মার্কেটওয়াচ

আইনের শাসন বাস্তবায়নেই জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সম্ভব

দেশের অর্থনীতিতে জিডিপি’র গ্রোথ ও মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু পরিবেশগত কিছু বিষয়ে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বিশেষ করে ওয়াসা, তিতাস ও পিডিবির সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে, যেমন জলাবদ্ধতা, সামান্য বৃষ্টি এলে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়া এবং ড্রেনগুলো ময়লায় আটকে যাওয়া। এর ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ও মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে। আসলে এখানে আইনের শাসন সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। আইনের শাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তখনই বলা যাবে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।
হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ছিলেন আইসিএবি কাউন্সিল সদস্য সাব্বির আহমেদ, এফসিএ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মো. শাহাদাৎ হোসেন, এফসিএ।
সাব্বির আহমেদ বলেন, অর্থনীতির বেশকিছু সূচক ইতিবাচক এবং সেগুলোর ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু এখনও দেশের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহনসেবা, খাদ্য ও বয়স্ক ভাতা প্রভৃতি বিষয়য়ে সেবার মান অনেক নিচে। বিশেষ করে ৩০০ কিলোমিটার পথ যেতে সময় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৪ ঘণ্টা এবং ১০ কিলোমিটার পথ যেতে সময় ব্যয় হচ্ছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। অন্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে তাদের পরিবহনসেবা আমাদের দেশের চেয়ে অনেক উন্নত। দেশের অর্থনীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে এ বিষয়গুলো উন্নত করতে হবে।
মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আয়, পরিবেশ, আইনের শাসন প্রভৃতি বিষয়ের সমন্বয়ের ওপর একটি মানুষের সুন্দর জীবনযাপন নির্ভর করে। অনেক অর্থ আছে, কিন্তু ভালো পরিবেশ নেই; আবার আইন আছে, কিন্তু আইনের শাসনের সঠিক বাস্তবায়ন যদি না থাকে, সেক্ষেত্রে দেশের মানুষের সুন্দর জীবনযাপন বা উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের অর্থনীতিতে জিডিপি’র গ্রোথ ও মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু পরিবেশগত কিছু বিষয়ে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। বিশেষ করে ওয়াসা, তিতাস ও পিডিবির সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে, যেমন জলাবদ্ধতা, সামান্য বৃষ্টি এলে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়া এবং ড্রেনগুলো ময়লায় আটকে যাওয়া। এর ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তারা বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে। আসলে এখানে আইনের শাসন সঠিকভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। যদি আইনের শাসন প্রত্যেকটি বিভাগে সঠিকভাবে কার্যকর থাকত, তাহলে এ রকম অবস্থা হতো না। তাই আইনের শাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মানুষের সার্বিক জীবনযাপনে উন্নয়ন হবে, অর্থাৎ তখনই বলা যাবে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন বলতে সামগ্রিক বিষয়ের উন্নয়নকে বোঝায়। অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, পরিবেশ প্রভৃতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি ব্যবসা করতে গিয়ে সে ব্যবসায় লাভ হলে সেটি অর্থনীতির উন্নয়ন হলো। এখন কথা হচ্ছে, ব্যবসা করতে হলে কিছু নিয়ম-কানুন পালন করতে হবে। যেমন চালের ব্যবসা করতে গিয়ে চালে ভেজাল দিয়ে অধিক মুনাফা এবং দুধে ভেজাল দিয়ে অধিক মুনাফা, অর্থাৎ এ লাভ বা মুনাফা অর্থনীতির উন্নয়নে যোগ হলেও টেকসই উন্নয়ন নয়। তেমনই শিক্ষা খাতে সঠিকভাবে শিক্ষাদান না করলে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আবার দেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। কিন্তু এবার বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র চার দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। প্রতিবছর এজন্য সুদ দিতে হচ্ছে মোট বাজেটের ১১ শতাংশ। আসলে এখানে অনেক ব্যবধান রয়ে গেছে। তাই একটি ছোট ব্যবসা করতে গেলে তার যেমন নৈতিকতা থাকতে হবে, তেমনই সরকারে যারা নীতিনির্ধারণ করেন, তাদের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..