আমান কটনের আইপিও অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে আমান কটন ফাইবার্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থ উত্তোলনে অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিং শেষ হওয়া আমান কটনের শেয়ারের কাট-অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়েছিল ৪০ টাকা। সেই দামের ১০ শতাংশ কমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ৩৬ টাকা দরে শেয়ার কিনতে পারবেন।

জানা গেছে, কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে কারখানায় আধুনিক মেশিনারি স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় করা হবে ৪৯ কোটি ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

কোম্পানির তথ্য কণিকা থেকে জানা যায়, আইপিওতে উত্তোলিত অর্থ থেকে ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয় হবে ঋণ পরিশোধে। ওয়ার্কিং মূলধন হিসাবে ব্যয় করা হবে ১০ কোটি টাকা। আর আইপিওতে ব্যয় হবে সাড়ে তিন কোটি টাকা। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা।

এদিকে ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের কোম্পানিটির স্থায়ী সম্পদের পুনর্মূল্যায়নসহ নিট সম্পদ মূল্য হয়েছে ৩৫ টাকা ৬৩ পয়সা। বিগত পাঁচ বছরের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি গড় আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ৪৯ পয়সা।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অংশ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির জন্য নিলামের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কোম্পানিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইলেকট্রনিক বিডিংয়ের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ করছে।

কাট-অফ প্রাইস তথা যে দামে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটার শেয়ার বিক্রি শেষে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে কোম্পানিটি ইলেকট্রনিক বিডিংয়ের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ করে।

নিয়ম অনুযায়ী কাট-অফ প্রাইস তথা যে দামে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটার শেয়ার বিক্রি শেষ হবে, সেই দামের ১০ শতাংশ কমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনতে পারবেন।

আমান কটন সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি কটন, পলিয়েস্টার, সিল্কসহ অন্য ফাইবার উৎপাদন করে। প্রতিষ্ঠানটির আইপিওতে আনতে ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আর ইস্যু রেজিস্টারের দায়িত্বে আছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।

এদিকে গতকালের সভায় বে-মেয়াদি এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের খসড়া প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মিউচুয়াল ফান্ডটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তার অংশ ১০ কোটি টাকা। আর  প্রি-আইপিও’র মাধ্যমে ৩৫ কোটি টাকা তোলা হয়েছে। বাকি ৫৫ কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যা আইপিও’র ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে উত্তোলন করা হবে। ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

এই ফান্ডটির উদ্যোক্তা এফবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড। ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক স্ট্যাটেজিক ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ট্রাস্টি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং কাস্টডিয়ান ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।