকারী আইন ও সুযোগ সম্পর্কে সর্বসাধারণকে জানানোর জন্য ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আর খাদ্যে ভেজালের মতো বিষয়গুলো নীরব ঘাতক। খাদ্য ও ওষুধে ভেজালের কারণে মানুষ ধুকে ধুকে মরবে। যা মানুষ খুনের চেয়েও ভয়াবহ। সে কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশোধনী এনে খাদ্য ও ওষুধে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, আর্থিক লেনদেন এ আইনে প্রতিকার যুক্ত করা দরকার।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজেদা আকতার, ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিফতরের সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ আহসান খালিদ ও ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী।
আলোচনায় অংশ নেন ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী কেএনএম রিয়াদ, যুব গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নিপা দাস, ক্যাব ফিল্ড অফিসার শম্পাকে নাহার ও জেডএইচ শিহাব প্রমুখ। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন মুনতাসিরুল আলম, তুলাচিং মার্মা, ফাহিদা আকতার মজুমদার, অনিক দাস, হামিম আল সাদাত, দ্রুপদি, মুমতাহিম ইসলাম তানজীল, ফাতিমা আল শাহারা আসহান রাইসা, তানভীর কায়সার অনিন্দ, আনিকা আনতারা রিয়া প্রমুখ।

সর্বশেষ..



/* ]]> */