আসবাব শিল্প

‘আবাসনশিল্পে এখন সুসময় বইছে’

সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় আবাসন খাতের বাজার পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা নিয়ে রিহ্যাব চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী কথা বলেছেন

চট্টগ্রামের আবাসন শিল্প সম্পর্কে কিছু বলুন

আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী: এখন গ্রাহক পর্যায়েও ব্যাংক ঋণের সুদহার কম, ফ্ল্যাটের দামও আগের চেয়ে তুলনামূলক কম। সব মিলে বাজার এখন ক্রেতার অনুকূলে। তিন বছরের পরিসংখ্যানেও এর প্রতিফলন হয়েছে। প্রতি বছর ফ্ল্যাট বিক্রি ও বুকিং লেনদেনের চিত্র  ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামের আবাসনশিল্পে মন্দাভাব আর নেই।

আবাসনশিল্পের সম্ভাবনা কেমন?

কৈয়ূম চৌধুরী: এক সময় উচ্চবিত্তরা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফ্ল্যাট কিনতেন। নগদ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কেনে মূলত প্রবাসীরা, তাদের সংখ্যাও ১৫ থেকে ২০ শতাংশের বেশি নয়। বিভিন্ন ব্যাংক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ফ্ল্যাট কেনার হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এ হিসাবে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে, বাকি ৬০ থেকে ৪৫ শতাংশ হলো সাধারণ ক্রেতা, যারা সারা জীবনের সঞ্চিত টাকার সঙ্গে ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনেন। বিশাল এ অংশটি এখন ফ্ল্যাট কিনতে পারছে না অতিরিক্ত করহার ও টাকার অভাবে। রিহ্যাবের দাবি, দুই শতাংশ গেইন ট্যাক্স, ১.৫ শতাংশ স্ট্যাম্প ফি, এক শতাংশ নিবন্ধন ফি, এক শতাংশ স্থানীয় সরকার কর ও ১.৫ শতাংশ ভ্যাট করা প্রয়োজন। এ শিল্পে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়া মধ্যবিত্তের লক্ষ্য করে আমাদের প্রস্তুতিও আছে। ফলে আগামীতে অনেক সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে।

 আবাসনশিল্প অর্থনীতিতে কেমন অবদান রাখছে?

কৈয়ূম চৌধুরী: গত কয়েক দশকে সহজে আবাসনের মালিকানা সৃষ্টি মানুষের মনে আত্মনির্ভরতা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান, রড, সিমেন্ট, টাইলসসহ ২৬৯ ধরনের লিংকেজ শিল্প প্রসারের মাধ্যমে সমগ্র নির্মাণ খাত জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নির্মাণ খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। বাংলাদেশের আবাসনশিল্প শুধু আবাসনই সরবরাহ করছে না, একই সঙ্গে ৩৫ লাখ শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল দুই কোটি লোকের অন্নের জোগানও দিয়েছে। আবাসন খাত নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করছে, যা প্রকারান্তরে দেশের উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে।

রিহ্যাব সদস্য নয় এমন কিছু প্রতিষ্ঠান ক্রেতার আস্থা সংকটের কারণ বিষয়ে আপনার অভিমত

কৈয়ূম চৌধুরী: ঠিক। সে সংকট থেকে উত্তরণই আমাদের অন্যতম কাজ। পাঁচ-ছয় বছর আগে ক্রেতারা তেমনভাবে অ্যাপার্টমেন্ট কেনেননি। এখন কিন্তু ক্রেতার অভাব নেই। তবে আস্থা সংকটের কারণে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। এজন্য আমাদের করণীয় হচ্ছে রিহ্যাবকে ব্র্যান্ডিং করা। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়েছি। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে ভবন নির্মাণ করছে। তাই আমরা চাচ্ছি, সব আবাসন ব্যবসায়ীকে অবশ্যই রিহ্যাবের মেম্বার হতে হবে।

 নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কিছু বলুন

কৈয়ূম চৌধুরী: বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ বাস করে। আগামী ১০ বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। বিপুল এ জনগোষ্ঠীর জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিতে সরকার আমাদের পিপিপির আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ দিলে সাধারণ ক্রেতা প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাট ২৫০০ টাকায় কেনার সুযোগ পাবেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ মূল্যায়নে রিহ্যাবের কোনো উদ্যোগ আছে কী?

কৈয়ূম চৌধুরী: অবশ্যই। গ্রাহকদের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। কেননা, গ্রাহকরাই আমাদের প্রাণ। ‘মিডিয়েশন অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস স্ট্যান্ডি কমিটি’ নামে আমাদের একটি সেল রয়েছে, সে সেলের মাধ্যমে আমরা অভিযোগগুলো মীমাংসার চেষ্টা করি।

সর্বশেষ..