আবারও দাপট বেড়েছে হাক্কানী পাল্পের

কারণ জানা নেই কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবারও বাড়ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হাক্কানী পাল্প অ্যান্ড পেপারের শেয়ারদর। মন্দাবাজারে দু’সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। দর বৃদ্ধির কোনো কারণ বলতে পারছে না কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ফলে ‘জেড’ ক্যাটেগরির এ শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে এমন শঙ্কা রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
এদিকে দীর্ঘদিন থেকে গুজব রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি খুব শিগগির একটি নতুন প্রজেক্ট চালু করবে। এ গুজব কাজে লাগিয়ে একটি শ্রেণি ফায়দা লুটছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের সচিব মোহাম্মদ মুসা শেয়ার বিজকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কেন বাড়ছেÑসেটা বলতে পারছি না। তবে আমাদের কাছে দর বৃদ্ধির কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই। বিষয়টি ইতোমধ্যে আমরা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আগামীতে নতুন টিস্যুর প্রজেক্ট চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বর্তমানে কোনো তথ্য নেই। কোনো খবর হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা নিশ্চয়ই জানানো হবে।
কোম্পানির লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, দু’সপ্তাহ আগে এ শেয়ারদর ছিল ৫৩ টাকা ৯০ পয়সা। গতকাল সে শেয়ার লেনদেন হয় ৫৯ টাকা ৯০ পয়সায়। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে ছয় টাকা বা প্রায় ১২ শতাংশ। দিনজুড়ে এ শেয়ারের দর ওঠানামা করে ৫৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৬০ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে।
এদিকে আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজার-সংশ্লিষ্ট কেউই। এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে এমন আশঙ্কা করছেন তারা। বিষয়টি নজর এড়ায়নি ডিএসই কর্তৃপক্ষেরও। সে কারণে তারা কিছুদিন পূর্বে প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়। যার জবাবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাছে শেয়ারদর বাড়তে পারে এমন কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই।
প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিদেনে দেখা যায়, ব্যবসা মন্দা থাকায় লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে এ প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা হয়েছিল ৮৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে লাভের বদলে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা লোকসান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৮১ লাখ টাকায়। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান হয়েছে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে।
২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫৫ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ৩৬ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাকি আট দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে। ২০১৬-এর ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের কাছে শেয়ারের পরিমাণ ছিল ৫৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। পরবর্তীকালে তারা এক দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেন।