আবদুল হাই বাচ্চুকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় গতকাল বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক কার্যালয় ছেড়ে যান আবদুল হাই বাচ্চু। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তিনি। তবে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে দূদক সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে যান আবদুল হাই বাচ্চু। পরে বেলা ২টার দিকে আবদুল হাই বাচ্চু অসুস্থ বোধ করায় দুদক কার্যালয়ে একজন চিকিৎসক যান।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, আবদুল হাই বাচ্চু নার্ভাস বোধ করছেন। তার খারাপ লাগছে বলে জানালে একজন চিকিৎসককে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য ডেকে আনা হয়।

এর আগে গত সোমবার বেসিক ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ওইদিন বেসিক ব্যাংকের কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির বিষয়ে দুদককে যতটুকু বলা সম্ভব ছিল সব বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু ও তার নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদকে জিজ্ঞাসাবাদে সম্প্রতি নোটিশ দেয় দুদক। অনুসন্ধান শুরু হওয়ার প্রায় চার বছর পর দুদক প্রথমবারের মতো তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয়। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। আবদুল হাই বাচ্চুসহ পর্ষদের ১১ জনকে পর্যায়ক্রমে তলব করা হয়। ৪ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত থাকার জন্য গত ১৮ নভেম্বর আবদুল হাই বাচ্চুর বনানীর ডিওএইচএসের বাড়ির ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়। পর্ষদের অন্য সদস্যদেরও ডাকা হয় বিভিন্ন দিনে।

উল্লেখ্য, আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিন হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋণের নামে বিভিন্ন জনকে দিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন তদন্ত করে বলেছিল, ৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির ক্ষেত্রেই পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। এই ঋণ আদায়ের সম্ভাবনাও কম।