বিশ্ব বাণিজ্য

আমদানি শুল্ক বাড়ায় ভারতে স্বর্ণের দামে রেকর্ড

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রত্যাশিতভাবে স্বর্ণ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে স্বর্ণের দামে প্রভাব পড়েছে। গত শুক্রবার অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। এতে স্বর্ণের চাহিদা কমেছে। ডিলাররা বাধ্য হয়ে মূল্যহ্রাস দিতে বাধ্য হয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যহ্রাস দিচ্ছে তারা। খবর: রয়টার্স।
ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ গত শুক্রবার বাজেট ঘোষণায় স্বর্ণসহ অন্য ধাতু আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক পাঁচ শতাংশ করেছেন। বাজাটে ঘোষণার পরই গত শুক্রবার প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ৩৫ হাজার ১০০ রুপিতে পৌঁছায়। আগের দিনের তুলনায় এটি দুই শতাংশ বেশি। গত ছয় সপ্তাহে স্থানীয় বাজারে ধাতুটির দাম বেড়েছে ১১ শতাংশের বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন এর ফলে খুচরা বিক্রির চাহিদায় প্রভাব পড়বে এবং চোরাচালান বেড়ে যেতে পারে। মুম্বাইভিত্তিক স্বর্ণ ব্যবসায়ী চেনাজি নরসিংজি বলেন, এ শুল্ক বৃদ্ধিতে সবাই অবাক হয়েছে। ৩০ শতাংশ মূল্যহ্রাস দেওয়ার পড়েও স্বর্ণের দাম অনেক বেশি। ক্রেতারা এখন স্বর্ণ কিনতে প্রস্তুত নয়।’
স্বর্ণ আমাদনি নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জানান, ‘ব্যবসায়ীরা আশা করেছিল স্বর্ণের দাম কমবে। তাই তারা বাজেটের আগে স্বর্ণ আমদানিও বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু এখন সবই বিভ্রান্ত। দাম বেড়ে যাওয়ায় আগে কেনা স্বর্ণে ছাড় দিলেও চাহিদা খুবই কম।
ভারতের পাশাপাশি এশিয়ার অন্য প্রধান বাজারগুলোতেও স্বর্ণের চাহিদা কমেছে। চলতি বছর এ অঞ্চলে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশেরও বেশি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চীনে স্বর্ণের প্রিমিয়াম কমে প্রতি আউন্স পৌঁছেছে ১১ ডলার থেকে ১২ ডলারে। গত সপ্তাহে এ প্রিমিয়াম ছিল ১২ থেকে ১৪ ডলার। এছাড়া সিঙ্গাপুরে প্রতি আউন্স স্বর্ণের প্রিমিয়াম আগের সপ্তাহের ৪০ থেকে ৬০ সেন্ট অপরিবর্তিত রয়েছে। হংকংয়েরও ৫০ সেন্ট থেকে এক ডলার ২০ সেন্টে অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিঙ্গাপুরের স্বর্ণের ডিলার গোল্ডসিলভার সেন্টালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিয়ান ল্যান বলেন, এ সপ্তাহে স্বর্ণের চাহিদা খুবই কম। দাম বৃদ্ধির কারণে ডিলাররা স্বর্ণ কিনছেন না। এদিকে জাপানের বাজারেও প্রতি আউন্স স্বর্ণে এক ডলার থেকে এক ডলার ২৫ সেন্ট পর্যন্ত মূল্যহ্রাস দিতে দেখা গেছে। যেখানে গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ এক ডলার ছাড় দিয়েছিল তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা খুবই সীমিত এবং অনেক ক্রেতা তাদের স্বর্ণ উল্টো বিক্রি করতে আসে আমাদের কাছে।

সর্বশেষ..