আবারও আলোচনায় ফিলিস্তিন আশার আলো আছে?

শাকির আহমেদ: ১৯১৭ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিন ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই নিজেদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে ফিলিস্তিনে বসবাসকারী ইহুদিরা। ফিলিস্তিনি আরবরা তাদের মাতৃভূমির অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষার দাবি তোলে। সমস্যা সমাধানকল্পে ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ রেজুলেশনের মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিনকে দ্বিখণ্ডিত করে। ফিলিস্তিনে বসবাসকারী ইহুদিরা মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১০ শতাংশ ভূমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও পুরো ফিলিস্তিনের মোট ভূমির অর্ধেক ইহুদিদের দেওয়া হয়। জাতিসংঘের এ অসম বিভাজনের পর ফিলিস্তিনিরা জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। এর পর থেকে ক্রমান্বয়ে ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নের জন্য সশস্ত্র আগ্রাসন
চালিয়ে আসছে ইসরাইল।
জেরুজালেমের অধিকারকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা আরব-ইসরাইল যুদ্ধ হয়। জেরুজালেমের মসজিদে আকসায় ইসরাইল কর্তৃক অগ্নিসংযোগের পর সমস্যার সমাধানকল্পে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়। আগ্রাসী ইসরাইলের নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা আর দখলদারিত্বের কারণে অসলো চুক্তির পরও আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্ব কাটেনি। প্রথমে ফিলিস্তিনি আরবরা ইসরাইল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব মানতে না চাইলেও ১৯৭৪ সাল থেকে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে অগ্রসর হন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশনের নেতা ইয়াসির আরাফাত। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা বিশ্বের কালো তালিকাভুক্ত ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সংগঠন হারাকাত আল-মুকাওয়ামা আল-ইসলামিয়া-হামাসসহ ফিলিস্তিনি আরবদের একটি বড় অংশ ইয়াসির আরাফাতের এ নীতিকে ইসরাইলের প্রতি নতজানু নীতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অনেক পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিলেও এখনও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি।
জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক ফোরামের আলোচনায় বা বিশ্বনেতাদের মুখে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির দাবিটি নতুন কিছু নয়। ১৯৪৮ সালে স্বাধীন ফিলিস্তিনের ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি আর ইসরাইলের অবৈধ দখলদারিত্বের সমালোচনার বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। তবে ‘ক্ষমতায় গেলে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে’Ñএমনটি জানিয়ে ব্রিটেনের লেবার পার্টির দেওয়া ঘোষণাটি সম্প্রতি বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার ঝড় বইয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিশ্লেষক আর গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা লেবার পার্টির এ ঘোষণাকে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির প্রশ্নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের এ ভাবনার পেছনে বেশ কিছু শক্ত যুক্তিও রয়েছে। যে ব্রিটেন কর্তৃক ১৯১৬ সালে বেলফোর ঘোষণার ফলে ফিলিস্তিনি আরবরা ৭০ বছর ধরে গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার পাশাপাশি মাতৃভূমির স্বাধীনতা হারিয়েছে, সেই ব্রিটেনের প্রভাবশালী দল লেবার পার্টি কর্তৃক ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির আভাসকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। যে দেশের পররাষ্ট্র সচিব জেমস আর্থার বেলফোর ১০০ বছর আগে ১৯১৬ সালের ২ নভেম্বর ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতা রথ চাইল্ডকে চিঠি দিয়ে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সেই দেশের বিরোধী দলের নেতা জেরিমি করবিন ফিলিস্তিনকে শুধু স্বীকৃতির আভাস দিয়েই ক্ষান্ত হননি, ইসরাইলের দখদারিত্বকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ব্রিটেনের লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যুটি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে, তা স্পষ্টই বোঝা যায়, কারণ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকসহ বেসামরিক লোকদের ওপর ইসরাইলি বর্বরতার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন লেবার পার্টির নেতারা। লেবার পার্টির নেতা জেরিমির কণ্ঠে ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর ইসরাইলের পরিচালিত আগ্রাসন মানবাধিকার পরিপন্থি বলে সমালোচনা পশ্চিমা বিশ্বকে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিষয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ব্রিটেনের বিরোধী দলের সম্মেলনে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুর দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত বলে আখ্যা দেওয়ার ফলে ফিলিস্তিন স্বীকৃতির প্রশ্নে ইউরোপের অনেক রাষ্ট্র এক ধরনের অদৃশ্য চাপে পড়বে। গত বছরের ২ অক্টোবর থেরেসা মে’র সরকার যখন ইসরাইলের সঙ্গে যৌথভাবে বেলফোর ঘোষণার ১০০ বছর উদ্যাপন করেছিল, তখনও লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন কঠোর ভাষায় বেলফোরের শতবর্ষ পূর্তি পালনের সমালোচনা করেছিলেন। জেরেমি করবিন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
গত বছর থেরেসা মে কর্তৃক বেলফোরের শর্তবর্ষ পূর্তি উদ্যাপনের ঠিক আগ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরে প্রকাশিত কাতারে বসবাসরত ১১ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশুর মর্মস্পর্শী চিঠিটি ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল। ১১ বছরের শিশু হালা নাসরুল্লাহ বেলফোর ঘোষণার দিনকে ‘কালো দিবস’ আখ্যয়িত করে থেরেসা মে’র প্রতি বেলফোরের শতবর্ষপূর্তি পালন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। ১১ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশুটি বলেছিল, কাতারে পড়াশোনা শেষে তার (হালা নাসরুল্লাহল) বিদেশি বন্ধুরা নিজেদের দেশে ফিরে যাবে, কিন্তু বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে হালা নাসরুল্লাহর ফিলিস্তিনে ফেরাকে অনিশ্চিত করে দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। হালা নাসরুল্লাহ থেরেসা মে’কে বলেছিলেন, আপনার দেশ (ব্রিটেন) যে দেশ (ইসরাইল) প্রতিষ্ঠার জন্য বেলফোর ঘোষণা করেছে, সে দেশ (ইসরাইল) আমার ফিলিস্তিনের সবুজ শ্যামল গ্রামকে অস্ত্রাগার হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ রাষ্ট্রপ্রধান ও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে ইসরাইলি নৃশংসতা তুলে ধরে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘে মাহাথির তার ভাষণে বলেছেন, শেকড় চিহ্নিত করতে না পারলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হবে না। আর সন্ত্রাসবাদের শেকড় ১৯৪৮ সালে ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিন দখলের মাধ্যমে প্রোথিত হয়েছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ইসরাইলের বিমান ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করাকে ‘উগ্রবাদ’ আখ্যা দিয়েছেন মাহাথির। ফিলিস্তিনিদের রকেট হামলার মাধ্যমে ইসরাইলিরা হতাহত হয় না বলে দাবি করে ফিলিস্তিনিদের এ প্রতিরোধকে শান্তিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেন মালয়েশিয়ার এ রাষ্ট্রনায়ক। দীর্ঘসময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে রূপান্তরের নায়ক মাহাথির মোহাম্মদের বিশ্ব পরিমণ্ডলে অনন্য ও বিশেষ গ্রহণযোগ্যতার কারণে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির জন্য তার আহ্বানও বিশ্বনেতাদের মনে নতুন ভাবনার সঞ্চার করতে পারে।
সম্প্রতি ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস ইহুদিবাদী ইসরাইলের ‘আধিপত্যকামিতার’ শিকার বলে জাতিসংঘে দেওয়া নিজের ভাষণে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য মানে সারা দুনিয়া নয়’ বলে দাবি করে জাতিসংঘ কাঠামোর সংস্কার চেয়েছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান। তার মতে, ইসরাইল-ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং বিশ্বে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৪টি দেশকেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যভুক্ত করা জরুরি। রাজনৈতিক ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতা এবং কুর্দি দমনের জন্য এরদোয়ান সমালোচিত হলেও ফিলিস্তিনিদের কাছে এরদোয়ান ইতোমধ্যেই একটি বিশেষ জায়গা দখল করে নিয়েছেন। সম্প্রতি টার্কি- আমেরিকান স্টিয়ারিং কমিটির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এরদোয়ান যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে তাকে ব্যাপক উৎসাহে বরণ করে নেন। ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জোগানোর জন্য কৃতজ্ঞতাস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রে বসরাসরত ৭৮ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি এরদোয়ানের পায়ে সালাম করেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরে আবেগতাড়িত হয়ে কান্নায় ভেসে যান। সিরিয়ার শরণার্থীদের আম্রয়দান এবং রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমারের কড়া সমালোচনার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে প্রশংসিত এরদায়ানের এ আহ্বান ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির পথে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
চলতি বছরের জুনে আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দল ইসরাইলের সঙ্গে তাদের পূর্বনির্ধারিত ম্যাচ বাতিল করে দিয়েছে। ম্যাচ বাতিলের মাধ্যমে খেলোয়াড়রাও ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রতি এক ধরনের নিন্দা জানিয়েছেন। ইসরাইল প্রথম হাইফাতে ভেন্যু নির্ধারণ করলেও পরে তা বদলে ‘টেডি’ স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। পশ্চিম জেরুজালেমের এ জায়গা প্রথমে ফিলিস্তিনের অধীনে ছিল। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল ফিলিস্তিনি গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ করে তা দখল করে স্টেডিয়াম বানায়। তা করেও ক্ষান্ত হয়নি ইসরাইল। তারা এ স্টেডিয়ামকে ফিলিস্তিনি নিধনযজ্ঞের গুপ্ত হত্যাকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করে। তাই ‘এ স্থানে ম্যাচ খেলার অর্থ ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসনকে স্বীকৃতি দেয়া’Ñএমন দাবি করে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দিলে ম্যাচটি বাতিল করে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার এ সিদ্ধান্তকে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতি নিওনেল মেসিসহ ফুটবল তারকাদের চপেটাঘাত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বোদ্ধারা।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থাানান্তর করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছেÑএমন দাবি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ফিলিস্তিন। ভিয়েনা কনভেনশনের একটি ধারা উল্লেখ করে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৬১ সালের এ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ সেখানেই তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করতে পারবে, যেখানে নিমন্ত্রণকারী দেশের মালিকানা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। অথচ জেরুজালেমের মালিকানা নিয়ে রয়েছে চরম বিতর্ক। তাই জেরুজালেম থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দূতাবাস সরিয়ে নিতে আহ্বান জানায় ফিলিস্তিন। গত বছরের ডিসেম্বরে বিতর্কিত জেরুজালেম নগরীকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প, আর চলতি বছরের মে মাসে জেরুজালেমে নিজেদের দূতাবাস স্থাানাস্তর করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের এ মামলা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতিদানকারী বা জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপনের ইচ্ছা পোষণকারী দেশগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা।
সম্প্রতি ইসরাইলি দখলদারিত্বের কারণে নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া ৭০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীর জন্য তহবিল সংগ্রহকারী ইউনাইটেড নেশনস রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্ক এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজিসে (ইউএনআরডব্লিউএ) অর্থ বরাদ্দ সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ সীমিত করার ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন খোদ মার্কিনিরাই। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের এ প্রতিবাদ ফিলিস্তিনের জন্য একটি আশার বিষয়।
ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরোধিতার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির প্রশ্নে ব্রিটেনের বিরোধী দলসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের জোরালো বক্তব্য স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনিদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধিষ্ণু ইসরাইলপ্রীতি এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কথিত ইসরাইল ভ্রমণসহ ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি রাজপরিবারের ‘অন্তরঙ্গ’ ও ‘উষ্ণ’ সম্পর্ক ফিলিস্তিনের স্বীকৃতির পথে নতুন ‘কাঁটা’ হিসেবে দেখা দিতে পারে।

গণমাধ্যমকর্মী