সুশিক্ষা

আধুনিক সুবিধাসংবলিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এগুলোর মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি (বিইউ)। বিস্তারিত তুলে ধরেছেন সোহেল আহসান নিপু

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের উত্তর পাশে ৫/বি বেড়িবাঁধ, মেইন রোড, আদাবর,মোহাম্মদপুরে অবস্থিত স্থায়ী ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির (বিইউ) শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া সংসদ ভবনের বিপরীতে মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউ ও ইকবাল রোডে অবস্থিত ক্যাম্পাসেও আংশিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুরুতে বিবিএ (ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ও সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগে ১৭ ছাত্রছাত্রী ও ১১ শিক্ষক ছিলেন।
আগামী নভেম্বরে ১৮ বছর পূর্ণ হবে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের। এখন তিনটি অনুষদ ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (এফএসইটি), ফ্যাকাল্টি অব আর্টস, সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ল’ (এফএএসএসএল) ও ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস (এফবিই) রয়েছে এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (এফএসইটি) অধীনে চার বছরের বিএসসি ইন সিএসসি, গণিত, ফার্মাসি, ইইই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) ও আর্কিটেকচারের ওপর বি.আর্ক ডিগ্রি দেওয়া হয়। ফ্যাকাল্টি অব আর্টস ও সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ল’র (এফএএসএসএল) অধীনে বিএ অনার্স (ইংরেজি), বিএসএস (সমাজবিজ্ঞান) ও এলএলবি অনার্স প্রোগ্রাম রয়েছে। এ অনুষদের অধীনে গ্র্যাজুয়েটদের এক বছরের ইংরেজিতে এমএ ও দুই বছরের এমএ (প্রিলি অ্যান্ড ফাইনাল), এক বছরের মাস্টার্স অব ল’ ও দুই বছরের মাস্টার্স অব ল’ ডিগ্রি দেওয়া হয়। ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের (এফবিই) অধীনে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), বিএসএস ইন ইকোনমিকস ডিগ্রি দেওয়া হয়। এছাড়া মাস্টার্স প্রোগ্রাম হিসেবে এক বছরের রেগুলার বা নিয়মিত এমবিএ, চাকরিজীবীদের এক বছরের এক্সিকিউটিভ এমবিএ ও বিবিএ সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে এমবিএ ডিগ্রি। অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, মার্কেটিং ও এইচআরএম মেজর হিসেবে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ছয় হাজার ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পূর্ণকালীন ১২৩ ও খণ্ডকালীন ২২ শিক্ষক রয়েছেন।
স্থায়ী ছাড়া মোহাম্মদপুরে তিনটি ক্যাম্পাস আছে। প্রতিটি ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর রয়েছে। সব ক্যাম্পাস শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ক্লাস শেষে শিক্ষকরা লেকচার শিট দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে গ্রুপ স্টাডির ওপর জোর দেওয়া হয়। ক্লাস প্রেজেন্টেশন করতে হয়। প্রতিটি বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই ‘ইংরেজি’, ‘কম্পিউটার’ ও ‘গণিত’ কোর্স করতে হয়। তিনটি অনুষদেই আলাদা কম্পিউটার ল্যাব আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা আচরণবিধি আছে। কারিকুলাম কমিটি দেশ-বিদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সংগতি রেখে নিয়মিত কারিকুলাম হালনাগাদ করে। কমিটিতে বিভাগীয় প্রধানরা তো থাকেনই, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরাও থাকেন। উল্লেখ্য, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিই প্রথম যেখানে কোডিং পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার সোহেল আহসান নিপু বলেন, শুধু মানসম্পন্ন শিক্ষাদানই নয়, আমরা ছাত্রছাত্রীদের কর্মক্ষেত্রের জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে শেষ সেমিস্টারের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এছাড়া বিভাগীয় প্রধানরা উদ্যোগী হয়ে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ইন্টার্নশিপের
ব্যবস্থা করেন। সর্বোপরি ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা গ্রহণে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ।

মানসম্পন্ন শিক্ষাদানই আমাদের লক্ষ্য
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির (বিইউ) উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক শরীফ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার পরিকল্পনা জানালেন।
আমাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসটি ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। ফলে ঢাকার ছেলেমেয়েরা ভর্তি হতে পারবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ পরিবেশে পড়তে আসবে। আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ফল আশানুরূপ।
২০১৭ সালের ২৭ ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সমাবর্তনে দুই হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেছেন। স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে। একে আমরা বিশ্বমানের আধুনিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলব। এ জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫৩ হাজার বর্গফুটের বিশাল খেলার মাঠ রয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা করবে। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটবে। নামকরা ক্রীড়াবিদের জন্ম হবে। আর তাদের জ্ঞান ও মেধার বিকাশ ঘটাতে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমগুলো তো আছেই।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে নিয়মিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আইনের ছাত্রছাত্রীদের মুটকোর্ট প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
অ্যাকাডেমিক লেখাপড়ার মান, সুবিধা বাড়ানোর আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে। সবগুলো শ্রেণিকক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও প্রযুক্তি-সুবিধাসম্পন্ন হবে। আমাদের প্রায় ৩৫ হাজার বইয়ের বিশাল গ্রন্থাগার রয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে দুটি মিলনায়তন রয়েছে। ৩০০ আসনের মিলনায়তনে বিভাগীয় সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এক হাজার ৫০০ আসনের বিশাল মিলনায়তনে দেশ-বিদেশের বিশ্বমানের সেমিনারের আয়োজন করা হবে।
আমাদের ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের আলাদা হোস্টেল থাকবে। মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা উন্নত পরিবেশে নিরাপদে জীবন কাটাবেন। তারা লেখাপড়ায় আরো মনোযোগী হবেন। মেয়েদের হোস্টেলের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার আশঙ্কা থাকবে না। ছাত্রছাত্রীদের আলাদা কমনরুম, গেমসরুম থাকবে।
শুরু থেকে আমরা অসচ্ছল অথচ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তাদের উচ্চশিক্ষাদানে পদক্ষেপ নিয়েছি। ছাত্রছাত্রীরা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে কোর্স ফির ওপর ২০ থেকে ১০০ শতাংশ ওয়েভার পায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তারা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা নেন না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি’ নিজের পায়ে দাঁড়াক,
সাবলীল ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে সুপ্রতিষ্ঠিত হোক। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, এ বিশ্ববিদ্যালয় সারা বিশ্বের অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একই গুণাবলি অর্জন করবে, শিক্ষা-গবেষণার মান অত্যন্ত উন্নত হবে। শিক্ষার্থীদের গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষাদানই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

সর্বশেষ..