আসবাব শিল্প

আরএসআরএম

সাইফুল আলম:  শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭৩ সালে ইস্পাত ট্রেডিং ব্যবসা শুরু করেন মাকছুদুর রহমান। তার মেধা, শ্রম, চিন্তা আর প্রজ্ঞায় ক্রমে ব্যবসার পরিধি বড় হতে থাকে। সঙ্গে স্বপ্নও। এ লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে তিনি নির্মাণ করেন রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড।

প্রায় চার দশকের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় মাকছুদুর রহমান গড়ে তুলেছেন মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেড, এসএম স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, এম রহমান স্টিল মিলস লিমিটেড, রতনপুর শিফ রি-সাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, রতনপুর শিপিং লাইসন লিমিটেড, রতনপুর শিপিং সার্ভিস লিমিটেড,  রতনপুর রিয়্যাল এস্টেট লিমিটেড, রতনপুর জুট স্পিনার্স লিমিটেড ও জেআরএফ জুট স্পিনার্স লিমিটেড। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন দেশের অন্যতম সফল একটি শিল্পগ্রুপ আরএসআরএম গ্রুপ। গ্রুপটির বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় তার সঙ্গে রয়েছে মিসেস শামসুন নাহার রহমান, মিজানুর রহমান, মারজানুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভাই ইউনুস ভ‚ইয়া।

রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস (আরএসআরএম) পরিচালনা পর্ষদ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাববছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের পাঁচ শতাংশ নগদ ও ১৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি বছরশেষে নিট মুনাফা করে ৭০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরে ছিল মাত্র ২৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে আট টাকা ১৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরে তা ছিল তিন টাকা ১৪ পয়সা (বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর)। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন ক্ষমতার ৭৩ শতাংশ ব্যবহারের কারণে উৎপাদিত হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন এমএস ডিফরম্ড বার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উৎপাদন ক্ষমতার ৫৭.০৭ শতাংশ ব্যবহৃত হওয়ায় উৎপাদিত হয়েছিল এক লাখ ৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এমএস ডিফরম্ড বার। সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে রাইট শেয়ার ইস্যুরও অনুমোদন পাস করে আরএসআরএমের পর্ষদ। বিদ্যমান প্রতি তিনটি শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ সব রাইট শেয়ারের মূল্য দাঁড়াবে ২৫ টাকা।

২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ‘এ’ ক্যাটাগরির রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (আরএসআরএম স্টিল)। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা, পরিশোধিত মূলধন ৮৬ কোটি টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও ৩৭ দশমিক ৮২ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে। বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গত এক বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ৪০.৮০ টাকা  ও সর্বোচ্চ দর ৯৬.৩০ টাকা।

আরএসআরএম শুধু উৎপাদন ও বিক্রি বা ব্যবসায়িক উন্নতির ওপর মনোনিবেশ করে না, পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক অবকাঠামোর উন্নতির প্রতিও দৃষ্টি রাখে। নিরাপত্তা, শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি প্রভৃতি সামাজিক বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সঙ্গে যৌথভাবে গাছ লাগিয়ে ‘সবুজায়ন’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। সারা দেশে তিনশ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভ‚মিকম্প সম্পর্কে সর্তকীকরণ শিক্ষা দিয়েছে। যাত্রীছাউনি নির্মাণ, রাস্তানিদের্শক প্রভৃতি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ করে তারা। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে আসছে আরএসআরএম।

সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করায় প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছরে কিছু পুরস্কার অর্জন ও স্বীকৃতি লাভ করে। এর মধ্যে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক করপোরেট গভর্ন্যান্স কমপ্লায়েন্সের ওপর ভিত্তি করে ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের ব্রোঞ্জ পুরস্কার পেয়েছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের সর্বোচ্চ পুরস্কার লাভ ওই প্রতিষ্ঠান। ২০১২ সালে ডি অ্যান্ড বি করপোরেট পুরস্কার অর্জন করে।

আরএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকছুদুর রহমান বলেন, দশ বছর ধরে বাংলাদেশে নির্মাণ শিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১২.২ শতাংশ। আশা করি আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে আবাসনশিল্পে ধীরগতি রূপ নেয়, ফলে স্টিল উৎপাদনও মন্থর হয়ে পড়ে। তবে এই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমান সরকারের ২০২১ ভিশনের ওপর নির্ভর করে দেশীয় স্টিল প্রস্তুতকারকরা বিশ্বাস করেন, আগামীতে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এই শিল্পে চলমান থাকবে। যদিও সরকারিভাবে স্টিলের ব্যবহার বিশেষভাবে কমেছে, তা সত্তে¡ও সরকার বেশকিছু বড় আকারের প্রকল্প হাতে নিচ্ছে, যেমন বহুমুখী পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলপথ, ফ্লাইওভার, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ এবং কংক্রিট কাস্টিং সড়ক ও মহাসড়ক। এ ধরনের বড় আকারের প্রকল্পগুলো অদূর ভবিষ্যতে স্টিলের চাহিদা বৃদ্ধি করবে। ওই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে স্টিলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে নির্মাণকাজের প্রধান উপাত্ত হিসেবে।

যেকোনো দেশের উন্নয়নের জন্য ইস্পাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নীতিনির্ধারকদের অবকাঠামোগত উন্নয়নের নীতি এই শিল্পের উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। আরএসআরএম এই কাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য বদ্ধপরিকর।

মাকছুদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক

 

চট্টগ্রাম

সর্বশেষ..