মত-বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই কেন?

তৌহিদুর রহমান: গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যমে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে বেশ কিছু নেতিবাচক খবর ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ের ব্যাপারটি। লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এশিয়ার ৪১৭টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে তারা। তবে তাতে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। অথচ নেপাল, শ্রীলঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয়ও এ তালিকায় রয়েছে। মূলত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, গবেষণা, জ্ঞান আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এ চারটি মৌলিক বিষয়ে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে।
এটি নিয়ে এখন অনেকেই সমালোচনায় মুখর। তাদের প্রশ্ন, বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কেন এই তালিকায় নেই? অথচ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪৫টিতে পৌঁছেছে। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও কম নয়, ১০৩টি। এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কেন এ র‌্যাংকিংয়ে আসতে পারল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সবাই। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন ওই তালিকায় থাকবে? এমন র‌্যাংকিংয়ে আসার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ আছে কি?
‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’র পরিচালিত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম রয়েছে তালিকায়। এছাড়া শ্রীলঙ্কার ইউনিভার্সিটি অব কলম্বোও রয়েছে। র‌্যাংকিং অনুযায়ী, এশিয়ার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এরপরেই রয়েছে ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর’। তৃতীয় স্থানে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’। এর বাইরে চীনের ৭২টি, ভারতের ৪৯টি, তাইওয়ানের ৩২টি, পাকিস্তানের ৯টি, হংকংয়ের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় রয়েছে। সবগুলো দেশই বাংলাদেশের প্রতিবেশী।
তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্থান পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী চীন, ভারত ও তাইওয়ানের। এছাড়া বাকি দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালের মতো দেশগুলো রয়েছে। সেগুলোর সঙ্গে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তেমন পার্থক্য নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে। এছাড়া ভারতের সঙ্গেও মিল অনেক। অথচ তাদের ৪৯টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় থাকলেও বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকা সত্যিই হতাশাজনক। যারা এ ব্যাপারে সচেতন, তাদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনাও বেশি। নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান ক্রমেই অবনতি হচ্ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন শিক্ষাবিদরা। শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য তাগিদও দিয়ে আসছেন।
কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এ ব্যাপারে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় কেন থাকে না, এ নিয়ে বিস্মিত হন কেন? এখানে দলীয় বিবেচনায় শিক্ষকের নিয়োগ, প্রমোশন, স্কলারশিপ হয়, অন্ধ দলবাজদের বড় বড় পদে নিয়োগ করা হয়, ছাত্রদের জোর করে রাত-বিরাতে মিছিলে নেওয়া হয়, যে কোনো নির্মাণ ও মেরামত কাজ এমনকি কিছু নিয়োগে ঘুষ বা বখড়া দিতে হয় ছাত্রনেতাকে। বেতন কম এ ধরনের কারণ বা অজুহাতে এখানকার মেধাবী শিক্ষকরা সিংহভাগ সময় ব্যয় করে অন্য প্রতিষ্ঠানে, অমেধাবীরা নানা রকম ধান্ধায়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘এখানে গবেষণায় বরাদ্দ কম, সে টাকাও মাঝে মাঝে মেরে দেওয়া হয়। পৃথিবীর কোনো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব ঘটে? এমন একটা ঘুণে ধরা প্রতিষ্ঠান কীভাবে সেরা তালিকায় আসবে? আর নেপাল বা শ্রীলংকার বিশ্ববিদ্যালয়? এগুলো শুধু না, অচিরেই দেখবেন আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বুরকিনা ফাসোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়েও খারাপ।’
অধ্যাপক আসিফ নজরুল আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরেছেন সেগুলোরই প্রতিফলন ঘটেছে শিক্ষকদেরই একটি সংগঠনের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ নামে ওই সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আটটি সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে সরকারি কর্তৃত্ব, সান্ধ্যকোর্স, বৈকালিক কোর্সসহ বিশেষ প্রোগ্রাম, স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার, শিক্ষায় কম বরাদ্দ ও গবেষণায় তহবিল বরাদ্দ না থাকা, শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ, ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ, আবাসন সংকটের মতো নানা সমস্যার কথা তারা বলেছেন। এ সমস্যাগুলো যে নতুন সামনে এসেছে তা কিন্তু নয়। আগেও এগুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সমস্যার সমাধান কিন্তু হয়নি। বরং আরও নতুন নতুন সমস্যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আসন গেড়ে বসেছে।
আসলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সমস্যা একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। শিক্ষার্থী ভর্তি থেকে শুরু করে পাঠদান, শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা, আবাসন সবকিছুই সমস্যায় জর্জরিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত চার থেকে পাঁচটি ভর্তি ফরম তুলতে গিয়েই তাদের নাভিশ্বাস ওঠে। অনেকে টাকার অভাবে কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেন না। আর বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে যদিও বা ভর্তি হতে পারেন, এসে পড়ের সমস্যার সমুদ্রে। প্রথমেই তাদের হলে সিট পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয়।
এই সিট পাওয়া নিয়ে সম্ভবত সবচেয়ে বড় সংকট বা ভোগান্তি যাই বলা হোক না কেন, পার করতে হয় শিক্ষার্থীদের। হলের মূল সিট নয় গণরুমের একটি সিট পেতেও রাজনৈতিক নেতাদের রাজি করানো, ভাই ধরা, এভাবে কেটে যায় কয়েক মাস। এরপর সিট পেলেও মুক্তি নেই। রাত-দিন যখন ডাকবেন তখনই যেতে হবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। না গেলে গেস্টরুমসহ নির্যাতনসহ খড়গ নেমে আসে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কমপক্ষে দুই বছর এ ধরনের নির্যাতন ভোগ করতে হয়। ফলে প্রথমদিকে সেভাবে পড়াশোনা করতে পারেন না শিক্ষার্থীরা। লাইব্রেরিতে গেলেও সমস্যা। সেখানে সিট পাওয়ার জন্য ভোরবেলা গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় সিট মেলে না। প্রায়ই অনেককে ফিরে আসতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার বড় দায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কিছু শিক্ষকের কাঁধে দিতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনিয়মের কারণে এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য, অদক্ষরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যাচ্ছেন। তারা যখন ক্লাস নিতে যাচ্ছেন তখনও নানা ধরনের অনিয়মের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঠিকমতো ক্লাস না নেওয়া, নাম্বার দেওয়া নিয়ে নানা অভিযোগ এমনকি যৌন হয়রানির ব্যাপারটিও সামনে আসছে। সম্প্রতি গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। দুজন ছাত্রীকে নাম্বার বেশি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনা জানাজানি হলে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মেধাবী ছাত্র এমদাদুল হক শিক্ষক হওয়ার পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে অপহরণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়। ফলে তিনি পরীক্ষা দিতে পারেননি। এ নিয়ে অবশ্য পরে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে পুনরায় তার পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক মেধাবী ছাত্র সাইফুর রহমান প্রতীক আত্মহত্যা করেন গত বছর। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের (জিইবি) ওই ছাত্রের আত্মহত্যার পর তার বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শান্তা তাওহীদা অভিযোগ করেন, তার শিক্ষক হওয়া ঠেকাতে বিভাগের শিক্ষকরা নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। ফলে আত্মহত্যা করেছে প্রতীক। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিদের বিরুদ্ধেও। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ভিসি বছরের সিংহভাগ সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকেন না। ৩৪০ দিনে ২৫০ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভিসির বিরুদ্ধেও সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের সময় বড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। পরে আন্দোলনের মুখে তাকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেয় সরকার। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অভিযোগ নতুন কিছু নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি বড় অংশের মূল একাডেমিক কার্যক্রম ছেড়ে বাড়তি আয়ের জন্য আগ্রহ ক্রমেই বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বিশেষত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস নিতে অনেকের আগ্রহ বেশি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস করতে অনাগ্রাহী থাকার অভিযোগ ওঠে অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সান্ধ্যকালীন বা বিশেষ কোর্স। এসব কোর্সে মোটা অঙ্কের অর্থ আয়ের সুযোগ থাকায় শিক্ষকদের পাশাপাশি বিভাগ ও অনুষদেরও আগ্রহ বেশি। ফলে শিক্ষকরা সারাদিন ক্লাস করেই সময় পার করছেন। গবেষণা কার্যক্রমে তাদের মনোযোগ নেই বললেই চলে।
আর এ গবেষণা কার্যক্রমই বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান নির্ণয়ের অন্যতম সূচক। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় যত ভালো তাদের পড়ালেখার মান এবং বিশ্বে সুনামও তত বেশি। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এত অনিয়ম সমস্যার মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে আসে কীভাবে? হতাশাজনকভাবে এই গবেষণা খাতে দেশে তেমন সুখবর নেই দীর্ঘদিন। গবেষণা খাতে বরাদ্দ নিয়েও নতুন করে বলার কিছু নেই। গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ থাকে সীমিত। ফলে শিক্ষকরা গবেষণায় তেমন আগ্রহ দেখান না। আরও অনেক সীমাবদ্ধতা তো রয়েছেই।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ‘নেতিবাচক’ ছাত্র রাজনীতিও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোর অপরাজনীতিতে জড়ানো প্রায়ই খবরের শিরোনাম হচ্ছে। আর এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষক রাজনীতি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক রাজনীতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রাজনীতি নোংরামির পর্যায়ে চলে গেছে বললেও সম্ভবত ভুল হবে না।
এছাড়া শ্রেণিকক্ষ ও আবাসনের অভাব, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকা, পরিবহন সমস্যা, কর্মকর্তাদের অসযোগিতা, অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্যাম্পাসগুলোয় বহিরাগতদের প্রভাব, লাইব্রেরি সংকট, পর্যাপ্ত বই না থাকা, কারিকুলামে অদূরদর্শিতা, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার তুলনায় চাকরিকেন্দ্রিক পড়াশোনায় বেশি আগ্রহ এমন অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এত অব্যবস্থাপনা এবং সমস্যার মধ্যে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কীভাবে উন্নত হবে, বোধগম্য নয়। শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে এবং এমন র‌্যাংকিংয়ে সামনে আসতে হলে অবশ্যই এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে না পারলে শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, শিক্ষাবিদরা এমন কথা বলে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে বেকার ও অযোগ্য উচ্চশিক্ষিত জনশক্তির সংখ্যা বাড়বে, তারা দেশের ভবিষ্যৎ তৈরির পরিবর্তে বোঝায় পরিণত হবে। এজন্য সবার আগে রাষ্ট্রীয়ভাবে উচ্চশিক্ষার সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে সদিচ্ছা না থাকলে দেশ কখনোই এগোতে পারবে না।
আর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ইউজিসির কৌশলপত্রেও পরিবর্তন আনতে হবে। অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ও তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা, সমন্বিত ভর্তি নেওয়া, কারিকুলামের আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার মতো পদক্ষেপগুলো নিতে হবে। কোনো অনিয়ম হলে সেক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এসব সুপারিশসহ আইনের সংস্কার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্য দূরীকরণ, জবাবদিহিতাসহ নানা সুপারিশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এগুলো দ্রুত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। সার্টিফিকেট বাণিজ্য, বাড়তি অর্থ আদায়, স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়া, ইউজিসির নির্দেশনা না মানা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে সরকার ও ইউজিসির কঠোর অবস্থানে যাওয়ার বিকল্প নেই। যদি র‌্যাংকিংয়ে দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখতে হয়, তাহলে সবার আগে নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান আরও খারাপ হবে বৈ ভালো হবে না।

গণমাধ্যমকর্মী

 [email protected]

সর্বশেষ..



/* ]]> */