প্রথম পাতা

আমরাই বাংলার উত্তরাধিকারী

কাজী সালমা সুলতানা: ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা ২৩ তারিখ রাতে শহিদ মিনার তৈরির কাজ শুরু করেন। কাজ শেষ হয় ২৪ তারিখ ভোরে। তাতে একটি হাতে লেখা কাগজ গেঁথে দেওয়া হয়, যাতে লেখা ছিল ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। শহিদ মিনার নির্মাণের খবর দৈনিক সংবাদপত্রগুলোয় পাঠানো হয় ওইদিনই। ‘শহীদ বীরের স্মৃতিতে’ শিরোনামে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় ছাপা হয় শহিদ মিনারের খবর।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাসের ১২ নং শেডের পূর্ব প্রান্তে মিনারটি তৈরি হয়। উদ্দেশ্য ছিল, যাতে বাইরের রাস্তা থেকে সহজেই দেখা যায় এবং যে কোনো ছাউনি থেকে বেরিয়ে এসে ভেতরের লম্বা টানা যেন চোখে পড়ে। শহিদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উঁচু আর ছয় ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তত্ত্বাবধানে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), নকশা অঙ্কন করেছিলেন বদিউল আলম। তাদের সঙ্গে আরও ছিলেন সাঈদ হায়দার। শহিদ মিনার নির্মাণে সহযোগিতা করেন দুজন রাজমিস্ত্রী। মেডিক্যাল কলেজ সম্প্রসারণের জন্য জমিয়ে রাখা ইট, বালু ও পুরোনো ঢাকার পিয়ারু সর্দারের গুদাম থেকে সিমেন্ট আনা হয়। ভোর হওয়ার পর একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় মিনারটি।
এদিকে পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে জোরালো অপপ্রচার চালাতে থাকে। তারা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, কমিউনিস্ট ও পাকিস্তানবিরোধীদের প্ররোচনায় ছাত্ররা পুলিশকে আক্রমণ করেছে। তারা সারা দেশে বিভিন্নভাবে প্রচারপত্র বিলি অব্যাহত রাখে। সংবাদপত্রগুলোকে তাদের ইচ্ছানুসারে সংবাদ পরিবেশনে চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি ব্যাপকভাবে সাধারণ জনগণ ও ছাত্র গ্রেফতার অব্যাহত রাখে। ২৫ ফেব্রুয়ারি আবুল বরকতের ভাই হত্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা করলে উপযুক্ত কাগজের অভাব দেখিয়ে সরকার মামলাটি গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। ১৯৫২ সালের ৮ এপ্রিল সরকার বরকত হত্যার তদন্ত শুরু করে। কিন্তু প্রতিবেদনে মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রদের ওপর গুলি করার কোনো উল্লেখযোগ্য কারণ দেখাতে ব্যর্থ হয়। পাকিস্তান সরকারের বানানো প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ প্রত্যাখ্যান করে।
১৪ এপ্রিল গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হলে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্ন সামনে চলে আসে। এ সমস্যা নিরসনের পক্ষে অনেক সদস্য মতপ্রকাশ করলেও মুসলিম লীগ সদস্যরা এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করেন। এ বিষয়ের বিপক্ষে তারা ভোট প্রদান করেন। এর মাধ্যমে তারা ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর গণপরিষদে বাংলা ভাষার পক্ষে কথা বলার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে।

সর্বশেষ..



/* ]]> */