আবারও হতাশ ১২ কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা

নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে বেশকিছু কোম্পানি ডিএসই’র নজরদারিতে রয়েছে। যে কোনো সময় তালিকাচ্যুতির শঙ্কা রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের। গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেওয়ায় গত আগস্টে কয়েকটি কোম্পানিকে শোকজও করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতেও টনক নড়েনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষের। এ বছরও ১২ কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের হতাশ করেছে। ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরের জন্য নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে এসব কোম্পানি।
লভ্যাংশ ঘোষণা না করা কোম্পানিগুলো হচ্ছে: বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, সাভার রিফ্রেক্টরিজ, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, ইমাম বাটন, দুলামিয়া কটন, সমতা লেদার কমপ্লেক্স, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিলবাংলা সুগার মিলস, শাইনপুকুর সিরামিকস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও জুট স্পিনার্স।
এদিকে এসব কোম্পানি থেকে রিটার্ন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেয়ারহোল্ডাররা। তাদের অভিমত, ডিএসই সতর্ক করার পর কোম্পানিগুলো এবার লভ্যাংশ দেবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। সে প্রত্যাশায় অনেকেই এসব কোম্পানির শেয়ার কিনেছিলেন।
এ প্রসঙ্গে শহিদুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, ডিএসই কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করার পর আমি ইমাম বাটনের শেয়ার কিনি। কারণ আমার ধারণা ছিল প্রতিষ্ঠানটি এবার লভ্যাংশ দিয়ে ‘বি’ অথবা ‘এ’ ক্যাটেগরিতে ফিরবে। কিন্তু তারা এ বছর শেয়ারহোল্ডারদের হতাশ করেছে, যা কারও কাম্য ছিল না।
বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের আচরণ অযৌক্তিক বলে মনে করেন মিডওয়ে সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান রকিবুর রহমান। তিনি বলেন, একটি দুর্বল কোম্পানি আগামীতে কী করবে এই ভেবে সেখানে বিনিয়োগের যুক্তি নেই। যদিও কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে তখন সেখানে বিনিয়োগ করা যায়।
উল্লেখ্য, পাঁচ বছর বা এর বেশি সময় ধরে লভ্যাংশ দেয় না এমন ১৫ কোম্পানিকে গত ৭ আগস্ট শোকজ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সেখানে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থাসহ লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণও উল্লেখ করতে বলা হয়। এ তালিকায় থাকা অন্য তিন কোম্পানি হচ্ছে: আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, কে অ্যান্ড কিউ ও ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক।
এর মধ্যে কে অ্যান্ড কিউ’র (বাংলাদেশ) পরিচালনা পর্ষদ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ব্যবসায় পাঁচ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আর ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের পরিচালনা পর্ষদ এক শতাংশ নগদ ও চার শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অন্য কোম্পানি আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের হিসাববছর শেষ হবে ডিসেম্বরে।
বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, ‘শোকজ করা ১৫ কোম্পানি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো রিটার্ন দিতে পারছে না। অন্যদিকে প্রায় সারা বছরই এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে কারসাজির খবর শোনা যায়। এ কারসাজিতে তাদেরই লোক জড়িত থাকে। সে কারণে এসব কোম্পানিতে সব সময়ই বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি থাকে। এ কারণে আমরা আগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাচ্যুত করেছি। এসব কোম্পানির আচরণ সন্দেহজনক হলে যে কোনো সময় আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’
দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এর আগে গত ১৮ জুলাই রহিমা ফুড ও মডার্ন ডায়িংকে তালিকাচ্যুত (ডিলিস্টিং) করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। নিকট-ভবিষ্যতে কোম্পানি দুটির উৎপাদন শুরুর কোনো সম্ভাবনা না থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।