আরটিজিএসের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সারান

আন্তব্যাংক লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিয়েছে বেশ কয়েক দিন ধরে। খবরে প্রকাশ, এ কারণে মাধ্যমটি ব্যবহার করে আন্তব্যাংক লেনদেন নেমে এসেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে। এতে গ্রাহক শুধু ভোগান্তিতেই পড়েননি, ব্যাংকগুলোকেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে নানামুখী সমস্যা। ক্ষেত্রবিশেষে নগদ অর্থ বা তারল্য ব্যবস্থাপনায়ও বেগ পেতে হচ্ছে শাখাগুলোকে। আন্তব্যাংক লেনদেন দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিঘœ ঘটায় এর প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়ছে, সন্দেহ নেই। এটা দীর্ঘ সময় অব্যাহত থাকলে বিশেষত যেসব বড় ব্যবসায়ী অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ার পর খুচরা ব্যবসায়ীদের পণ্য সরবরাহ করতে অভ্যস্ত, তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে গ্রাহক ও ব্যাংক ভোগান্তি বাড়বে উভয় পক্ষের। এ জন্য আরটিজিএস সিস্টেমের কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে তোলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অবশ্য ব্যাংকগুলোকে আন্তব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তিতে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মনে রাখা ভালো, আরটিজিএস ব্যতীত আন্তব্যাংক লেনদেনে যেসব বিকল্প রয়েছে, সেগুলোর নিষ্পত্তিতে সময় লাগে অন্তত এক দিন। আধুনিকতম পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পরিশোধে অভ্যস্ত মানুষের কাছে এটাকেও এখন ‘দীর্ঘ’ সময় বলে মনে হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এ পদ্ধতি ব্যবহার করে যারা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন, তাদের পক্ষে কি সম্ভব সাময়িক সময়ের জন্য পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া? মনে রাখা চাই, আন্তব্যাংক লেনদেনে চেক ব্যবহারের ক্ষেত্রে জালিয়াতির শঙ্কা থাকে। এ কারণেও বিশেষত বড় লেনদেনের বেলায় বাংলাদেশ অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউজের (ব্যাচ) মতো আধুনিক ব্যবস্থার প্রতি নিরুৎসাহী হয়ে পড়েছেন অনেকে। এও মনে রাখা দরকার, পরিস্থিতির কারণে আন্তব্যাংক লেনদেনে বিকল্প পদ্ধতির ওপর দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্ভর করা হলে দুষ্কৃতকারীরা এর সুযোগ নেবে।

বড় অংকের আন্তব্যাংক লেনদেনে আরটিজিএস সিস্টেম বাংলাদেশে চালু হয়েছে দুবছরেরও কিছু বেশি আগে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর মধ্যস্থতাকারী। এত দীর্ঘ সময়ব্যাপী এ সিস্টেমে এমন সমস্যা চলার কথা আগে শোনা যায়নি। এবারের কারিগরি ত্রুটি ঠিক কী কারণে ও তার সমাধানে কত সময় লাগবে, আমরা জানি না। কথা হলো, আন্তব্যাংক বড় অঙ্কের লেনদেনে বেশ কিছু সুবিধা থাকায় স্বভাবতই এ সিস্টেমের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে, সিস্টেমে কখনও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে লেনদেন যাতে বন্ধ রাখতে না হয়, সেজন্য উপযুক্ত বিকল্প হাজির রাখা। ঠিক কতদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দেওয়া হলে গ্রাহক ও ব্যাংক উভয় পক্ষের দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কমবে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য কাম্য। এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেজন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলব আমরা।