প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

আরও আড়াই লাখ টন ধান কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাম পড়ে যাওয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে আরও আড়াই লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এবার বোরোর ফলন ‘অনেক উদ্বৃত্ত’ হয়ে গেছে। দেশের খাদ্য গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ১৯ লাখ ৬০ হাজার টন। আর এখন গুদামে আছে ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য। সোমবার প্রধানমন্ত্রী দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা আরও আড়াই লাখ টন ধান কৃষকের কাছ থেকে কিনব। এতেও বাজার না উঠলে (ধানের) পরিমাণ আরও বাড়াব, যেন কৃষক ন্যায্যমূল্য পান।
এ আড়াই লাখ টনের বাইরে প্রয়োজনে আরও এক বা দুই লাখ টন ধান কৃষকের কাছ থেকে কেনা হবে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
প্রসঙ্গত, এ বছর বোরো মৌসুমে সরকার ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং দেড় লাখ টন বোরো ধান এবং ৫০ হাজার টন গম কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক হয়, ২৫ এপ্রিল থেকে প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকায় কিনবে সরকার।
কিন্তু সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয় শুরু হতে দেরির কারণে ফড়িয়ারা সেই সুযোগ নেন। তারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করলে ধান নিয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ না ওঠায় অসন্তোষ থেকে পাকা ধানে কৃষকের আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের বাঁচাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মন্ত্রণালয়কে বেশি ধান কেনার ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক বাড়ানো হয়।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত কৃষকের কাছ থেকে ৩০ হাজার টন বোরো ধান কেনা হয়েছে। এক লাখ ২০ হাজার টন ধান কেনা এখনও বাকি আছে। আরও দেড় লাখ টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হওয়ায় এবার সব মিলিয়ে মোট চার লাখ টন বোরো ধান কৃষকের কাছ থেকে কিনবে সরকার।
তিনি বলেন, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে সেই ধান মিলারদের নিকট দেওয়া হবে চালে রূপান্তর করার জন্য। পাশাপাশি আমরা এ সমস্যা সমাধানের স্থায়ী পথ খুঁজছি। সারা দেশে ২০০টি জায়গায় ১০ লাখ টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন প্যাডি সাইলো নির্মাণ করা হবে। প্রতিটির ধারণক্ষমতা হবে পাঁচ হাজার টন।
কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। একসময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নানা কারণে দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিত। এখন বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। উত্তরবঙ্গে এখন আর মঙ্গা নেই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন কীভাবে ধানের দাম বাড়ানো যায়। তিনি আমাদের দুটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, আরও বেশি ধান কেনার ও দ্বিতীয়ত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে মিলারদের মাধ্যমে চাল করা।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার ক্ষেত্রে ময়শ্চারাইজ (আদ্রতা) প্রধান সমস্যা। এ সমস্যা দূর করার জন্য তিন হাজার পিস আদ্রতা পরিমাপ করার মিটার কেনার অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এ সব মিটার ইউনিয়ন পর্যায়ে বিতরণ করা হবে। যাতে করে কৃষকরা তাদের ধানের আদ্রতা নিজ গ্রামেই পরিমাপ করতে পারে।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..