আতঙ্কে জাঙ্ক শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

রুবাইয়াত রিক্তা: সপ্তাহের প্রথম দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে গতিশীল অবস্থানের দিকে যাচ্ছে। এর প্রমাণ গতকাল ৫০ শতাংশ শেয়ারের দরপতন এবং ৪২ শতাংশ শেয়ারদর বাড়ার পরও সূচক ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। অর্থাৎ গতকাল ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারদর অধিকতর ইতিবাচক ছিল। অন্যদিকে ডিএসইর দরপতনের শীর্ষ তালিকায় অবস্থান করতে দেখা যায় ইমাম বাটন, সাভার রিফ্রাক্টরিজ, ইউনাইটেড এয়ার, জুট স্পিনার্স, মেঘনা পেট, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, দুলামিয়া কটন, শ্যামপুর সুগার মিল, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ও ঢাকা ডায়িংকে। সব কোম্পানি জেড ক্যাটেগরির। এসব কোম্পানির দর প্রায় ১০ শতাংশ হারে কমেছে। অথচ কিছুদিন আগেও এসব কোম্পানিকে দরবৃদ্ধির শীর্ষ পর্যায়ে থাকতে দেখা যেত। কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই প্রায়ই এসব কোম্পানির দর ১০ শতাংশ হারে বাড়তেও দেখা যেত। সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুটি উৎপাদনহীন কোম্পানিকে ডিএসই থেকে তালিকাচ্যুত করে। এর ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এ ধরনের দুর্বল কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এত দিনে একটি যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। বাজারকে গতিশীল অবস্থানে নিতে হলে তাদের এই কঠোর অবস্থান ধরে রাখতে হবে।
গতকাল এককভাবে বাজারে নেতৃত্ব দেয় প্রকৌশল খাত। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ২৯ শতাংশ বা ৩০০ কোটি টাকা। এ খাতের ৬৬ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। নাহি অ্যালুমিনিয়াম, এস আলম কোল্ড রোল্ড, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ ও আফতাব অটো দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে। এসব কোম্পানির দর প্রায় ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে। এছাড়া বিবিএস কেব্লসের ৪১ কোটি, ইফাদ অটোসের ৪০ কোটি, নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ২৬ কোটি, কেডিএস এক্সেসরিজের সাড়ে ২২ কোটি ও নাভানা সিএনজির সাড়ে ১৯ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। এরপর বস্ত্র খাতে লেনদেন হয় ১৩ শতাংশ। এ খাতে ৪০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। ড্রাগন সোয়েটারের সাড়ে ১৯ কোটি ও শাশা ডেনিমসের ১৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়। ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন হয় ১২ শতাংশ। এ খাতে ৬৫ শতাংশ শেয়ারদর বেড়েছে। এএফসি এগ্রো, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল ও অ্যাকটিভ ফাইন প্রায় ১০ শতাংশ করে বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। অ্যাকটিভ ফাইনের ১৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে না হলেও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫৩ শতাংশ, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ৭৫ শতাংশ, বিবিধ খাতে ৬২ শতাংশ, সিমেন্ট খাতে ৮৬ শতাংশ এবং সেবা ও আবাসন খাতে শতভাগ শেয়ারদর ইতিবাচক ছিল। পাট খাত শতভাগ নেতিবাচক অবস্থানে ছিল।