আপিলের আবেদন করবে আ.লীগ রায় প্রত্যাখ্যান বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। এটিকে ‘প্রতিহিংসার’ রায় উল্লেখ করে সাত দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে দলটি। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির পক্ষ থেকে রায় প্রত্যাখ্যান ও কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিকে এ রায়ে সন্তুষ্ট নয় জানিয়ে এর বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল করার জন্য আবেদন করা হবে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এ রায় দেওয়া হয়েছে। এ রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায়। এটি ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নোংরা প্রকাশ।’ এ সময় রায় প্রত্যাখ্যান করার কথাও তিনি জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে যেভাবে ‘মিথ্যা’ মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছিল, একইভাবে আরেকটি ‘মিথ্যা’ মামলায় বিএনপির নেতাদের সাজা দেওয়া হলো। তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো এ দেশে ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যে দেশে ন্যায়বিচার পান না, সে দেশে নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করা যায় না। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে, পাশাপাশি আইনি কর্মসূচিও থাকবে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কর্মসূচি ঘোষণা করে জানান, আজ বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ সারা দেশের মহানগর জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে বিএনপি। এছাড়া ১৩ অক্টোবর সারা দেশে ছাত্রদল, ১৪ অক্টোবর যুবদল এবং ১৫ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দল সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি। এছাড়া ১৭ অক্টোবর মহিলা দল ও ১৮ অক্টোবর শ্রমিক দল সারা দেশে মানববন্ধন করবে।
এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তারেক রহমানকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ উল্লেখ করে তার ফাঁসির দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে রায়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আদালত বিলম্ব হলেও রায়টি দিয়েছেন। এটা একটা ভালো রায়, আমরা আদালতকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। ২১ আগস্টের মাস্টারমাইন্ড, প্ল্যানার তারেক রহমান সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে পারতেন।’
বেগম খালেদা জিয়া দায় এড়াতে পারেন না উল্লেখ করে এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী না থাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দায়িত্বে ছিলেন। সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জানলেও, তিনি জানতেন না?
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুুব-উল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।