বিশ্ব বাণিজ্য

আমাজনের ‘ওয়্যারহাউজে’ যন্ত্রই করবে কর্মীর কাজ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: গ্রাহকের ক্রয়াদেশের চাপ সামলাতে ‘ওয়্যারহাউজ’ বা গুদামগুলোতে নতুন যন্ত্র বসাতে শুরু করেছে ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন। এর ফলে কয়েক হাজার কর্মীর চাকরি হুমকিতে পড়তে পারে। যদিও সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর: রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে তার ওয়্যারহাউজগুলোয় দুটি করে নতুন যন্ত্র বসাতে যাচ্ছে, যা কমপক্ষে ২৪ কর্মীর সমান কাজ করে দিতে পারবে। শুধু এ দুটি যন্ত্রের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করতে পারে আমাজন। প্রতি যন্ত্রের পেছনে তাদের খরচ ১০ লাখ ডলার করে। সেই অর্থ উঠিয়ে আনা যাবে দুবছরের মধ্যে।
যান্ত্রিকীকরণে এ পরিকল্পনাটি স্বীকার করেছে আমাজনও। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বলছেন, ‘নিরাপত্তা, দ্রুত পণ্য সরবরাহ আর নেটওয়ার্কের মধ্যে দক্ষতা বাড়াতে আমরা এ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করছি।’ তিনি বলেন, এ দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে যে সাশ্রয় হবে, তা গ্রাহকের জন্য নতুন সেবায় বিনিয়োগ করা হবে, সেখানে আগামীতে নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হবে।
‘কার্টন র‌্যাপ’ নামের এ যন্ত্রগুলো আমাজন কিনছে সিএমসি নামের ইতালীয় এক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। সেগুলো গ্রাহকের ঠিকানায় পাঠানোর জন্য প্রতি ঘণ্টায় ৬০০ থেকে ৭০০টি বাক্স প্রস্তুত করতে পারে। সেখানে মানুষ দিয়ে এ কাজ করালে চার থেকে পাঁচগুণ বেশি সময় লাগে। শুধু আমাজন নয়, সিএমসির এমন যন্ত্র ব্যবহার করছে আরও কিছু প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে আছে জেডি ডটকম, শাটারফ্লাই ইনকরপোরেশন, এমনকি ওয়ালমার্টও। গত সাড়ে তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু জায়গায় ওয়ালমার্ট এ যন্ত্র বসিয়েছে।
গ্রাহকের চাহিদামাফিক দ্রুত ও সুচারুভাবে পণ্য সরবরাহ করা আমাজন, ওয়ালমার্টের মতো খুচরা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এ কারণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। সিএমসির পাশাপাশি ‘সফট রোবোটিকস’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের যন্ত্র উদ্ভাবনে কাজ করছে। আমাজন তাদের কাছ থেকেও কিছু প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ..