আগামী মাসে গঠিত হচ্ছে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির বাজার

সব কার্যক্রম চূড়ান্ত

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: আগামী মাসে তৈরি হতে যাচ্ছে স্বল্প মূলধনি বা স্মলক্যাপ কোম্পানি নিয়ে আলাদা বাজার। এই বাজারে শেয়ার কিনতে পারবে ‘যোগ্য বিনিয়োগকারীরা’। যাদের উচ্চ সম্পদ রয়েছে, শুধু তারাই (কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর) লেনদেন করতে পারবেন। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এই মার্কেট তৈরিতে যাবতীয় কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই এর অগ্রযাত্রা শুরু হবে।
জানা গেছে, নতুন প্ল্যাটফর্মে কোম্পানির লেনদেনে ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, স্মলক্যাপ বোর্ড গঠন, মার্কেট মেকার ও প্রয়োজনীয় আইনকানুন ঠিক করছে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে যোগ্য বিনিয়োগ অফারের (কিউআইও) মাধ্যমে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির মূলধন উত্তোলনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইন প্রণয়ন করেছে। খসড়া প্রকাশের পর জনসাধারণের মতামত গ্রহণের জন্য আইনটির গেজেট প্রকাশসহ অন্যান্য কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, এই মার্কেট তৈরি করার জন্য আমরা অনেক দিন থেকে কাজ করছি। ইতোমধ্যে প্রায় সব কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আশা করছি শিগগির আমরা এই মার্কেট চালু করতে পারব। বিএসইসির অন্য একটি সূত্র জানায়, ঈদের আগে বা পরে যে কোনো সময় এই মার্কেট চালু হতে পারে। এর জন্য দুই মাসের বেশি সময় লাগবে না।
এই মার্কেটে লেনদেন করতে পারবে এমন যোগ্য বিনিয়োগকারীর তালিকায় রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও সিআইএস, স্টক ডিলার, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইন্স্যুরেন্স, বিকল্প বিনিয়োগ ফান্ড ম্যানেজার, বিকল্প বিনিয়োগ ফান্ড, স্বীকৃত পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ড, কমিশন নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান ও উচ্চ সম্পদধারী বাংলাদেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজারে যাদের বিনিয়োগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রচলিত সেকেন্ডারি মার্কেটের তুলনায় এই বাজার স্থিতিশীল হবে। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ সম্পদধারী ব্যক্তিরাই এখানে লেনদেন করতে পারবে, যাদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে বিস্তর ধারণা ও জ্ঞান আছে। বিনিয়োগ ও ঝুঁকির বিষয়েও সম্যক ধারণা রয়েছে।
জানতে চাইলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, স্বল্প মূলধনি মার্কেট চালু করার জন্য আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিএসইসি থেকে প্রপোজাল পেলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারব। আশা করছি জুন মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে।
পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির পৃথক বাজার চালু করতে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের ২ জানুয়ারি স্মলক্যাপ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। এই সিদ্ধান্তের পর স্বল্প মূলধনি কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও ট্রেডিং করতে ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) স্বল্প মূলধনি প্ল্যাটফর্ম (স্মল ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পর উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কাজ শুরু করে।
স্বল্প মূলধনি কোম্পানি আইন অনুযায়ী মূল বাজারের মতোই ফিক্সড প্রাইস ও বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে মূলধন উত্তোলন করতে পারবে। কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) কমপক্ষে সর্বনি¤œ পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি কোম্পানি মূলধন উত্তোলন করতে পারবে।
এদিকে স্বল্পমূলধনি কোম্পানির বাজার ছোট ছোট কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ তৈরি করে দেবে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসতে চায়, কিন্তু তাদের মূলধন কম থাকায় তারা বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে না।