আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে আগ্রহী….

১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদের বিদ্যালয়টি। ১৯৪২ সালের ২৮ জানুয়ারি  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় একে স্থায়ী স্বীকৃতি দেয়। ৬.৬৬ একর জমির ওপর বিদ্যালয়টি অবস্থান। তিন উপজেলার মোহনায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। তাদের সুশিক্ষিত করতে চাই। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ শিক্ষাসহায়ক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করছি। বিদ্যালয়টির মান ও পরিবেশ সময়োপযোগী। আমাদের প্রত্যাশা, এখানকার শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের আলোকিত মানুষ হবে।

এ প্রতিষ্ঠানের বিশেষত্ব কী?

রাজনীতিমুক্ত ও আধুনিক। ব্যক্তিস্বার্থ বাদ দিয়ে সমাজের স্বার্থ রক্ষা করে এলাকার সার্বিক অগ্রগতি সাধনে কাজ করছে। সঠিক পাঠদানসহ মানুষের মতো মানুষ গড়ে তোলা আমাদের বিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে কোন কোন শ্রেণিতে পড়ানো হয়?

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিসহ কারিগরি শিক্ষা পর্যন্ত এক হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছেলেমেয়ে উভয় শিক্ষার্থীর অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত আটটি শাখা রয়েছে। সব শাখার জন্য রয়েছে আলাদা শ্রেণিকক্ষ। এ বিদ্যালয়ে পড়ালেখার মাধ্যম বাংলা। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এখানে ছাত্রছাত্রী ছিল ১৬৮ জন।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন?

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, যা আমাদের বিদ্যালয়ের পরিবেশকে শিক্ষাবান্ধব করেছে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য সমস্যার সমাধান পেয়ে থাকে। এতে শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞানের পরিসর বাড়াতে সক্ষম হয়। ফলে বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জীবনের উন্নয়ন সাধন করার সুযোগ পাচ্ছে।

দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা কেমন?

বিদ্যালয়ের গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সরকারি উপবৃত্তির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে অতিরিক্ত উপবৃত্তি ও বিনা বেতন বা অর্ধবেতনের ব্যবস্থা আছে। গরিব ও মেধাবীদের শিক্ষিত করার ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করা হয়। বিধিমোতাবেক উপবৃত্তি পাওয়ার সুবিধা রক্ষা ও সাধারণ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়।

এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে আপনার স্কুলের ভূমিকা কেমন?

এখানকার আর্থসামাজিক অবস্থা উন্নত নয়। অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। এলাকার ছেলেমেয়েরা উন্নত ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ কম পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারলে তারা এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে যেমন ভূমিকা  রাখতে পারবে, তেমনি দেশের জন্য হবে গুরুত্বপূর্ণ ও মঙ্গলজনক। বিদ্যালয়ে সততা স্টোর নামে একটি অপারেটরবিহীন স্টোর খোলা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের নৈতিক চরিত্র গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে স্কুলের প্রতিবন্ধকতাগুলো কী?

সরকারিভাবে বরাদ্দ করা ভবন পুরোপুরি সম্পন্ন করা হয়নি এখনও। তাছাড়া বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নেই। শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিরনির্ভর পর্যাপ্ত কম্পিউটার নেই। গ্রন্থাগারটির সংস্কার প্রয়োজন। বিদ্যালয়টি অনেক পুরোনো। এমপিওভুক্তি হলেও এখনও জাতীয়করণ করা হয়নি।

সমস্যা সমাধানে কী করা যেতে পারে বলে মনে করেন?

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির জন্য পর্যাপ্ত কম্পিউটার সরবরাহসহ বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা দরকার। সমস্যা সমাধানে অবশ্যই সরকার কর্তৃক বরাদ্দ করা ভবন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনা ও গ্রন্থাগারের জন্য প্রচুর বইয়ের ব্যবস্থা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

কয়েক বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে পিইসি কেন্দ্রীয় পরীক্ষা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাচর্চা পেশার জাতীয়করণসহ জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র করার ইচ্ছা আছে।