বিশ্ব বাণিজ্য

আমাজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করছে ইইউ

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আমাজনের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্ত চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান অ্যান্টি ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীদের তথ্যের অপব্যবহারের বিষয়ে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইনে পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এ তদন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। খবর: এএফপি, বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইইউর চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে সর্বশেষ এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অপর শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল, ফেসবুক ও অ্যাপলের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেয় তারা। অ্যান্টি ট্রাস্ট কমিশনার মারগ্রেথে ভেস্টাগার বলেছেন, তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা নীতির প্রতি কঠোর দৃষ্টি রাখবেন।
ইউরোপিয়ান কমিশন বলেছে, তদন্তের মাধ্যমে আমাজনের বিক্রেতাদের বিষয়ে তাদের মান চুক্তির বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে। এছাড়া এ-সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়, সেগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। কমিশন জানিয়েছে, আমাজন এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে অ্যান্টি ট্রাস্ট কমিশনার বলেছেন, ‘আমরা আমাজনের বাণিজ্য কর্মকাণ্ড খুব কাছ থেকে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া মার্কেটপ্লেসে তাদের দ্বৈতনীতির বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। ইইউর খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার নিয়মের বিষয়টিও অনুসন্ধান করে দেখা হবে।’ কমিশন বলেছে, মার্কেটপ্লেসের বিক্রেতা, তাদের পণ্য ও লেনদেনের বিষয়ে স্পর্শকাতর তথ্য আমাজন ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভেস্টেগার এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই গভীর তদন্তের কোনো সময়সীমা থাকবে না। আগামী ৩১ অক্টোবর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আমাজনের বিরুদ্ধে তার এই তদন্ত প্রক্রিয়া সর্বশেষ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমাজনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ তদন্তের ব্যাপারে ইউরোপিয়ান কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা করবে আমাজন। একইসঙ্গে সব ধরনের ব্যবসায়ে সহযোগিতার বিষয়ে কাজ করা হবে এবং তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরুর পর যুক্তরাজ্যে ২০০২ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এটি বিক্রেতাদের নানা ধরনের পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দিয়ে থাকে।
গত সপ্তাহে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর ফ্রান্সের শুল্কারোপের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে এলে তা তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে নতুন করে শুল্কারোপ কিংবা বাণিজ্য কঠোরতা আরোপ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই তদন্ত শুরুর আদেশ দেন।

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */