প্রথম পাতা

আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় চার শর্ত

হামিদুর রহমান: আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় ট্রাফিক অধিকার ও ফ্রিকোয়েন্সি প্রাপ্তির নিমিত্তে বাংলাদেশি এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলোর জন্য চারটি শর্ত দিয়ে নীতিমালা জারি করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। গত ১৯ মার্চ নীতিমালাটি জারি করা হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে ‘বাংলাদেশি এয়ার অপারেটরের অনুকূলে আন্তর্জাতিক রুটে মনোনয়ন প্রদান, ট্রাফিক অধিকার বণ্টন ও ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের নীতিমালা ২০১৯’-এ বাংলাদেশি এয়ার অপারেটরদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাণিজ্যিক সফলতার সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনায় বিভিন্ন শর্ত তুলে ধরা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাটিকে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত হালনাগাদ এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেটধারী (এওসি-হোল্ডার) হতে হবে। পাশাপাশি এওসি প্রাপ্তির পর সাফল্যের সঙ্গে ন্যূনতম এক বছর অভ্যন্তরীণ রুটে শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনার অভিজ্ঞতাসহ আন্তর্জাতিক রুটে মনোনয়নপ্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতি প্রতিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যাশী এয়ার অপারেটর বহরে বাংলাদেশে নিবন্ধিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুটি যাত্রীবাহী এয়ারক্র্যাফট ও একটি কার্গো এয়ারক্র্যাফট থাকতে হবে। এছাড়া ৩০টি বা ততোধিক সিটের এয়ারক্র্যাফট দ্বারা আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে।
মনোনয়ন পদ্ধতিতে বলা হয়েছে: চারটি বর্ণিত শর্তের আলোকে যোগ্যতাসম্পন্ন এয়ার অপারেটরকে আন্তর্জাতিক রুটে মনোনয়নপ্রাপ্তির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বেবিচক কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ফরম ও পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি বেবিচক কর্তৃপক্ষ এয়ার অপারেটর হিসেবে মনোনয়ন প্রাপ্তির সব শর্তাদি পূরণ হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিশ্চিত করবে। এছাড়া মনোনয়নপ্রাপ্তির শর্তাদি যথাযথভাবে পূরণ করা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার অপারেটরের অনুকূলে মনোনয়ন প্রদানের অনুরোধ কূটনৈতিক মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের অ্যারোনটিক্যাল অথরিটির কাছে প্রেরণের উদ্দেশ্যে বেবিচক কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন অগ্রায়ন করবে এবং মন্ত্রণালয় দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মনোনয়নের অনুরোধে বিবেচনা করে তা গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের অ্যারোনটিক্যাল অথরিটি বরাবর প্রেরণ করবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশ কর্তৃক মনোনয়ন গ্রহণের পর পরবর্তী কার্যক্রম বেবিচক কর্তৃপক্ষ সম্পন্ন করবে।
রুট ও ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ এবং ব্যবহার সম্পর্কে বলা হয়েছে: প্রতি বছর শীতকালীন শিডিউল ও তৎপরবর্তী গ্রীষ্মকালীন শিডিউলে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশি শিডিউল এয়ার অপারেটররা প্রতি বছর এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তাদের অপারেশন পরিকল্পনা ও চাহিদা বেবিচক কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবে। দাখিল করা কাগজপত্রাদি নিরীক্ষান্তে বেবিচক কর্তৃপক্ষ তাদের মতামতসহ মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করবে। প্রতিবছর মে মাসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় আবেদনকারী এয়ার অপারেটর এবং বেবিচক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে পেশ করা অপারেশন পরিকল্পনা/চাহিদা পর্যালোচনা করে পরবর্তী এক বছরের জন্য অর্থাৎ অক্টোবর হতে শুরু হওয়া শীতকালীন ও পরবর্তী মার্চ মাস হতে শুরু হওয়া গ্রীষ্মকালীন শিডিউলের জন্য রুট, ফ্রিকোয়েন্সি এবং ট্রাফিক অধিকার বরাদ্দ প্রদান করা হবে।
বরাদ্দ করা ফ্রিকোয়েন্সি ও ট্যাফিকের অধিকার ধারাবাহিকভাবে পরপর দুটি শিডিউলি সময়কালের (শীত ও গ্রীষ্মকালীন) মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে বরাদ্দ করা ট্রাফিক ও ট্রাফিক অধিকার ব্যবহারে অসমর্থ হলে তা মন্ত্রণালয় এবং বেবিচক কর্তৃপক্ষের কাছে কারণসহ অবহিত করতে হবে। এছাড়া কোনো যৌক্তিক কারণ ব্যতীত বাংলাদেশি কোনো এয়ার অপারেটরের অনুকূলে নির্দিষ্ট রুটে বরাদ্দ করা ট্রাফিক অধিকার এবং ফ্রিকোয়েন্সি ৫০ শতাংশের চেয়ে কম ব্যবহƒত হলে তা হ্রাস করা অথবা তা ব্যবহারের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন ও আগ্রহী অন্য বাংলাদেশি এয়ার অপারেটরের অনুকূলে বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো এয়ার অপারেটর বরাদ্দ করা ফ্রিকোয়েন্সি ট্রাফিক অধিকার অন্য যোগ্যতাসম্পন্ন এয়ারলাইনসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করা যাবে। যা যোগ্যতাসম্পন্ন এয়ারলাইনসগুলোর মোট চাহিদা নির্দিষ্ট রুটের জন্য নির্ধারিত ট্রাফিক অধিকার এবং ফ্রিকোয়েন্সি অপেক্ষা বেশি হলে চাহিদাকৃত ট্রাফিক অধিকার ও ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের অনুকূলে পূর্বে বরাদ্দ করা ট্রাফিক অধিকার এবং ফ্রিকোয়েন্সি সাফল্যজনকভাবে ব্যবহারের বিষয়টি অথবা অব্যবহƒত থাকা ফ্রিকোয়েন্সির বিষয়টি বেবিচক কর্তৃপক্ষ তদারকি করবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
নীতিমালা পূর্বোক্ত অনুচ্ছেদগুলোয় যা-ই থাকুক না কেন, কোনো এয়ারলাইনসের প্রস্তুতি, অপারেশন সম্ভাব্যতা, বেবিচকের উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় যে কোনো প্রয়োজনে অথবা অন্যান্য কারণে মন্ত্রণালয় যে কোনো সময় যে কোনো এয়ার অপারেটরের মনোনয়ন, ট্রাফিক অধিকার, রুট ও ফ্রিকোয়েন্সি মঞ্জুর, হ্রাস, বৃদ্ধি বাতিল অথবা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে পূর্বে জারি করা সব ধরনের নির্দেশনা রহিত করে নীতিমালাটি কার্যকর করা হয়েছে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */