আইন মানছে না চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সমিতি

অনুসন্ধানে নেমেছে প্রতিযোগিতা কমিশন

জাকারিয়া পলাশ : দেশে প্রচলিত প্রতিযোগিতা আইন না মানার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম কাস্টমসের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সমিতির বিরুদ্ধে। বন্দরে বিভিন্ন ধরনের সিঅ্যান্ডএফ সেবার ন্যূনতম কমিশন হার ও টেন্ডারের মূল্য সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে সমিতি, যা প্রতিযোগিতা আইনের পরিপন্থি। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনে (সিসিবি) অভিযোগ দায়ের করেছে সমিতির একটি সদস্য প্রতিষ্ঠান। অভিযোগের অনুসন্ধান করছে সরকারি এ সংস্থাটি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস সমিতির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করে একটি সদস্য প্রতিষ্ঠান। প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগে দাবি করে, যেকোনো সিঅ্যান্ডএফ সেবার কমিশন ও টেন্ডারের সর্বনি¤œ মূল্য সমিতির পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এটি প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসার পরিবেশের বিরোধী। কমিশন হার কী হবে, সেটা নির্ধারণ করবে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সমিতির এ ধরনের নির্দেশনা সে পরিবেশ বিঘিœত করছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিযোগিতা কমিশনের তদন্ত ও অনুসন্ধান ইউনিট অনুসন্ধান শুরু করেছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সমিতির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তাতে অভিযুক্ত সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘সদস্যদের অসম প্রতিযোগিতা থেকে বিরত রেখে ব্যবসায়িক স্বার্থ সুরক্ষায় সাধারণ সভার অনুমোদনক্রমে কমিশনের নি¤œতম হার ও টেন্ডার-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।’ এ-সংক্রান্ত নির্ধারিত কমিশন হারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমোদন রয়েছে বলেও সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানা নেই বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সমিতির সভাপতি একেএম আকতার হোসেন। তিনি শেয়ার বিজকে মুঠোফোনে জানান, ‘না জেনে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া প্রতিযোগিতা কমিশন কী সে বিষয়েও আমার কোনো ধারণা নেই।’

এদিকে অভিযুক্ত সংগঠনের সিদ্ধান্তের পক্ষে এনবিআরের অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য এনবিআরকে পত্র দিয়েছে সিসিবি। এনবিআরে দেওয়া ওই পত্রে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের দাবির যথার্থতা জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই পত্রে বলা হয়, এনবিআরের ১৯৯৩ সালের ১৮ জুনের এক পত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন প্রতিযোগিতাবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমিত হয়। বিষয়টি প্রতিযোগিতা আইনের (২০১২) ১৫ ধারার লঙ্ঘন কি না, সে বিষয়ে অনুসন্ধানের আগে কিছু বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এ নিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান এবং এনবিআর প্রতিনিধিসহ স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অনুরোধে এ শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. ইকবাল করিম চৌধুরী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিযোগিতাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সুষম প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিযোগিতা কমিশন নিয়মানুসারে কাজ করবে।’

এদিকে এ-সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করলেও প্রতিযোগিতা কমিশন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুরোপুরি সক্ষম নয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংস্থাটি গঠিত হয়েছে মাত্র দু’বছর হলো। ফলে এটি এখনও পুরোপুরি কাঠামোবদ্ধ হয়ে উঠতে পারেনি। তাই এ পর্যায়ে কমিশনের পক্ষ অভিযোগ তদন্ত ও অনুসন্ধান করা সম্ভব, কিন্তু এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ভূমিকা নেওয়া এখনই সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠান পুনর্ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করবে। জানা গেছে, প্রতিযোগিতা কমিশনের এই সীমাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে একই অভিযোগে আদালতে একটি রিট (নম্বর: ১৬৬০৫/২০১৭) আবেদন করেছে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সমিতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি স্থাগিতাদেশ রয়েছে বলেও জানা গেছে। ফলে বিষয়টি প্রতিযোগিতা কমিশনে অনুসন্ধানের পাশাপাশি আদালতেও বিচারাধীন রয়েছে।