আকিজ এস আলমসহ ১১ কোম্পানির পণ্য মানহীন

সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারী কোম্পানির নমুনা যাচাই করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এতে আকিজ ও এস আলম গ্রুপের একটি করে প্রতিষ্ঠানসহ ১১ কোম্পানির ১৫টি খাদ্য ও পানীয় যথাযথ মানের নয় বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ২১টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আকস্মিক মান যাচাই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেওয়া হয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এতে বক্তব্য রাখেন। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালনরত মো. দাবিরুল ইসলাম, বিএসটিআই’র মহাপরিচালক সরদার আবুল কালাম, পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এসএম ইসাহাক আলীসহ শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিএসটিআই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে নির্ভেজাল খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইফতার ও সাহরিতে অধিক পরিমাণে ব্যবহƒত ২৪ ধরনের খাদ্যপণ্যের মোট ২৮৬টি নমুনা আগাম সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে বিএসটিআই’র পরীক্ষাগারে সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭৫টি নমুনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩৯টি নমুনা কৃতকার্য এবং ৩৬টি নমুনা অকৃতকার্য হয়েছে। বাকি ১১১টি পরীক্ষাধীন রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের নমুনা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এ সময় বিএসটিআই’র পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এসএম ইসাহাক আলী মান যাচাই পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর নাম তুলে ধরেন। মানহীন এসব পণ্য হচ্ছে: আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ফার্ম ফ্রেশ মিল্ক (পাস্তুরিত দুধ), ড্যানিশ লাচ্ছা সেমাই, বগুড়া স্পেশাল ঘি, অরিজিনাল বাঘাবাড়ি ঘি, আফতাব মিল্ক, ঢাকা প্রাইম পাস্তুরিত দুধ।
এতে চট্টগ্রামের এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের ফার্টিফাইড সয়াবিন তেল কোড-জি, ফার্টিফাইড পাম অলিন কোড-এইচ, ফার্টিফাইড সয়াবিন তেল কোড-আই, ফার্টিফাইড পাম অলিন কোড-জে অকৃতকার্য বলে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শবনম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের ফার্টিফাইড সয়াবিন তেল কোড-ডি, ভিওটিটি অয়েল রিফাইনারিজ লিমিটেডের ফার্টিফাইড সয়াবিন তেল ও ফার্টিফাইড পাম অলিন, বে ফিশিং করপোরেশনের ফার্টিফাইড সয়াবিন তেল এবং মারবিন ভেজিটেবল অয়েলের ফার্টিফাইড সয়াবিন তেল মান পরীক্ষায় অকৃতকার্য বলে জানা গেছে।
এছাড়া ২১টি কারখানায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে সেসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের মান ঠিক নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেগুলো হলো: পুরানা পল্টনের রাজীব এন্টারপ্রাইজ, মতিঝিলের আল হেরা এন্টারপ্রাইজ, মিরপুরের ঢাকা ওয়াসা, মিরপুরের এনএম এন্টারপ্রাইজ, বাড্ডার এ ওয়ান ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, তেজগাঁওয়ের সমকাল ক্যান্টিন, তেজগাঁওয়ের ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস ক্যান্টিন, গুলশান-১-এর লাইটিং প্যালেস, গুলশান-২-এর আল নূর রেস্তোরাঁ, বারিধারার মিতু-মুক্তা হোটেল, বাড্ডার নীল ফাস্টফুড অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, গুলশানের মেজবান রেস্টুরেন্ট, শেরেবাংলা নগরের শিউলি হোটেল, তেজগাঁওয়ের বধূয়া হোটেল অ্যান্ড সুইটস, মালিবাগের ইউনিক ফাস্টফুড, তেজগাঁওয়ের অন্তর ড্রিংকিং ওয়াটার, তেজগাঁওয়ের ফেইথ ড্রিংকিং ওয়াটার, দক্ষিণখানের এক্সিম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, মিরপুর-২-এর মাশাল্লা হেলথ ডেভেলপমেন্ট কোং, মর্নডিউ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার ও রাজারবাগের নীলগিরি মার্কেটিং কোং।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর রমজান মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ভেজালমুক্ত খাদ্য-পানীয় ও পণ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিতে নিয়মিত ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনায় তার তথ্য প্রকাশ করে বিএসটিআই ও শিল্প মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রী জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মুড়ি, কলা, খেজুর, আম, সফ্ট ড্রিংক পাউডার, কার্বোনেটেড বেভারেজ, ফ্রুট সিরাপ, ফ্রুট জুস বা ফ্রুট ড্রিংকস, ভোজ্যতেল, সরষের তেল, ঘি, পাস্তুরিত দুধ, নুডুলস, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস, লাচ্ছা সেমাই, সেমাই, পানি, ডেক্সট্রোজ মনোহাইড্রেট প্রভৃতির ওপর বিশেষভাবে নজর রাখা হবে।