আবারও অপ্রতিরোধ্য লিগ্যাসি ফুটওয়্যার

সাত কার্যদিবসে দর বেড়েছে ৪৩ শতাংশ

পলাশ শরিফ: আবারও আলোচনায় স্বল্প মূলধনি লিগ্যাসি ফুটওয়্যার। গত সাত কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ২৫ টাকা বা ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। দর বৃদ্ধির কারণ জানতে দেওয়া নোটিসের জবাবে ‘অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই’ বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। যদিও বিতর্কিত কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নতুন নয়। দর বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গত দুই বছরে লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের শেয়ারদর ২০৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর এ সময়ে দর বৃদ্ধির কারণ জানতে কোম্পানিটিকে পাঁচ দফায় নোটিস পাঠিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, চামড়া খাতের কোম্পানি লিগ্যাসি ফুটওয়্যার সপ্তাহ শেষে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকার প্রথমে স্থান পেয়েছে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির প্রায় ৫৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দৈনিক কোম্পানিটির প্রায় ১১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। সমাপ্তি শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮৩ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে এ শেয়ারদর ছিল ৭১ টাকা। সে হিসেবে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির দর ১২ টাকা ৬০ পয়সা বেড়েছে। আর গত ১৫ মে থেকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত আট কার্যদিবসের মধ্যে সাত দিনই ঊর্ধ্বমুখী ছিল শেয়ারদর।
যদিও দর বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে অনীহা কোম্পানিটির। যোগাযোগ করা হলে কোম্পানিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ‘ডিএসই-সিএসই-বিএসইসির কাছে সব তথ্য দেওয়া হয়, যা বলার সংস্থাগুলোকেই বলি, এর বাইরে কাউকে কিছু বলার নেই।’
একটানা শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণে গত ২০ মে কোম্পানিটিকে নোটিস পাঠিয়েছে ডিএসই। নোটিসে সাম্প্রতিক শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। নোটিসের জবাবে ‘সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই’ বলে ২৩ মে লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে এই দর বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
স্বল্প মূলধনি কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির বিষয়ে ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, ‘স্বল্প মূলধনি কোম্পানির আধিপত্য নতুন নয়। অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি ঠেকাতে শুধু নোটিস পাঠানোই যথেষ্ট নয়, সঠিক তদন্ত করে সেই রিপোর্ট জনসমক্ষে আনতে হবে। তাহলে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি বন্ধ হবে।’
শুধু এবারই নয়, ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে অদ্যাবধি পাঁচ-ছয়বার অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণে আলোচনায় এসেছে লিগ্যাসি ফুটওয়্যার। দর বৃদ্ধি ও ডিএসইর সঙ্গে নোটিস-চিঠি চালাচালির মধ্যেই গত দু’বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ২০৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ সালের ২৫ মে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ২৭ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছিল, যা সর্বশেষ ৮৩ টাকা ৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ হিসেবে চলতি বছরের মে পর্যন্ত দুই বছরে লিগ্যাসির শেয়ারদর বেড়েছে ৫৬ টাকা ৫০ পয়সা। প্রত্যেকবার দর বৃদ্ধির সময়েই ‘সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই’ বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।
তথ্যমতে, দর বৃদ্ধির কারণে বিতর্কের মুখে পড়া লিগ্যাসি ফুটওয়্যার স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। এর পরিশোধিত মূলধন মাত্র ১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত আর্থিক বছরে প্রায় এক কোটি ১৪ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে কোম্পানিটি। এর আগের আর্থিক বছরে কারখানা স্থানান্তরের কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখায় কোম্পানিটির মুনাফা কমেছিলো। লোকসানের কারণে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে লভ্যাংশ না দিয়ে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে ছিল কোম্পানিটি। সর্বশেষ আর্থিক বছরে ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে উঠেছে।
এদিকে চলতি ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের ৯ মাসে কোম্পানিটি প্রায় সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা আয় করেছে। এ সময়ে পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৫১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। আর কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা এর আগের আর্থিক বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা কম।