মার্কেটওয়াচ

আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যান ইনসাইডার ট্রেডাররা

পুঁজিবাজারের বড় সমস্যা হচ্ছে ইনসাইডার ট্রেডিং। এটি বাজারে প্রকটভাবে দেখা যায়। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে বেশিরভাগ কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং ওই কোম্পানির অডিটর জড়িত থাকেন। যদিও আইনে রয়েছে, কোম্পানির কোনো প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার দুই মাস আগে উদ্যোক্তা বা পরিচালক শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন না। কিন্তু তারা তথ্যগুলো আগে থেকেই জেনে যাওয়ায় হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দেন। এ বিষয়ে আইন আছে ঠিকই; কিন্তু আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছেন তারা। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জহিরুল ইসলাম ও ৭১ টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর কাজী আজিজুল ইসলাম।
ড. জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এ বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাশিত নয়। অর্থাৎ পুঁজিবাজারের জন্য যেটি আশা করেছিলাম, সেটি হয়নি। দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু পুঁজিবাজারে আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। কেন জানি মনে হচ্ছে, বিভিন্ন মহল থেকে ক্যাপিটাল মার্কেটকে চেপে ধরার চেষ্টা চলছে। আবার অনেকে বাজেটে পুঁজিবাজারে যে প্রণোদনা দিয়েছে, সেটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কেন তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেনÑসেটি বুঝতে পারছি না। পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বাজেটে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে দুটি বিষয় দুঃখজনক। রিটেইনড আর্নিংস ও বোনাস শেয়ারে কর ধার্য করা হয়েছে। কতবার কোম্পানির ওপর কর ধার্য করা হবে? যদি সেটি করা হয়, সেক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপ পড়বে। যদি রিটেইনড আর্নিংস ও বোনাস শেয়ারে কর ধরা হয়, সেক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর গ্রোথ হবে কীভাবে? এ বিষয় দুটি সরকারের বিবেচনা করা প্রয়োজন। তা না হলে বাজার উন্নয়ন করা বা সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া কষ্টকর হবে এবং নতুন কোম্পানি বাজারে অন্তর্ভুক্ত হবে না।
তিনি আরও বলেন, যে দেশের পুঁজিবাজার যত উন্নত, সে দেশের অর্থনীতি তত উন্নত। তাই দেশের পুঁজিবাজার উন্নত করতে না পারলে কীভাবে দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে এবং আমরা কীভাবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হব। আবার পুঁজিবাজারের বড় সমস্যা হচ্ছে ইনসাইডার ট্রেডিং। এটি বাজারে প্রকটভাবে দেখা যায়। ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের সঙ্গে বেশিরভাগ কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং ওই কোম্পানির অডিটর জড়িত থাকেন। যদিও আইনে রয়েছে, কোম্পানির কোনো প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার দুই মাস আগে উদ্যোক্তা বা পরিচালক শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন না। কিন্তু তারা তথ্যগুলো আগে থেকেই জেনে যাওয়ায় হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দেন। অন্য দেশের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, আইনের আওতায় এনে ইনসাইডার ট্রেডিংকারীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। আমাদের দেশে এ বিষয়ে আইন আছে ঠিকই; কিন্তু আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছেনতারা। জবাবদিহি বা স্বচ্ছতা না থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে না।
কাজী আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে;কিন্তু পুঁজিবাজার বিপরীতমুখী হচ্ছে। আবার অনেক বিনিয়োগকারী বাজার নিয়ে হতাশাগ্রস্ত। অন্যদিকে বাজারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এটি তো হতে পারে না। এটি বিশ্বের কোনো দেশে নেই। এ বিষয়গুলো আগে সমাধা করতে হবে। যেখানে পুঁজিবাজার সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা, সেখানে এ নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্ধবছরে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর রিটেইনড আর্নিংস ও বোনাস শেয়ারের ওপর বাড়তি কর ধার্য করায় বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বহুজাতিক কোম্পানি অনেক রয়েছে এবং এর মধ্যে জাপানি কোম্পানি রয়েছে ২০০’র বেশি। এখনও পুঁজিবাজারে দুই হাজার কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। যে কোনোভাবে উদ্যোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি মিলে যদি ৫০০ কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে বাজার এমনিতেই পরিবর্তন হয়ে যাবে। এখন অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন অর্থনীতির সঙ্গে সমান্তরাল গতিতে পুঁজিবাজারও এগিয়ে যাবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..