আজ পবিত্র হজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ইচ্ছা করা’। ইসলাম ধর্মের পাঁচ স্তম্ভের একটি হচ্ছে হজ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬৪টির বেশি দেশ থেকে এবার ২০ লাখের বেশি মুসল্লি হজ পালন করছেন। বাংলাদেশ থেকে গেছেন প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার। সবাই আজ সমবেত হবেন আরাফাতের ময়দানে। কারণ আজ সোমবার পবিত্র হজ।
‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক।’ অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ এ ধ্বনিতে আজ মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।
তালবিয়া পাঠ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে পাপ মুক্তির আকুল বাসনায় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান আজ মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে থাকবেন। কেউ পাহাড়ের কাছে, কেউ সুবিধাজনক জায়গায় বসে ইবাদত করবেন। এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর ইমাম শেখ হুসেইন বিন আবদুল আজিজ। এ খুতবা রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে বিশ্বময়।
হজ ভিসা নিয়ে যারা সৌদি আরবে গিয়ে অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে স্বল্প সময়ের জন্য আনা হবে। কারণ, আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়া হজের অন্যতম ফরজ। এর আগে পবিত্র হজ পালন করতে গত শনিবার সারা বিশ্বের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান কেউ গাড়িতে বা হেঁটে মিনায় পৌঁছান।
আজ আরাফাতের ময়দানে খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে মুজদালিফায় গিয়ে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। রাতে সেখানে অবস্থান করবেন খোলা আকাশের নিচে। শয়তানের প্রতিকৃতিতে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকে।
উল্লেখ্য, ‘আরাফাহ’ এবং ‘আরাফাত’ এ দুটি শব্দই আরবিতে প্রচলিত। আরাফাতের ময়দানটি দুই মাইল দীর্ঘ ও দুই মাইল প্রশস্ত এক বিশাল সমতল মাঠ। এর দক্ষিণ পাশে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড। এ রোডের দক্ষিণ পাশে আবেদি উপত্যকায় মক্কার উম্মুল কুরআ বিশ্ববিদ্যালয়। আরাফাতের উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরও এক হাজার মিটার বিস্তৃত।
মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আদি পিতা আদম ও আদি মাতা হাওয়া পৃথিবীতে পুনর্মিলনের পর এ আরাফাতের ময়দানে এসে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। ১৪০০ বছরের বেশি সময় আগে এখানেই ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দিয়েছিলেন তার বিদায় হজের ভাষণ।
ইসলামী রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হলো হজ। এর পর আগামীকাল মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে হাজিরা কেউ ট্রেনে, কেউ গাড়িতে, কেউ হেঁটে মিনায় যাবেন এবং নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরবেন। মিনায় শয়তানকে পাথর মারার পর পশু কোরবানি দিয়ে মাথার চুল মুড়িয়ে বা ছেঁটে ছোট করে গোসল করবেন। সেলাইবিহীন দুই টুকরা কাপড় বদল করবেন। এরপর স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় ‘সাঈ’ (সাতবার দৌড়াবেন) করবেন। সেখান থেকে তারা আবার মিনায় যাবেন। মিনার কাজ শেষে আবার মক্কায় বিদায়ী তাওয়াফ করার পর নিজ নিজ দেশে ফিরবেন। যারা হজের আগে মদিনায় যাননি, তারা মদিনায় যাবেন।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি গত শনিবার মিনায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এবার হজে আসা মানুষের সংখ্যা সব মিলিয়ে ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তারা যাতে নির্বিঘেœ সুষ্ঠুভাবে হজ সম্পন্ন করতে পারেন, সে জন্য সব প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছে।
আরব নিউজ জানিয়েছে, হজে আসা মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য মক্কার চারপাশে ছয়টি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে। সেখানে অনুমতিপত্র পরীক্ষা করে তারপর সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। যাতায়াতের সুবিধার জন্য ব্যবহƒত হচ্ছে ২১ হাজার বাস। এ পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সৌদি সরকারের এক হাজার ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি নারী-পুরুষ মিলিয়ে এক হাজার ৪৮৫ জন স্বেচ্ছাসেবী।