আরও চীনা পণ্যে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২০ হাজার কোটি ডলারের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পণ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ কার্যকর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্কারোপের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, তারাও ট্রাম্পের এ শুল্কের পাল্টা জবাব দেবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও জোরালো হচ্ছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স।
মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তারা কয়েক হাজার চীনা পণ্যের তালিকা করে। এসব পণ্যে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে খাদ্যপণ্য, তামাক, কেমিক্যাল, কয়লা, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ির টায়ার, আসবাবপত্র, কাঠপণ্য, হাতব্যাগ ও স্যুটকেস রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইথেজার এসব পণ্যে শুল্কারোপের প্রস্তাব করে বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে চীনের অন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন বন্ধ করতে, বাজার উš§ুক্ত করতে এবং সঠিক উপায়ে বাজার প্রতিযোগিতায় আসতে সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু চীন আমাদের কোনো গুরুত্ব না দিয়ে প্রতিশোধমূলক আচরণ করছে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে চীন। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা এমন সিদ্ধান্তে মর্মাহত। এ বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) অভিযোগ করা হবে বলেও জানানো হয়। তবে প্রতিশোধ হিসেবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নিজেদের স্বার্থে চীনের পাল্টা আক্রমণে যেতে হবে।
গত ২২ মার্চ পাঁচ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের আমদানি করা চীনা পণ্যে শুল্কারোপের জন্য একটি আদেশে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মেধাসম্পদ চুরি ও স্থানান্তর করছে চীন। জবাবে এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ১২৮ পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় চীন। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। এ পরিস্থিতিতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর উপক্রম হয়। গত মে মাসে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ১৫ জুন পাঁচ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তার ঘোষণা অনুযায়ী বার্ষিক তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার বাণিজ্য হয়Ñএমন ৮০০ পণ্যের ওপর ৬ জুলাই থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। আর বাকি এক হাজার ৬০০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কবে থেকে কার্যকর হবেÑসে ব্যাপারে আলোচনা চলছে। জবাবে মার্কিন কৃষিজাত পণ্য ও গাড়িসহ তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্য থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক সংগ্রহ করে চীন।
ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদ নীতির আওতায় গত মার্চে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর যথাক্রমে ২৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুল্কারোপের সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয় ১ জুন। এতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্য ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বাণিজ্যের ওপর প্রভাব পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্কারোপ করেছে ইইউ। ২৮০ কোটি ইউরো মূল্যের মার্কিন পণ্যে আমদানি শুল্কারোপের সিদ্ধান্তটি ২২ জুন থেকে কার্যকর হয়। পাল্টা হিসেবে এক হাজার ২০০ ডলারের মার্কিন পণ্যে শুল্কারোপ করেছে কানাডাও।