আনন্দময় ও বর্ণিল সময়ের জন্য বিরামহীন ছুটে চলা

সাইফ ইউ আলম: কখনও মেঘ, কখনও বৃষ্টি। আবার কখনও সূর্যের প্রচণ্ড তীব্রতায় ত্রাহি অবস্থা। এমনই সময়ে এবারের ঈদ উৎসব। তবুও উৎসব ঘিরে মানুষের ব্যস্ততার অন্ত নেই। উৎসব মানেই যেন নতুন ও রঙিন কিছু। এ আনন্দ আয়োজন নিয়ে সময় পার করাও মজার।
কেউ নিজেকে সাজাতে, কেউবা ব্যস্ত অন্দর-বাহির সাজাতে। রাত-দিন সমান তালে অনেকে ছুটে চলেছেন প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য। বিক্রেতারা ব্যস্ত হরেক রকমের উপকরণ বিক্রির জন্য। সব মিলিয়ে এই ঈদের দিনকে আনন্দময় ও বর্ণিল করার জন্য নগর-মহানগরের মানুষ বিরামহীন ছুটে চলেছে।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, চট্টগ্রাম শহরে ১৫টি অভিজাত ও ৫৮টি সাধারণ বিপণিকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া টেরিবাজার, হকার্স মার্কেট, তামাকুমণ্ডি লেন ও রিয়াজউদ্দিন বাজারে ৩০০টি ছোট আকারের মার্কেট রয়েছে। এর বাইরে অনেক ব্যক্তিগত শপ গড়ে উঠেছে নগরজুড়ে। ঈদকে কেন্দ্র করে এসব স্থানের ৫০ হাজারের বেশি দোকানে দেশি-বিদেশি পোশাক, জুতা, প্রসাধন, গয়না ও তৈজসপত্র, আসবাব ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী বেচাকেনা হচ্ছে। দোকানগুলোয় হাজার হাজার কোটি টাকার সওদা হবে।
দেখা গেছে, তরুণরা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরে বেড়াছে নানা দোকানে পছন্দের
পাঞ্জাবি-কুর্তার চেয়ে ঝুল বাড়িয়ে শর্ট ফিটিং পাঞ্জাবি কিংবা শেরওয়ানি কাটের পাঞ্জাবির জন্য। সদ্য বিবাহিত তানজিলা খানম জানান, নতুন সংসার ও নতুন পরিবেশে এবারের ঈদ পালন করতে হবে। নতুন পরিবারের সবার জন্য ঈদ পোশাক কেনার জন্য শপিংয়ে এসেছি। তবে সবার পছন্দ তো এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। ফলে একটু সিদ্ধান্তহীনতায় আছি। এছাড়া ঈদের দিনে শাশুড়ির সঙ্গে আগত অতিথিদের জন্য রান্না করব খিচুড়ি, গরুর গোশত, খাসির গোশত, পায়েস প্রভৃতি। বিরিয়ানিও থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সানজিদা শেহরিন দিনাজপুরে দাদার বাড়ি গিয়ে শুয়ে-বসে কাটাচ্ছেন তার দিনগুলো। আর অপেক্ষায় আছেন ঈদের দিনে হালফ্যাশনের আকর্ষণ পোশাক পরিধান করার। স্কুলপড়–য়া স্বজনদের নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন আরিয়ান আরিফ চট্টগ্রামের স্যানমার ওশান সিটিতে। তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বেগুনি, কমলা, নীল, হলুদ ও লাল রঙের পোশাকের প্রতি ওরা বেশি আকৃষ্ট। পাথর বসানো ও বাহারি ফিতার নকশা করা স্যান্ডেল-জুতো তারা পছন্দ করছে। এখন ওরাও ফ্যাশন সচেতন। এগুলো নিয়ে কিছু মানুষের ঈদ আনন্দ-উৎসবের খণ্ডচিত্র।
শহরের মানুষ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ উৎসব পালনের জন্য পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে ঈদ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবে। কেউ এখন বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউবা ঈদের কাপড় কেনা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন শপিং সেন্টারগুলোয়। কেউবা ছুটছেন বাসস্টেশন, ট্রেনস্টেশন কিংবা লঞ্চঘাটে, কেউবা বাড়ি গিয়ে ঈদ আনন্দ আয়োজন নিয়ে অপেক্ষার ক্ষণ গুনছেন।
ফ্যাশন ডিজাইনার রওশন আরা চৌধুরী বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ব্যবসায় একটু মন্দা হলেও এখন ভালোই হচ্ছে। তবে ভারতীয় পোশাকের আগ্রাসনে এখন দেশি পোশাকের বিক্রি কম। যদিও এটা ক্রেতার রুচির ওপর নির্ভরশীল। আর দিন যত যাচ্ছে, ততই বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশা করি গতবারের তুলনায় বেশি বিক্রি হবে। খাদিঘরের স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলাম বলেন, এক মাসের বিক্রির টাকা দিয়ে পুরো বছর চলতে হবে। ইনটেরিয়র ডিজাইনার ইশরাত জাহান বলেন, গরমে বাসায় হালকা রঙের কাপড় পরি। বসার ঘরে খুব বেশি সাজসজ্জার উপকরণের ব্যবহার না থাকাই ভালো। আর ঈদ আয়োজনে ঘরে ফুল শোভা পাবে না, তা যেন ভাবাই যায় না। আজকাল ফুলের সঙ্গে ইকেবানার প্রচলনটাও বেশ বেড়েছে। এমনটাই মনে করেন ইশরাত জাহান। পর্দা ও বিছানার চাদরে উজ্জ্বল ও হালকা রংই ব্যবহার করা হচ্ছে। আড়ং, মাত্রা, নিপুণসহ দেশের সব মার্কেটে বাহারি ডিজাইনের পর্দা, কুশন কভার ও বিছানার চাদর কিনতে পারেন বিভিন্ন দামে।
কালের বিবর্তনে ঈদ উৎসবের রূপ বদলেছে; কিন্তু উৎসবের মূলেই রয়েছে আনন্দ। সেই আনন্দ উপভোগ করার জন্য অনেক ঝক্কিঝামেলা সয়ে নিয়ে অনেকে ছুটে যাবেন বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উৎসব পালনের জন্য। অনেক দিন পর গ্রামের ছোট্ট ঈদগাহে পাড়া-প্রতিবেশী মিলে একসঙ্গে নামাজ পড়বেন। ছেলেবেলার প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা পরিবার-পরিজনদের নিয়ে একসঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াবেন।