আরও ২০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে মার্কিন শুল্ক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর পরবর্তী ধাপের শুল্ক ধার্য করার জন্য তার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব শুল্ক চীন থেকে আমদানি করা ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, হ্যান্ডব্যাগের মতো ভোগ্যপণ্যসহ আনুমানিক ২০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ধার্য করা হতে পারে। খবর বিবিসি।
নতুন আমদানি ২৫ শতাংশ অবধি হতে পারে। কবে নাগাদ কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তারা এখনও পণ্য তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ করছেন বলে বলা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি গ্রীষ্মে তার কর্মকর্তাদের শুল্কের ব্যাপারে কাজ শুরু করতে নির্দেশ দেন। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি দিয়ে অসম বাণিজ্য রীতির ব্যাপারে বিরোধ রয়েছে, যা ট্রাম্পের ঘোষণায় বৃদ্ধি পায়।
নতুন শুল্কগুলো ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত করের সঙ্গে যোগ হবে। মার্কিন করের জবাবে চীন সমপরিমাণ ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক বসানোয় ট্রাম্প আরও চীনা পণ্য শুল্কের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেন।
গত শুক্রবার প্রশাসনের একাধিক সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম খবর দেয়, ট্রাম্প আরও পণ্য শুল্কের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারিভাবে এখনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
চলতি বছর বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে শুল্ক বসিয়ে ‘বাণিজ্য যুদ্ধের’ সূচনা করে; যার মাধ্যমে দশকের পর দশক ধরে দেশ দুটির মধ্যে যে মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা বহাল ছিল তাতে ছেদ ঘটে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এ পাল্টাপাল্টি শুল্ক দু’দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতের অসংখ্য কোম্পানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও ভাষ্য পর্যবেক্ষকদের।
গত সপ্তাহে দেওয়া হুশিয়ারিতে ট্রাম্প আরও ২০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চীনা পণ্যে ‘শিগগিরই’ শুল্কারোপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন। এর বাইরে আরও ২৬৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যে স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই শুল্ক বসানো হবে বলে বলেছিলেন তিনি।
ট্রাম্প তার কথা রাখলে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা চীনের প্রায় সব পণ্যই কার্যত নতুন শুল্কের আওতায় পড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র শুল্কারোপ করলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আগেই সতর্ক করেছিল বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত আধিপত্য কেড়ে নিতে চায় চীন এমন অভিযোগ করে দেশটির ওপর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এছাড়া বুদ্ধিবৃত্তিক ও ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রযুক্তি চুরিরও অভিযোগ করা হচ্ছে। এর আওতায় চীনা রফতানি পণ্যে ধারাবাহিকভাবে শুল্কারোপ করে দেশটি।