প্রচ্ছদ শেষ পাতা

আইপিও ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে বিএসইসি

বাড়বে ভালো শেয়ারের জোগান

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: বিগত কয়েক বছরে পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির সংখ্যা বেড়েছে। বেশিরভাগ কোম্পানিই পুঁজিবাজারে এসে ভালো করতে পারেনি। উল্টো কিছু কোম্পানির অবস্থান হয়েছে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে। যে কারণে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফলে নড়েচড়ে বসেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তাব্যক্তিরা। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তারা।
এদিকে বিএসইসির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সংস্থাটির এমন সিদ্ধান্ত বাজারে ভালো শেয়ারের জোগান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
বিনিয়োগকারীদের আবেদন ৬৫ শতাংশের কম এবং যোগ্য বিনিয়োগকারীর কোটায় সব শেয়ার বিক্রি না হলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০১৫-এর খসড়া সংশোধনীতে এ নিয়ম করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জনমত জরিপের জন্য খসড়া সংশোধনীটি বিএসইসি প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আবেদন ৬৫ শতাংশের কম জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট আইপিও বাতিল হবে। আর ৬৫ শতাংশ বা এর বেশি আবেদন জমা পড়লে বাকি শেয়ার আন্ডাররাইটার নেবে। অন্যদিকে যোগ্য বিনিয়োগকারীর কোটায় সব শেয়ার বিক্রি না হলে আইপিও বাতিল হবে। এদিকে কোটা সুবিধা নিতে হলে সেকেন্ডারি বাজারে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিয়োগ থাকতে হবে। সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের পরিমাণ কত হবে, তা কমিশন প্রতিটি পাবলিক ইস্যুর সম্মতিপত্রে উল্লেখ করে দেবে। এছাড়া আইপিওর আগে ইস্যু করা মূলধন পুরোপুরি ব্যবহার না করে পাবলিক ইস্যুর আবেদন করা যাবে না।
অন্যদিকে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে অভিহিত মূল্যের আইপিওর ক্ষেত্রে পাবলিক ইস্যুর পরিমাণ হবে ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা। একইভাবে বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ হবে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা। এতে আরও বলা হয়, বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের কোটা বিডিংয়ের মাধ্যমে পুরোপুরি বিক্রি না হলে সেই আইপিও বাতিল হয়ে যাবে। পাবলিক ইস্যু তালিকাভুক্তির আবেদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে পাবলিক ইস্যু রুলস বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন কিংবা অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড না মেনে থাকলে এ বিষয়ে কমিশনের কাছে মতামত পাঠাতে হবে। এ সময়ের মধ্যে মতামত না পাঠালে এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো মতামত নেই বলে ধরে নেওয়া হবে। বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিং চলাকালে বিডারদের নাম কিংবা তাদের প্রস্তাবিত দর প্রদর্শন করা যাবে না।
এদিকে আইপিওর ক্ষেত্রে যোগ হচ্ছে ডাচ নিলাম পদ্ধতি। বুক বিল্ডিংয়ের এই পদ্ধতির মাধ্যমে পাবলিক ইস্যুর বিডিংয়ের বিডাররা যে মূল্যে যে পরিমাণ শেয়ার বিড করবেন তাদের সেই মূল্যে সেই পরিমাণ শেয়ার কিনতে হবে। এতে কারসাজি কমবে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে অভিহিত মূল্যে পাবলিক ইস্যুর ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বিদ্যমান কোটা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশ হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের (এনআরবি ব্যতীত) কোটা ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়াবে। অন্যদিকে বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বিদ্যমান কোটা ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৫০ শতাংশ হবে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিদ্যমান কোটা ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশে দাঁড়াবে।
বিষয়টি নিয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, বিএসইসির এই সিদ্ধান্ত একটি ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারে ভালো ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে। এতে বাজারের গভীরতা বাড়বে। পাশাপাশি বাজারে ভালো শেয়ারের জোগান বাড়বে।
একই প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ অন্যরাও কীভাবে বাজার ভালো করা যায় তা নিয়ে কাজ করছেন। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ তারই একটি অংশ। আশা করি বিনিয়োগকারীরা এর সুফল ভোগ করবেন।

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */