আদায়ে ঘাটতি সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা

চার মাসে রাজস্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছয়ের ঘরে নেমে এসেছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ শতাংশের বেশি। চার মাসে প্রবৃদ্ধি এত নিচে এনবিআরের ইতিহাসে নামেনি বলে জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। এতে চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আগে প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব ঘাটতি ছিল প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছর ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এনবিআরকে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। এর মধ্যে প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৮ হাজার ৯২৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ১২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ চার মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি ৯ লাখ টাকা।
চার মাসে ভ্যাট খাতে সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ৩১ হাজার ৯৫৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যার বিপরীতে সাত হাজার ৬৩৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে, যা এর আগে কখনও হয়নি। এর পরেই থাকা আমদানি-রফতানি পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা ২৫ হাজার ৮৭৯ কোটি ২৪ লাখ টাকার বিপরীতে পাঁচ হাজার ২৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে। আর আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার ৯৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার বিপরীতে তিন হাজার ৯১২ কোটি সাত লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, বিগত পাঁচ অর্থবছরে যেখানে এনবিআরের রাজস্ব আহরণে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, সেখানে চলতি অর্থবছর চার মাসে রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি মাত্র ছয় দশমিক ২৮ শতাংশ। অথচ ২০১৭-১৮ অর্থবছর একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছর প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল পাঁচ দশমিক ২২ শতাংশ। আর চার মাসে এক দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী হবে বলে জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার বিষয়ে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ার বিজকে বলেন, রাজস্ব ঘাটতির কারণ খোঁজার চেষ্টা করছি। আয়কর মেলা থেকে বেশ কিছু রাজস্ব এসেছে। এতে ঘাটতির পরিমাণ কিছুটা কমবে। আমদানি-রফতানির হার বেড়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে সবকিছু বেড়েছে। ঘাটতির কোনো কারণ নেই। তারপরও এনবিআর এ নিয়ে কাজ করছে।
রাজস্ব ঘাটতির বিষয়ে সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য কর্মকর্তারা চেষ্টা করছেন। ঘাটতি এত বেশি হবে না।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরের জন্য ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ভ্যাট খাতে ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা, আয়করে ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে এক লাখ দুই হাজার কোটি টাকা ও শুল্কে ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৮৪ হাজার কোটি টাকা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।