সম্পাদকীয়

আদালতের নির্দেশমতো মশা নিধনে ব্যবস্থা নিন

রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। ইতোমধ্যে রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ছুঁয়েছে। সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন। মশারি টানিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে, লোশন ব্যবহার করে, নর্দমায় গাপটি মাছ ছেড়ে এবং ওষুধ ছিটিয়েও রক্ষা হচ্ছে না। অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে নিন্মবিত্ত বস্তি এলাকা সবখানেই মানুষ অতিষ্ঠ মশার উপদ্রবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ করেছে মশা নিধনে। অ্যাম্বাসেডরদের সবাই তাদের নিজ এলাকার নাগরিক। তবে রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকের ধারণা, মশা নিধনে কর্তৃপক্ষের নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর উচ্চ আদালতকেও বিচলিত করেছে। স্বপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজধানীর দুই মেয়রদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের এ নির্দেশ পরিপালনে সংশ্লিষ্টরা কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলেই প্রত্যাশা।
বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আদালত বলেছেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রতিনিয়ত ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে একশ’রও বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও তার সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে; কেবল এমন গুটিকয়েক স্থানে মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। তাছাড়া ছিটানো ওষুধের কার্যকারিতাও তেমন নেই। ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নিন্মমানের কীটনাশকই কেনা হচ্ছে, যেগুলো মশা নিধনে মোটেও সক্ষম নয় বলে অভিযোগ উঠছে। আবার বাজারে ব্রিক্রি হওয়া মশার কয়েলের বেশিরভাগের মধ্যেই মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। তাই বলা যায়, মশা তাড়াতে গিয়েও মানুষ ক্ষতিরই শিকার হচ্ছেন।
সিটি করপোরেশনের দিকে চেয়ে না থেকে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। মশা নিধনের চেষ্টার সঙ্গে মশার উৎপত্তিস্থল, বংশবিস্তার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এখন কমবেশি সবাই জানেন মশার আবাস ও বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে। তবে দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। কেবল সংবাদ সম্মেলন না করে প্রত্যেক এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা গেলে নগরবাসী স্বস্তি ও নিরাপদ পরিবেশ পাবে। তাহলে মশা নিধন বিষয়ে উচ্চ আদালতকে নতুন কোনো নির্দেশ দিতে হবে না।

সর্বশেষ..



/* ]]> */